/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/04/women-in-40-2025-12-04-15-27-40.jpg)
Women in 40: আর নেই ভয়, ৪০-এর পরও সুস্থ থাকার রহস্য জেনে নিন।
Women Supplements: চালশে! বয়স ৪০-এর ঘরে পা দেওয়ার পর থেকে শরীরে হরমোনের ওঠানামা, ক্লান্তি, শক্তি, মনোযোগ সব কমে যায়। ঘটে মাংসপেশির ঘাটতি। এসব সমস্যা সব মহিলাকেই কম-বেশি মোকাবিলা করতে হয়। এই বয়সে শরীরের ইস্ট্রোজেন কমতে শুরু করলে মস্তিষ্কের এনার্জি সাপ্লাইও প্রভাবিত হয়। ফলে অনেকেই ভুলে যান। মনোযোগ ধরে রাখতে পারেন না। অতিরিক্ত অবসাদ অনুভব করেন।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিকভাবে ক্রিয়েটিন নামের এক সাপ্লিমেন্ট দেওয়া হলে ৪০ ঊর্ধ্ব মহিলারা সহজে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। এটা বাংলা বা ভারতের ব্যাপার না। গোটা বিশ্ব এখন ব্যাপারটা বুঝেছে। ক্রিয়েটিন নামের এই সাপ্লিমেন্টের দুর্দান্ত প্রভাব দেখতে পাওয়ায় মহিলাদের মধ্যে এব্যাপারে আগ্রহ বাড়ছে।
আরও পড়ুন- রোগা হতে চান? ফলো করুন অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারির এই রুটিন, দিনে মাত্র ৩ বার
পুষ্টিবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে ক্রিয়েটিনকে শুধুমাত্র বডিবিল্ডার বা পুরুষ অ্যাথলিটদের সাপ্লিমেন্ট হিসেবে দেখা হলেও বাস্তবে এটি শুধু পেশি নয়, ব্রেনের এনার্জি সিস্টেমেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তার প্রমাণ মিলছে নতুন বৈজ্ঞানিক গবেষণায়। শারীরিক শক্তি ধরে রাখা এবং মানসিক সতর্কতা বজায় রাখতে ক্রিয়েটিন ৪০-এর বেশি বয়সে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে। এমনটাই বলছেন অনেক বিশেষজ্ঞই।
আরও পড়ুন- এই ছ’টি খাবার আমাদের হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকারক
ক্রিয়েটিন মূলত কোষে এনার্জি তৈরি করতে সাহায্য করে। বিশেষ করে মাংসপেশিতে এটি দ্রুত শক্তি উৎপাদন বাড়ায়। ফলে ব্যায়াম, দৈনন্দিন কাজকর্ম, এমনকী সাধারণ হাঁটাচলাতেও ক্লান্তি কম লাগে। ৪০-এর পর থেকে যে বয়সজনিত পেশীক্ষয় (muscle loss) শুরু হয়, তা প্রতিবছরই আরও দ্রুত বাড়তে থাকে। নিয়মিত স্ট্রেংথ ট্রেনিংয়ের সঙ্গে ক্রিয়েটিন জুড়লে সেটা আটকানো যায়। এতে শরীর অনেক সুঠাম হয়। ৮ সপ্তাহের মধ্যেই মহিলারা পরিবর্তনটা ভালোভাবে বুঝতে পারেন। জয়েন্টে জোর পান। বুঝতে পারেন যে পেশির ক্ষমতা বাড়ছে।
আরও পড়ুন- কীভাবে সহজে আপনার শরীর পেতে পারে ভিটামিন বি১২, জানুন চিকিৎসকদের মত
তবে শুধু পেশিই নয়। মস্তিষ্কেও ক্রিয়েটিন সমানভাবে কাজ করে। হরমোন পরিবর্তনের সময়ে অনেক মহিলাই মানসিক সমস্যায় (brain fog) ভোগেন। ক্রিয়েটিন মস্তিষ্কে এনার্জির অভাব পূরণ করে স্বচ্ছ চিন্তা, মনোযোগ এবং স্মৃতিশক্তিকে আরও সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। এর ফলে দুপুর-বিকেলের ক্লান্তি, কাজের অমনোযোগ—এসব ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে। যদিও পরিবর্তনগুলো ছোট ছোট ধাপে আসে, তবুও তা বাস্তবে দৈনন্দিন জীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
আরও পড়ুন- রং ছাড়াই ৫ মিনিটে সহজে চুল করুন কালো, ব্যবহার করুন রান্নাঘরের এই উপাদান
ক্রিয়েটিন ব্যবহারের প্রথম কয়েক সপ্তাহে সামান্য জল জমে থাকার অনুভূতি অনেকেরই হয়। এটি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক, কারণ ক্রিয়েটিন মাংসপেশির কোষে জল টেনে নেয়—যা পেশি শক্তিশালী হওয়ার অংশ। এটি মোটেও ফ্যাট বৃদ্ধি নয়। পর্যাপ্ত জল পান করলে এই অস্বস্তি কমে আসে। মহিলাদের জন্য সাধারণত প্রতিদিন ৩–৫ গ্রাম ক্রিয়েটিন মনোহাইড্রেটই যথেষ্ট। আলাদা করে 'লোডিং ফেজ' করার কোনও প্রয়োজন হয় না। ব্যায়ামের পরে ক্রিয়েটিন নিলে তা শরীর বেশি শোষণ করতে পারে। আর ব্যায়াম না করলে খাবারের সঙ্গে ক্রিয়েটিন নেওয়া যেতে পারে।
তবে সকলের জন্য ক্রিয়েটিন উপযুক্ত নয়। যাঁদের কিডনির সমস্যা, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ, অতিরিক্ত ডিহাইড্রেশন বা সাম্প্রতিক হৃদরোগের ইতিহাস রয়েছে—তাঁদের অবশ্যই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ক্রিয়েটিন নেওয়া উচিত নয়। গর্ভবতী বা স্তন্যদানকারী মহিলাদেরও চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়া ক্রিয়েটিন খাওয়া উচিত নয়।
কোনও জাদুকাঠি নয়
তবে এটিকে কখনও জাদুর মত সব বদলে দেওয়া সাপ্লিমেন্ট ভাবা উচিত নয়। মনে রাখতেহবে যে আমাদের সুস্বাস্থ্যের মূল ভিত্তি হল- সঠিক খাদ্য, পর্যাপ্ত প্রোটিন, নিয়মিত ঘুম, জলপান এবং সচল জীবনযাপন। এই ভিত্তির ওপরেই ক্রিয়েটিন কাজ করে। পেশি, মেটাবলিজম, মুড এবং এনার্জি সাপোর্ট দেয়। তাই ৪০-এর ওপরে যাঁরা নিজেদের শক্তি, মানসিক সতর্কতা ও মাংসপেশির স্বাস্থ্য ধরে রাখতে চান—তাঁদের জন্য ক্রিয়েটিন হতে পারে সহজ, সস্তা এবং বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত সাপ্লিমেন্ট। সবশেষে মনে রাখতে হবে, যে কোনও সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে ব্যক্তিগত অবস্থার ভিত্তিতে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াটাই আমাদের কাছে সবচেয়ে জরুরি।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us