CT Scan Risk: সিটি স্ক্যান কি ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ায়? গবেষণায় উঠে এল ভয়ংকর তথ্য

CT Scan Risk: সিটি স্ক্যান কতটা নিরাপদ, বারবার সিটি স্ক্যান করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে কি না, শিশু ও গর্ভবতীদের জন্য সিটি স্ক্যান কতটা বিপজ্জনক—এই ব্যাপারে জানুন বিস্তারিত।

CT Scan Risk: সিটি স্ক্যান কতটা নিরাপদ, বারবার সিটি স্ক্যান করলে ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে কি না, শিশু ও গর্ভবতীদের জন্য সিটি স্ক্যান কতটা বিপজ্জনক—এই ব্যাপারে জানুন বিস্তারিত।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
CT Scan Risk: সিটি স্ক্যানের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

CT Scan Risk: সিটি স্ক্যানের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।

CT Scan Risk: সিটি স্ক্যান আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার। শরীরের ভেতরের অঙ্গ, হাড়, পেশি এবং রক্তনালীর স্পষ্ট ছবি পাওয়ার জন্য এই পরীক্ষার ওপর আজ চিকিৎসকরা অনেকটাই নির্ভরশীল। দুর্ঘটনা, স্ট্রোক, টিউমার শনাক্তকরণ কিংবা জরুরি অস্ত্রোপচারের আগে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সিটি স্ক্যান বহু প্রাণ বাঁচিয়েছে। তবুও সাম্প্রতিক চিকিৎসা গবেষণা বলছে, প্রয়োজন ছাড়া বা বারবার সিটি স্ক্যান করানো হলে ভবিষ্যতে ক্যান্সারের ঝুঁকি উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

Advertisment

সিটি স্ক্যান পরীক্ষায় যে রেডিয়েশন ব্যবহার করা হয়, তা সাধারণ এক্স-রে-এর তুলনায় অনেক বেশি শক্তিশালী। এই বিকিরণ শরীরের কোষের ভেতরের ডিএনএ-কে প্রভাবিত করতে পারে। ডিএনএ ক্ষতিগ্রস্ত হলে কোষের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ নষ্ট হয়ে যায় এবং দীর্ঘ সময় পরে সেই কোষ থেকেই ক্যান্সারের সূত্রপাত হতে পারে। যদিও মানবদেহে প্রাকৃতিকভাবে ডিএনএ মেরামতের ক্ষমতা রয়েছে, কিন্তু বারবার রেডিয়েশনের সংস্পর্শে এলে সেই ক্ষমতা ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন- ভোর ৪টেয় যোগা নয়, এই একটি অভ্যাসই নাকি স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে উপকারী

চিকিৎসা গবেষণায় দেখা গেছে, একাধিক সিটি স্ক্যান করানো ব্যক্তিদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার, রক্তের ক্যান্সার, মস্তিষ্কের টিউমার, থাইরয়েড ক্যান্সার এবং মহিলাদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকি আরও বেশি, কারণ তাদের শরীর এখনও সম্পূর্ণভাবে গঠিত হয়নি এবং কোষ বিভাজনের হার বেশি থাকে।

আরও পড়ুন- খাবারের পর এলাচ চিবোলে শরীরে ঠিক কী ঘটে? জানলে অবাক হবেন

বিশেষজ্ঞদের মতে, গড়ে একটি সিটি স্ক্যান শরীরকে এমন পরিমাণ বিকিরণের মুখে ফেলে, যা আমরা প্রাকৃতিক পরিবেশ থেকে প্রায় তিন থেকে পাঁচ বছরে পাই। অর্থাৎ, একটি মাত্র স্ক্যানই শরীরের জন্য ছোটখাটো বিষয় নয়। সমস্যা তখনই তৈরি হয়, যখন কোনও জোরালো চিকিৎসাগত কারণ ছাড়াই ঘন ঘন এই পরীক্ষা করানো হয়।

আরও পড়ুন- সংগীত জগতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নিয়ে অজানা তথ্য, জানলে অবাক হবেন!

গর্ভবতী মহিলাদের ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান আরও বেশি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হয়। গর্ভের শিশুর কোষ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় রেডিয়েশনের প্রভাব দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। তাই চিকিৎসকেরা এই সময় আল্ট্রাসাউন্ড বা এমআরআইয়ের মতো বিকল্প পরীক্ষাকে অগ্রাধিকার দেন।

আরও পড়ুন- মাখানা খেয়ে হাড়কে লোহার মত শক্ত করতে চান? জানুন খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি

তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মনে রাখা দরকার। সিটি স্ক্যান নিজে কোনও রোগ সৃষ্টি করে না, বরং ঝুঁকি বাড়াতে পারে মাত্র। বেঙ্গালুরুর মণিপাল হাসপাতালের সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. মাধবী নায়ারের মতে, গুরুতর পরিস্থিতিতে সিটি স্ক্যানের উপকারিতা এতটাই বেশি যে এর খারাপ দিকগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না। দুর্ঘটনা, অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণ বা ক্যান্সার দ্রুত শনাক্ত করার ক্ষেত্রে সিটি স্ক্যান জীবন রক্ষাকারী হয়ে ওঠে। সমস্যার শুরু হয় তখনই, যখন রোগী বা চিকিৎসক দু’পক্ষই প্রয়োজনীয়তা যাচাই না করে স্ক্যানের ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেন।

এই কারণেই আন্তর্জাতিক স্তরে 'আলারা' নীতি অনুসরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়। এর অর্থ হল, যত কম বিকিরণ ব্যবহার করে যুক্তিসঙ্গতভাবে পরীক্ষা করা যায়, ততটাই করা উচিত। আধুনিক যন্ত্রপাতিতে এখন আগের তুলনায় অনেক কম রেডিয়েশন ব্যবহার করেই পরিষ্কার ছবি পাওয়া সম্ভব হচ্ছে, যা নিঃসন্দেহে আশার কথা।

সব মিলিয়ে বলা যায়, সিটি স্ক্যান আধুনিক চিকিৎসার অপরিহার্য অংশ হলেও এটি কোনও সাধারণ পরীক্ষা নয়। প্রয়োজন বুঝে, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে এবং বিকল্প উপায় বিবেচনা করেই এই পরীক্ষা করানো সবচেয়ে নিরাপদ পথ। সচেতনতা থাকলে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। 

সতর্কীকরণ: 

এই লেখা শুধুমাত্র সাধারণ তথ্যের উদ্দেশ্যে। কোনও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

risk CT Scan