/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/18/eye-health-tips-2026-01-18-09-42-17.jpg)
Eye Health Tips: এই ঘরোয়া কায়দায় বাড়ান চোখের দৃষ্টিশক্তি।
Eye Health Tips: চোখ আমাদের শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির মধ্যে একটি। এই চোখ দিয়েই আমরা পৃথিবীর রং, আলো ও সৌন্দর্য অনুভব করি। কিন্তু বর্তমান দ্রুতগতির জীবনযাত্রায় চোখের ওপর চাপ ক্রমশ বেড়েই চলেছে। দিনের বেশিরভাগ সময় মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকা, রাত জাগা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত বিশ্রামের অভাব চোখের স্বাভাবিক ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিচ্ছে। এর ফলেই আজকাল খুব অল্প বয়সেই ঝাপসা দেখা, চোখ জ্বালা, শুষ্কতা, মাথাব্যথা এবং আলো সহ্য না হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
আয়ুর্বেদ মতে, চোখ কেবল দেখার মাধ্যম নয়, এটি শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্যেরও প্রতিফলন। আয়ুর্বেদ বিশ্বাস করে যে চোখ মূলত পিত্ত দোষ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যখন শরীরে পিত্ত দোষ বেড়ে যায়, তখন চোখে জ্বালা, লালভাব, অতিরিক্ত জল পড়া বা শুষ্কতার মতো সমস্যা দেখা দেয়। হরিয়ানার সিরসায় অবস্থিত রামহংস চ্যারিটেবল হাসপাতালের আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ডা. শ্রেয় শর্মার মতে, আজকের সময়ে চোখের সমস্যা বাড়ার প্রধান কারণই হল অস্বাস্থ্যকর জীবনধারা এবং প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাওয়া।
আরও পড়ুন- মাইগ্রেন শুরু হলে আর কষ্ট নয়, ঘরোয়া উপায়ে দ্রুত আরাম পাওয়ার কার্যকর উপায় জানুন
চোখ সুস্থ রাখতে আয়ুর্বেদে নাস্য নামে একটি গুরুত্বপূর্ণ পঞ্চকর্ম চিকিৎসার উল্লেখ রয়েছে। এই পদ্ধতিতে নাক দিয়ে নির্দিষ্ট ঔষধি তেল বা ঘি প্রয়োগ করা হয়। আয়ুর্বেদ অনুসারে নাককে মাথার প্রবেশদ্বার বলা হয়। নিয়মিত নাস্য গ্রহণ করলে মাথা এবং চোখের স্নায়ু শক্তিশালী হয়, চোখের ক্লান্তি কমে এবং দৃষ্টিশক্তি উন্নত হতে সাহায্য করে। তবে নাস্য অবশ্যই অভিজ্ঞ আয়ুর্বেদিক চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে করা উচিত।
আরও পড়ুন- স্থূলতা কমাতে এবং পাইলস উপশমে কার্যকর এই ভেষজ উদ্ভিদ!
আর একটি কার্যকর আয়ুর্বেদিক পদ্ধতি হল আই শেক বা চোখের সেচ। এতে ভেষজ উপাদান দিয়ে তৈরি ক্বাথ হালকা ধারায় চোখের ওপর ঢালা হয়। এই প্রক্রিয়া চোখকে শীতল করে এবং দীর্ঘক্ষণ স্ক্রিন দেখার ফলে যে জ্বালা ও ক্লান্তি তৈরি হয় তা দ্রুত কমাতে সাহায্য করে। যাঁরা নিয়মিত কমপিউটার বা মোবাইল ব্যবহার করেন, তাঁদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী।
আরও পড়ুন- শত্রুকে চিনতে ব্যর্থ, কুনজরের ফাঁদে পড়ে সাজানো জীবন তছনছ! ৫ রাশির ওপর থাকে বাঁকা চোখের চাহনি
আয়ুর্বেদে অঞ্জন বা ঔষধি কাজলের ব্যবহার বহু প্রাচীনকাল থেকেই প্রচলিত। সঠিক আয়ুর্বেদিক অঞ্জন চোখ পরিষ্কার রাখে, কফ দোষ কমায় এবং চোখের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি করে। তবে বাজারে সহজলভ্য রাসায়নিকযুক্ত কাজল চোখের ক্ষতি করতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কোনও অঞ্জন বা কাজল ব্যবহার করা উচিত নয়।
আরও পড়ুন- মাঘে মুলো খাওয়া কেন নিষেধ! কী খাওয়া যাবে না এই মাসে? কোন কাজ থেকে বিরত থাকতে বলছে শাস্ত্র?
বিদালক নামে এক আয়ুর্বেদিক পদ্ধতিও চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এতে চোখ বন্ধ রেখে চোখের চারপাশে ভেষজ পেস্ট লাগানো হয়। এই পদ্ধতি চোখের ফোলাভাব, ব্যথা ও প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং চোখে শীতলতা আনে। বিশেষ করে যাঁরা চোখে ভারীভাব বা চাপ অনুভব করেন, তাঁদের জন্য বিদালক অত্যন্ত কার্যকর।
চোখ সুস্থ রাখতে নিয়মিত চোখ পরিষ্কার করাও অত্যন্ত জরুরি। আয়ুর্বেদ মতে, সকালে ঠান্ডা জল বা ত্রিফলা মেশানো জল দিয়ে চোখ ধোয়া চোখের সংক্রমণ প্রতিরোধ করে এবং দৃষ্টিশক্তি সতেজ রাখে। এটি চোখে জমে থাকা ধুলো ও অস্বস্তি দূর করে।
পাশাপাশি পর্যাপ্ত জল পান করাও চোখের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। শরীরে জলের অভাব হলে প্রথম প্রভাব পড়ে চোখের উপর। চোখ শুষ্ক হয়ে যায় এবং জ্বালা বাড়ে। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণ জল পান করলে চোখের টিস্যু সঠিকভাবে পুষ্টি পায় এবং পিত্ত দোষের ভারসাম্য বজায় থাকে।
সবশেষে বলা যায়, আয়ুর্বেদিক জীবনধারা ও প্রাকৃতিক প্রতিকারগুলি নিয়মিতভাবে মেনে চললে চোখ দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা সম্ভব। আধুনিক জীবনে চোখের যত্নের অবহেলা ভবিষ্যতে বড় সমস্যার কারণ হতে পারে। তাই আজ থেকেই সচেতন হওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
সতর্কতা:
এই তথ্যগুলি সাধারণ জ্ঞানের জন্য। কোনও চিকিৎসা শুরু করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us