/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/18/cancer-alert-2025-11-18-16-24-32.jpg)
Cancer Alert: ক্যানসার রুখতে আরও সতর্কতা জরুরি বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
Cancer Alert: মানুষের শরীরে খুব সাধারণ কিছু পরিবর্তনও কিন্তু বড় রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। বিশেষ করে ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রাথমিক সতর্কতার সংকেতগুলো অনেক সময় এতটাই সাধারণ মনে হয় যে আমরা তাকে গুরুত্বই দিই না।
কী জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ?
রায়পুরের এক অভিজ্ঞ অঙ্কোলজিস্ট সম্প্রতি এই ব্যাপারে জানিয়েছেন, শরীরে সামান্য গুটলি, মুখে দীর্ঘদিনের ঘা, কোনও ধরনের অস্বাভাবিক রক্তপাত বা দীর্ঘস্থায়ী কাশি—এসব লক্ষণ বারবার দেখা দিলে তা অবহেলা করা বিপজ্জনক হতে পারে। কারণ ক্যানসার যত আগে ধরা পড়বে, চিকিৎসা তত সহজ এবং সফলতার সম্ভাবনাও তত বেশি।
আরও পড়ুন- আপনার কিডনি কি নষ্টের পথে? এই কায়দায় জানুন সহজেই! বাঁচতে কী করবেন, জেনে নিন বিস্তারিত
বিশেষজ্ঞের মতে, ভারতে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় এমন ক্যানসারগুলোর মধ্যে অন্যতম হল- মহিলাদের স্তন ক্যানসার। সাধারণত এর প্রথম লক্ষণ হল স্তনের ভেতরে অস্বাভাবিক একটি গুটলি। এই গুটলি বেশিরভাগ সময় ব্যথাহীন থাকে, তাই অনেকেই তা পাত্তা দেন না বা সময়মতো পরীক্ষা করান না। অথচ এই একটিমাত্র লক্ষণ দ্রুত চিহ্নিত করতে পারলে জীবন বাঁচানো সম্ভব। কারণ প্রাথমিক অবস্থায় স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা অনেক সহজ এবং তা ফলপ্রসূও হয়।
আরও পড়ুন- নকল জিরা খেয়ে নিজের বিপদ বাড়াচ্ছেন না তো? জেনে নিন, চিনবেন কীভাবে
এরপর বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন মুখগহ্বরের ক্যানসারের কথা। এই ক্যানসার ভারতে অত্যন্ত সাধারণ ব্যাপার। বিশেষ করে তামাক বা জরদা এবং গুটকা সেবনকারীদের মধ্যে মুখগহ্বরের ক্যানসারের সংখ্যা অত্যন্ত বেশি। মুখে যে ঘা সাধারণত সাত থেকে দশ দিনের মধ্যে সেরে যায়, সেই ঘা যদি পনেরো দিনেরও বেশি স্থায়ী থাকে এবং একদমই না সারে, তাহলে তা গুরুতর সতর্কতার সংকেত। অনেক সময় এই ঘা ব্যথাহীন হয়, তাই রোগী ভাবেন কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু এমন অসার ঘা, যা ধীরে ধীরে বড় হচ্ছে বা চারপাশে লাল কিংবা সাদা দাগ তৈরি করছে, তা মুখগহ্বরের ক্যানসারের প্রথম ইঙ্গিত হতে পারে।
আরও পড়ুন- ইঁদুর কামড়েছে? হতে পারে বিরাট ক্ষতি, রক্ষা পাবেন কী করে জানুন বিস্তারিত!
শরীরে অস্বাভাবিক রক্তপাতও ক্যানসারের একটি বড় সংকেত। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফুসফুস বা গলার ক্যানসারের ক্ষেত্রে অনেক সময় কাশির সঙ্গে রক্ত বের হয়। পুরোনো দিনের সিনেমায় যেভাবে রক্তমিশ্রিত কফ দেখানো হতো—ঠিক তেমনটাই বাস্তবে গুরুতর ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়। আবার নারীদের ক্ষেত্রে মাসিকের বাইরে অতিরিক্ত রক্তপাত বা মেনোপজের পর রক্তপাত—এগুলো জরায়ুর মুখের ক্যানসারের প্রথম লক্ষণ হতে পারে। তাই এসব পরিবর্তনকেও হালকাভাবে নিলে বিপদ বাড়বে।
আরও পড়ুন- গায়ক-সুরকার জুবিন গর্গের জীবনের এই কাহিনিগুলো জানতেন? শুনলে অবাক হয়ে যাবেন
মুখগহ্বরের ক্যানসারের লক্ষণ নিয়ে আরেক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, সাধারণ ঘা বা কামড়ে সৃষ্টি হওয়া ক্ষত সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই সেরে যায়। কিন্তু ক্যানসারজনিত ঘা দীর্ঘদিন ধরে থাকে, শক্ত হয়ে যায়, ধীরে ধীরে বড় হয় এবং রক্তপাত ঘটাতে পারে। এমনকী, অনেক সময় এসব ঘা ব্যথাহীন থাকে, যা মানুষকে বিভ্রান্ত করে। যদি খাওয়া–দাওয়ায় সমস্যা হয়, গিলতে কষ্ট হয়, কথা বলার সময় স্বর বদলে যায় বা শরীরের ওজন কমতে থাকে, তাহলে দ্রুত দক্ষ চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন বলেই বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন।
অবাঞ্ছিত রক্তপাত সম্পর্কে বিশেষজ্ঞরা আরও জানিয়েছেন, প্রস্রাবে রক্ত, মলে রক্ত, বমিতে রক্ত দেখতে পাওয়া— এসব কখনও হালকাভাবে নিলে চলবে না। মলদ্বারের ক্যানসার, মূত্রাশয় বা কিডনির সমস্যা কিংবা পাকস্থলির ক্যানসার—এই সব রোগের প্রাথমিক সংকেত হতে পারে এমন রক্তপাত। এমনকী অল্প অল্প রক্ত বের হলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করা উচিত।
তবে এসব লক্ষণ শুনে অনেকে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। চিকিৎসকের মতে, এসব লক্ষণ থাকা মানেই যে ক্যানসার আছে—তা নয়। মুখের ঘা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সাধারণ কারণে হয়। অনিয়মিত মাসিকও সবসময় গুরুতর রোগের লক্ষণ নয়। তবুও যদি কোনও লক্ষণ দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় বা পরিস্থিতি খারাপের দিকে যায়, তাহলে পরীক্ষা করানো বাধ্যতামূলক।
নিয়মিত পরীক্ষা, সচেতনতা এবং সামান্য পরিবর্তনেও সতর্ক হওয়া—এই তিনটি বিষয় ক্যানসার প্রতিরোধে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বিশেষ করে যাঁরা তামাক সেবন করেন, অ্যালকোহল বেশি খান, পরিবারের কারও ক্যানসারের ইতিহাস আছে বা বয়স পঞ্চাশ পার করেছেন, তাঁদের আরও বেশি সতর্ক থাকা জরুরি। সময়মতো এক্স–রে, ম্যামোগ্রাম, মুখগহ্বর পরীক্ষা, রক্ত পরীক্ষা ইত্যাদি করালে রোগ প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়ে এবং চিকিৎসা সহজ হয়। এমনটাই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সামান্য গুটলি, মুখের কোনও ঘা বা সামান্য রক্তপাতকে কখনোই অবহেলা করা উচিত নয়। এসব ছোট সংকেতই বড় বিপদের আগাম সতর্কতা হতে পারে। তাই শরীরের যে কোনও স্থায়ী পরিবর্তন অনুভব করলেই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সচেতনতা এবং প্রাথমিক শনাক্তকরণই জীবন বাঁচাতে পারে, এমনটাই মত বিশেষজ্ঞদের।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us