/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/10/diabetes-diet-tips-2026-01-10-12-51-42.jpg)
Diabetes Diet Tips: ডায়াবেটিসের ডায়েট টিপস জেনে নিন।
Diabetes Diet Tips: ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যেখানে প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসই সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। বিশেষ করে কী পান করা হচ্ছে, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, তা রক্তে শর্করার মাত্রাকে সরাসরি প্রভাবিত করে। এই কারণেই ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে একটি সাধারণ প্রশ্ন বারবার উঠে আসে—নারকেলের জল কি ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিরাপদ? নাকি এটি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে?
নারকেলের জল বহুদিন ধরেই একটি প্রাকৃতিক এবং স্বাস্থ্যকর পানীয় হিসেবে পরিচিত। গরমকালে শরীরকে হাইড্রেটেড রাখা, ক্লান্তি দূর করা এবং ইলেক্ট্রোলাইটের ঘাটতি পূরণ করার জন্য এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়। এতে থাকা পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন সি এবং বিভিন্ন খনিজ উপাদান শরীরের জন্য উপকারী বলে মনে করা হয়। তবে ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে সমস্যাটি তৈরি হয় এতে থাকা প্রাকৃতিক চিনি এবং কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণের কারণে।
একগ্লাস নারকেলের জলে
একগ্লাস অর্থাৎ প্রায় ২৫০ মিলিলিটার নারকেলের জলে প্রায় ১৫ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট এবং প্রায় ৮ গ্রাম প্রাকৃতিক চিনি থাকে। এই চিনি সরাসরি রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। তাই প্রশ্ন ওঠে, ডায়াবেটিস রোগীদের কি এটি একেবারেই এড়িয়ে চলা উচিত না উচিত না?
আরও পড়ুন- শীতকালে রান্নাঘরের এই জিনিসটি চায়ে মিশলেই বদলে যাবে শরীর, জানলে চমকে যাবেন!
মুম্বইয়ের ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞ ডা. নিখিল প্রভুর মতে, যদি কোনও ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে তিনি মাঝে মধ্যে সীমিত পরিমাণে নারকেলের জল পান করতে পারেন। তবে এটিকে কখনও ওষুধ হিসেবে ভাবা উচিত নয়। এটি শুধুমাত্র একটি স্বাস্থ্যকর পানীয়, যা সঠিক সময়ে ও সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করলে কাজে আসতে পারে।
আরও পড়ুন- জানুন শীতকালে ওজন বৃদ্ধি রোধ করার উপায়, স্থূলতা এড়াতে এই বিষয়গুলি মনে রাখবেন!
গবেষণায় দেখা গেছে, নারকেলের জলের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স প্রায় ৫৪, যা নিম্ন থেকে মাঝারি পরিসরের মধ্যে পড়ে। এর গ্লাইসেমিক লোডও তুলনামূলকভাবে কম। এর অর্থ হল, এটি কোমল পানীয় বা প্যাকেটজাত ফলের রসের মত রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়ায় না। তবে পরিমাণ বেশি হলে সমস্যা তৈরি হতে পারে।
আরও পড়ুন- মাত্র ২ চামচ কফি পাউডারে চুল করুন কালো, জানুন চুল পড়া বন্ধ করা ও চুল ঘন করার গোপন উপায়
কিছু গবেষণায় আরও দেখা গেছে যে নারকেলের জলে থাকা ম্যাগনেসিয়াম ইনসুলিনের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করে। টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে প্রায়শই ম্যাগনেসিয়ামের ঘাটতি দেখা যায়, যার ফলে ব্লাড সুগার নিয়ন্ত্রণে সমস্যা তৈরি হয়। সেই দিক থেকে সীমিত পরিমাণে নারকেলের জল উপকারী হতে পারে।
এছাড়া নারকেলের জলে থাকা পটাসিয়াম এবং এল-আর্জিনিন রক্তনালীগুলোকে শিথিল করতে সাহায্য করে, ফলে রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়। ডায়াবেটিস রোগীদের মধ্যে পায়ের স্নায়ু সমস্যা এবং রক্ত চলাচলের সমস্যা সাধারণ ঘটনা। এই দিক থেকেও নারকেলের জল কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
তবে যদি কোনও ডায়াবেটিস রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা খুব বেশি না থাকে বা এইচবিএ১সি (HbA1c) ৯ থেকে ১০ শতাংশের কাছাকাছি হয়, তাহলে নারকেলের জল এড়িয়ে চলাই নিরাপদ। প্রতিদিন একগ্লাস করে নারকেলের জল পান করলে রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়তে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর। সবচেয়ে নিরাপদ উপায় হল, সপ্তাহে এক বা দু'বার অল্প পরিমাণে নারকেলের জল পান করা এবং সেটিও খাবারের সঙ্গে বা শারীরিক পরিশ্রমের পরে। খালিপেটে বা প্রতিদিন নিয়ম করে নারকেলের জল পান করা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য উপযুক্ত নয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, নারকেলের জল ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য বিষ নয়, কিন্তু অমৃতও নয়। এটি সঠিক পরিমাণে এবং সঠিক পরিস্থিতিতে উপকারী হতে পারে। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং কোনও পরিবর্তনের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই তাই ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণের সবচেয়ে নিরাপদ রাস্তা।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us