/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/20/cracked-heels-remedy-2025-11-20-15-15-51.jpg)
Cracked Heels Remedy: ফাটা গোড়ালির সমস্যা শীতকালে বাড়ে। (প্রতীকী ছবি)
Cracked Heels Remedy: শীতকাল এলেই বহু মানুষের একটি সাধারণ সমস্যা হল পায়ের গোড়ালি ফেটে যাওয়া। শীতের শুষ্ক আবহাওয়া, পায়ের ত্বকে আর্দ্রতার ঘাটতি, ধুলোবালি, ঘর্ষণ—সব মিলিয়ে গোড়ালি রুক্ষ হয়ে ফেটে যেতে শুরু করে। অনেকেই দিনের কাজকর্মের ব্যস্ততায় নিজের পায়ের যত্ন নিতে পারেন না। ফলে ফাটা গোড়ালি আরও বেশি শুষ্ক, রুক্ষ এবং ব্যথাযুক্ত হয়ে ওঠে।
সহজ রুটিনে সমাধান
কোনও কোনও সময় পায়ের গোড়ালি এতটাই ফেটে যায় যে মোজা বা কম্বলেও আটকে যায়। এমন অবস্থায় বাজারের দামি ক্রিম বহু সময় সাময়িক স্বস্তি দিলেও স্থায়ী সমাধান দিতে পারে না। তাই রাতে ঘুমানোর আগে অল্প কিছু সময় নিজের জন্য বের করে একটি সহজ রুটিন অনুসরণ করলে খুব দ্রুত ফাটা গোড়ালি নরম ও মসৃণ হয়ে উঠবে।
আরও পড়ুন- এই ৫ বিরল প্রাণী, দেখা মেলে শুধু শীতেই!
শীতকালে পায়ের আর্দ্রতা দ্রুত কমে যায়। সারাদিন জুতো-মোজা পরে থাকা, ময়লা জমা হওয়া, ঘাম শুকিয়ে যাওয়া—এসব কারণে পায়ের ত্বকের স্বাভাবিক তেল কমে যেতে থাকে। ফলে গোড়ালি শক্ত হয়ে কেটে যায়। ত্বকের নীচের স্তর রুক্ষ হলে ব্যথা, জ্বালা এমনকী হাঁটতেও অস্বস্তি হতে পারে। তাই ফাটা গোড়ালিকে সময়মতো নিরাময় করা জরুরি। আর এক্ষেত্রে ঘরোয়া পদ্ধতিই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর। কারণ এতে রাসায়নিক নেই, ত্বককে গভীরভাবে পুষ্টি দেয় এবং প্রতিদিন ব্যবহার করা সহজ।
আরও পড়ুন- মূলা খেলে গ্যাস হয়? কীভাবে খেলে হবে না, জেনে নিন আচার্য বালকৃষ্ণর থেকে
ঘরে বসে ফাটা পায়ের গোড়ালি সারানোর প্রথম ধাপ হল পা পরিষ্কার করা। রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে একটি টব বা বালতিতে হালকা গরম জল নিন। গরম জল ত্বককে নরম করে দেয়, মৃত কোষ আলগা করতে সাহায্য করে। এবার জলে কয়েক ফোঁটা শ্যাম্পু বা বেবি শ্যাম্পু মেশান। চাইলে একচামচ লবণ দিতে পারেন, কারণ লবণ প্রাকৃতিক ক্লিনজার বা পরিষ্কারক হিসেবে কাজ করে। এতে পা ৫ থেকে ১০ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে গোড়ালির শক্ত ত্বক নরম হয়ে আসবে এবং স্ক্রাব করা বা পা ঘষে পরিষ্কার করা সহজ হবে।
আরও পড়ুন- ডাকহরকরা থেকে তিন কন্যা, প্রতিটি চরিত্রে অনন্য, তবুও কেন আত্মহত্যার কথা ভেবেছিলেন কালী ব্যানার্জি?
এরপর ব্যবহার করুন হ্যান্ড স্ক্রাবার, পিউমিক স্টোন বা যে কোনও নরম পায়ের স্ক্রাব। ধীরে ধীরে গোড়ালির রুক্ষ অংশ ঘষে পরিষ্কার করুন। এতে মৃত ত্বক উঠে যাবে এবং নতুন ত্বক প্রকাশ পাবে। স্ক্রাব করার সময় খুব বেশি জোরে ঘষবেন না, এতে ত্বক আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এরপরে পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে পা মুছে নিন। এখন আপনার পা আর্দ্রতা জন্য তৈরি।
আরও পড়ুন- শীতকালে শরীর গরম রাখবে এই দেশি খাবার, একবার বানালেই চলবে গোটা মাস!
এরপর একটি পুষ্টিকর ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা জরুরি। ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে নারকেল তেলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা গ্লিসারিন মিশিয়ে নিতে পারেন। নারকেল তেল ত্বককে গভীরভাবে নরম করে, আর গ্লিসারিন ত্বকের আর্দ্রতা দীর্ঘক্ষণ বজায় রাখে। চাইলে অ্যাভোকাডো অয়েল, অ্যালোভেরা জেল বা যে কোনো হারবাল ফুট ক্রিমও লাগাতে পারেন। তেল বা ক্রিম পায়ের গোড়ালি, পায়ের পাতার চারপাশ ও আঙুলের ফাঁকে ভালোভাবে লাগিয়ে ৫ মিনিট ম্যাসাজ করুন। এতে রক্তসঞ্চালন বাড়বে এবং ত্বক দ্রুত পুনর্গঠিত হবে।
সবশেষে সুতির মোজা পরে নিন। সুতির মোজা আর্দ্রতা ধরে রাখে, তেল বা ক্রিমকে ত্বকের ভেতর শোষিত হতে সাহায্য করে এবং গোড়ালিকে বাইরের ধুলোবালি থেকে রক্ষা করে। নিয়মিত এক সপ্তাহ এই পদ্ধতি অনুসরণ করলে গোড়ালির ফাটাভাব অনেকটাই কমে যাবে। ত্বক হবে নরম, মসৃণ এবং ফ্রেশ।
শুধু প্রতিকার নয়, প্রতিদিনের অভ্যাসেও পরিবর্তন আনলে গোড়ালি ফাটার সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। যেমন—খুব গরম জল দিয়ে স্নান না করা, সপ্তাহে অন্তত দু'বার পা ঘষে পরিষ্কার করা, সারাদিন জুতো পরলে বাড়ি ফিরে পা ধুয়ে নেওয়া, অতিরিক্ত শক্ত বা পাতলা সোলের জুতো ব্যবহার না করা এবং শরীরে পর্যাপ্ত জল পান করা। এসব মানা জরুরি। কারণ, ত্বক ভেতর থেকে আর্দ্র থাকলে পা ফাটার সম্ভাবনা কমবে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us