Dengue vs Viral Fever: আপনার ডেঙ্গু হয়েছে নাকি ভাইরাল ফিভার, বুঝবেন কীভাবে? এই একটা টেস্টেই মিলবে সমাধান!

Dengue vs Viral Fever: ডেঙ্গু এবং ভাইরাল ফিভার—দু’টির লক্ষণ প্রায় এক হলেও দুটির ক্ষতির প্রভাবে তারতম্য আছে। এর মধ্যে কোন টেস্ট জরুরি এবং কখন সতর্ক হবেন—জানুন চিকিৎসকের থেকে।

Dengue vs Viral Fever: ডেঙ্গু এবং ভাইরাল ফিভার—দু’টির লক্ষণ প্রায় এক হলেও দুটির ক্ষতির প্রভাবে তারতম্য আছে। এর মধ্যে কোন টেস্ট জরুরি এবং কখন সতর্ক হবেন—জানুন চিকিৎসকের থেকে।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Dengue vs Viral Fever: ডেঙ্গু না ভাইরাল জ্বর, আপনার কী হয়েছে? কী ভাবে বুঝবেন, জেনে নিন।

Dengue vs Viral Fever: ডেঙ্গু না ভাইরাল জ্বর, আপনার কী হয়েছে? কী ভাবে বুঝবেন, জেনে নিন।

Dengue vs Viral Fever: জ্বর হওয়া আমাদের দেশে খুব সাধারণ একটি বিষয়। আবহাওয়া পরিবর্তন, বর্ষা কিংবা ভাইরাস সংক্রমণের কারণে বহু মানুষই জ্বরে আক্রান্ত হন। কিন্তু সব জ্বর কি একই রকম? বিশেষজ্ঞদের মতে, ভাইরাল ফিভার আর ডেঙ্গির মধ্যে পার্থক্য বুঝতে না পারলে পরিস্থিতি মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে। ডেঙ্গু আর ভাইরাল ফিভারের (Dengue vs Viral Fever) তুলনা এখানেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, ডেঙ্গুকে অবহেলা করলে রোগী মৃত্যুর কাছাকাছি চলে যেতে পারে।

Advertisment

ভাইরাল ফিভার

ভাইরাল ফিভার সাধারণত শরীরে ভাইরাস সংক্রমণের ফল। এতে হালকা থেকে মাঝারি জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথা ধরা বা ক্লান্তি দেখা দিতে পারে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই এই জ্বর কয়েক দিনের মধ্যেই নিজে সেরে যায়। পর্যাপ্ত বিশ্রাম, জল পান আর প্রয়োজনীয় ওষুধেই রোগী সুস্থ হয়ে ওঠেন। এই ধরনের জ্বরে সাধারণত বিশেষ কোনও পরীক্ষা করার প্রয়োজন হয় না বলেই চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন- প্রতিদিন পান করুন এই ফলের রস, এত উপকার ভাবতেই পারবেন না!

ডেঙ্গি

ডেঙ্গি সম্পূর্ণ আলাদা একটি সংক্রমণ। এটি ডেঙ্গু ভাইরাসের কারণে হয় এবং এডিস প্রজাতির মশার মাধ্যমে ছড়ায়। শুরুতে ডেঙ্গির লক্ষণ ভাইরাল ফিভারের মতই মনে হতে পারে। জ্বর, মাথা ব্যথা, শরীর ব্যথা—লক্ষণ সবই প্রায় একইরকম থাকে। এখানেই বিপদ। অনেকেই এটিকে সাধারণ ভাইরাল জ্বর ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে ডেঙ্গু শরীরের ভেতরে ভয়ংকর পরিবর্তন ঘটাতে পারে।

আরও পড়ুন- কেরিয়ারের সমস্যায় ভুগছেন? কাজে লাগান জাপানের 'গেইডো' দর্শন!

যে পরীক্ষা দরকার

চিকিৎসকদের মতে, ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সঠিক সময়ে পরীক্ষা। ডেঙ্গু নির্ণয়ের জন্য নির্দিষ্ট কিছু টেস্ট আছে, যা ভাইরাল ফিভারের ক্ষেত্রে সাধারণত প্রয়োজন হয় না। অসুখের শুরুর দিকেই এনএস১ অ্যান্টিজেন টেস্ট (NS1 antigen test) করলে ডেঙ্গু ভাইরাস ধরা পড়তে পারে। পরে আইজিএম (IgM) বা আইজিজি (IgG) অ্যান্টিবডি পরীক্ষার মাধ্যমে সংক্রমণের পর্যায় বোঝা যায়। এই টেস্টগুলিই ডেঙ্গু এবং ভাইরাল ফিভারের (Dengue vs Viral Fever) মধ্যে পার্থক্য স্পষ্ট করে।

আরও পড়ুন- এই সবজিটি শুধু অন্ত্র-বান্ধবই নয়, 'সুপারপাওয়ার'ও! কেন বলছেন করিনা কাপুর?

ডেঙ্গু কেন এত বিপজ্জনক, তার কারণ শরীরের ভেতরে এর প্রভাব। ডেঙ্গু ভাইরাস সরাসরি অস্থিমজ্জাকে প্রভাবিত করে, যার ফলে প্লেটলেট উৎপাদন কমে যায়। একইসঙ্গে এই রোগে রক্তনালির ভেতর থেকে তরল বেরিয়ে যাওয়ার প্রবণতা বাড়ে। এর ফলেই প্লেটলেট কাউন্ট হঠাৎ কমে যেতে পারে, শরীরে জলশূন্যতা দেখা দেয় এবং অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণের ঝুঁকি তৈরি হয়। সাধারণ ভাইরাল ফিভারে সাধারণত এই ধরনের গভীর ক্ষতি হয় না।

আরও পড়ুন- প্রতিদিন সহজে সুস্থ থাকতে রান্নাঘরে অবশ্যই রাখুন এই ৬ স্বাস্থ্যকর খাবার

ডেঙ্গুর কিছু সংকেত রয়েছে, যেগুলি একেবারেই উপেক্ষা করা উচিত নয়। তীব্র মাথাব্যথা, চোখের পেছনে ব্যথা, পেশি ও অস্থিসন্ধিতে অসহ্য যন্ত্রণা ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। সময়ের সঙ্গে যদি বমি বন্ধ না হয়, পেটে ব্যথা শুরু হয়, নাক বা মাড়ি থেকে রক্ত পড়তে থাকে কিংবা শরীরে সহজে নীলচে দাগ পড়ে, তাহলে তা গুরুতর ইঙ্গিত হতে পারে।

অনেক সময় জ্বর হঠাৎ কমে যাওয়ার পর রোগী ভাবেন তিনি ভালো হয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে এটি বিপজ্জনক পর্যায়ে শুরু হতে পারে। এই সময় প্লেটলেট দ্রুত কমতে পারে, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যায় এবং অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, এই পর্যায়ে দ্রুত চিকিৎসা না পেলে শক বা অঙ্গ বিকল হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এই কারণেই ডেঙ্গুর ক্ষেত্রে আগেভাগে সঠিক রোগ নির্ণয় অত্যন্ত জরুরি। ডেঙ্গু আর ভাইরাল ফিভারের মধ্যে পার্থক্য বুঝে যদি সময়মতো পরীক্ষা করা যায়, তাহলে রোগীকে পর্যবেক্ষণে রাখা সম্ভব হয়। তরলের ভারসাম্য বজায় রাখা, নিয়মিত রক্তপরীক্ষা করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা শুরু করলে গুরুতর জটিলতা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক মানুষ এবং যাঁদের আগে থেকেই অন্য রোগ রয়েছে, তাঁদের ক্ষেত্রে ডেঙ্গু আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই বর্ষার সময় বা জ্বর দুই থেকে তিন দিনের বেশি স্থায়ী হলে, সঙ্গে যদি দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে ডেঙ্গু পরীক্ষা করানোই বুদ্ধিমানের কাজ।

মনে রাখতে হবে, সব জ্বরই এক নয়। এই কথাটি মনে রাখা আজকের দিনে অত্যন্ত প্রয়োজন। সাধারণ ভাইরাল ফিভার যেমন বিশ্রামেই সেরে যায়, তেমনই ডেঙ্গু অবহেলা করলে ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। সচেতনতা, সঠিক সময়ে পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শই ডেঙ্গু থেকে বাঁচার তাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

Dengue viral fever