/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/08/easiest-dal-to-digest-2025-12-08-11-35-55.jpg)
Easiest Dal to Digest: জেনে নিন, কোন ডাল সহজপাচ্য।
Easiest Dal to Digest: মানুষের হজমশক্তি যেমন একেক জনের আলাদা, তেমনই ডালের ধরনও হজমের ওপর ভিন্ন প্রভাব ফেলে। ভারতীয় খাদ্যতালিকায় ডাল প্রতিদিনের খাবারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল—সব মিলিয়ে ডালকে বলা হয় সম্পূর্ণ পুষ্টির ভান্ডার। কিন্তু অনেকেরই অভিযোগ যে ডাল খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা, অস্বস্তি বা বদহজম হয়। এর কারণ, ডালের মধ্যে থাকা কিছু প্রাকৃতিক উপাদানে অ্যান্টিনিউট্রিয়েন্ট, রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও শোষণে বাধা সৃষ্টি করা কিছু এনজাইম থাকে। তবে সব ডাল সমানভাবে হজম হয় না। কয়েকটি ডাল পেটের জন্য খুবই হালকা, আবার কিছু ডাল তুলনামূলক ভারি।
কোন ডাল সহজপাচ্য?
পুষ্টিবিদদের মতে, সব ডালের মধ্যে মুগ ডাল সবচেয়ে সহজপাচ্য। এর স্টার্চ স্ট্রাকচার এমন যে এটি খুব দ্রুত ভেঙে যায় এবং শরীর সহজে শোষণ করতে পারে। উপরন্তু মুগ ডালে অ্যান্টিনিউট্রিয়েন্টের পরিমাণ কম, তাই এটি পেটের ওপর কোনও বাড়তি চাপ ফেলে না। বিশেষত যাঁরা অসুস্থতা থেকে সেরে উঠছেন, বয়স্ক মানুষ, ছোট শিশু কিংবা যাঁদের নিয়মিত অ্যাসিডিটি বা গ্যাসের সমস্যা আছে, তাঁদের জন্য মুগ ডাল আদর্শ। মুগ ডাল অল্প সময় ভিজিয়েই রান্না করা যায়, আর অল্প মশলাতেও এটি সুস্বাদু হয়।
আরও পড়ুন- রান্নার কোন তেল বাড়ায় ফ্যাট ও ওজন? গবেষণায় মিলল চমক
মসুর ডালও অত্যন্ত হালকা এবং সহজপাচ্য। এটি পেটকে কোনওভাবেই ভারী করে না এবং প্রোটিনও সহজে শোষিত হয়। যেসব ডাল শক্ত, ঘন বা তেল-ঘি বেশি শোষণ করে, সেগুলির তুলনায় মসুর অনেক বেশি হালকা। এজন্য অনেকেই দৈনন্দিন খাবারে মসুর ডাল রাখতে পছন্দ করেন। এর মৃদু স্টার্চ কাঠামো শরীরকে ধীরে ধীরে শক্তি দেয়, যার ফলে দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা থাকে কিন্তু কোনও অসুবিধা হয় না।
আরও পড়ুন- দূষিত বাতাসে হারিয়ে যায় ব্যায়ামের স্বাস্থ্য উপকারিতা, গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
অন্যদিকে ছোলার ডাল, অড়হড়ের ডাল, আর বিশেষ করে মুগ ডাল তুলনামূলকভাবে ভারী বলে মনে করা হয়। এগুলির মধ্যে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ ও গ্যাস তৈরির প্রবণতা বেশি থাকে। তাই পেট সংবেদনশীল হলে বা হজমশক্তি দুর্বল হলে এই ডালগুলি খেলে অস্বস্তি হতে পারে। তবে তার মানে এই নয় যে এই ডালগুলি খাওয়া ঠিক নয়। কারণ এগুলিও অত্যন্ত পুষ্টিকর। সঠিক ভাবে বানালে ভারী ডালও খুব সহজেই হজম হতে পারে।
আরও পড়ুন- ঠান্ডা ঋতুতে কি রক্তচাপ বাড়ে? জানুন শীতে কীভাবে ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখবেন!
ডাল হজমের মূল রহস্য লুকিয়ে আছে রান্নার আগে প্রস্তুতির মধ্যে। ডাল ভিজিয়ে রাখা, অঙ্কুরিত করা বা ভালোভাবে প্রেসার কুকারে রান্না করলে এর অ্যান্টিনিউট্রিয়েন্ট ভেঙে যায় এবং স্টার্চ নরম হয়ে আসে। এর ফলে ভারী ডালও হালকা হয়ে ওঠে। বিশেষজ্ঞরা বলেন, ডাল রান্নার সময় হিং, আদা, জিরে বা হলুদ ব্যবহার করলে গ্যাসের সমস্যা অনেকটাই কমে যায়। এই মশলাগুলি পেটকে আরাম দেয় এবং খাদ্যকে দ্রুত ভাঙতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন- সকালে খালি পেটে খান এককোয়া রসুন, মিলবে অবাক করা উপকারিতা!
ডাল খাওয়ার আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম হল শস্যের সঙ্গে সঠিক অনুপাতে মেশানো। শরীর যাতে প্রয়োজনীয় অ্যামাইনো অ্যাসিডের অভাবে না পড়ে, তার জন্য ডালের সঙ্গে ভাত বা মিলেট মিশিয়ে খাওয়া উচিত। ডালের মধ্যে থাকে লাইসিন, যা ভাতে নেই। আবার ভাতে থাকে মেথিওনিন, যা ডালে কম থাকে। তাই দু’টো একসঙ্গে খেলে শরীরের প্রোটিন শোষণ অনেক বেশি হতে পারে।
পুষ্টিবিদরা আরও জানিয়েছেন, সপ্তাহে অন্তত পাঁচ ধরনের ডাল খাওয়া উচিত। শুধু একটি ডালের ওপর নির্ভর করলে শরীর একই ধরনের পুষ্টি পায়, কিন্তু বৈচিত্র্য এলে শরীর প্রয়োজনীয় বিভিন্ন মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট পায় এবং অন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া ভালো থাকে। আমাদের দেশে হাজার রকম ডাল ও শস্য রয়েছে, তাই সেগুলিকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে খেলে খাদ্য তালিকা আরও সমৃদ্ধ হয়।
খাদ্যবিজ্ঞান বলছে, ডাল শুধু প্রোটিনের উৎস নয়। এটি শরীরকে দীর্ঘ সময় শক্তি দেয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং বার্ধক্যজনিত সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। তবে সঠিক ডাল বেছে নেওয়া, ঠিক মতো ভিজিয়ে রাখা, রান্না করা এবং খাবারের সঙ্গে সঠিক মশলা ও শস্য ব্যবহার করা—এই সব মিলিয়ে ডালের পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ হয়।
মোদ্দা কথা, মুগ ডাল ও মসুর ডাল পেটের জন্য সবচেয়ে হালকা এবং স্বাস্থ্যসম্মত। গ্যাস, পেট ফাঁপা বা বদহজমের সমস্যা থাকলে এই দুই ডাল দিয়ে দিন শুরু করা ভালো। হজমশক্তি ভালো হলে অল্প মশলা দিয়ে অন্য ভারী ডালও ধীরে ধীরে খাওয়া যেতে পারে। সঠিক রান্নার নিয়ম ও বৈচিত্র্যময় খাদ্যাভ্যাসই ডালকে করে তোলে স্বাস্থ্যকর, পুষ্টিকর এবং সহজপাচ্য।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us