/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/18/fake-cumin-alert-2025-11-18-11-26-44.jpg)
Fake Cumin Alert: Fake Cumin Alert: নকল জিরার ব্যাপারে হোন সতর্ক।
Fake Cumin Alert: ভারতীয় রান্নায় জিরা এমন এক অপরিহার্য মসলা, যা প্রায় প্রতিদিনই ব্যবহার করা হয়। ডাল, সবজি, ভাত বা তড়কায়—জিরার ব্যবহার ছাড়া স্বাদ ও ঘ্রাণ অসম্পূর্ণই থেকে যায়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন জায়গায় নকল জিরা বা ভেজাল মেশানো কিউমিন (cumin) বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বলে একাধিক রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। ছোলার পর এবার জিরায় ভেজালের খবর স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। কারণ নকল জিরা দেখতে আসল জিরার মত মনে হলেও এর স্বাদ, গন্ধ এবং পুষ্টিগুণ সম্পূর্ণ আলাদা। এগুলো শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই জিরা কেনা থেকে ব্যবহার—সব ক্ষেত্রেই সতর্কতা জরুরি।
ভেজাল কেন মেশানো হয় তা অনেকটাই ব্যবসায়িক লাভের সঙ্গে যুক্ত। যেহেতু জিরা একটি উচ্চমূল্যের ও চাহিদাসম্পন্ন মসলা, তাই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী এতে বিভিন্ন সস্তা উপাদান মিশিয়ে দেন। সাধারণত নকল জিরায় ঘাসের বীজ, কাঠকয়লা লেপা দানা, রং করা সস্তা বীজ বা দেখতে মিল আছে এমন ভেজাল দানা মেশানো হয়। এই মিশ্রিত দানাগুলি প্রায়শই জিরার রঙ ও আকার নকল করতে সক্ষম হলেও এগুলোতে থাকে শরীরের জন্য বিপজ্জনক রাসায়নিক। নকল জিরা খেলে ওই সব রাসায়নিক শরীরের মধ্যে ঢুকে যায়।
আরও পড়ুন- ইঁদুর কামড়েছে? হতে পারে বিরাট ক্ষতি, রক্ষা পাবেন কী করে জানুন বিস্তারিত!
নকল জিরা ঘরে বসেই কয়েকটি সহজ পরীক্ষায় ধরা যায়। প্রথমত, জলে ভাসানো। নকল জিরা জলে দিলে সেগুলো ভেসে ওঠে। একচামচ জিরা জলে ফেলে দিলে যদি অনেক দানা ভেসে ওঠে বা জল দ্রুত গাঢ় রং ধারণ করে, তবে বুঝবেন ওই জিরায় ভেজাল আছে। দ্বিতীয়ত, হাতের তালুতে কয়েকটি জিরার দানা ঘষলে আসল জিরা তেমন দাগ ফেলবে না, কিন্তু নকল বা রঙ করা জিরা কালো ধুলো বা দাগ ছেড়ে দেয়। তৃতীয়ত, গন্ধ পরীক্ষা অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য। আসল জিরার গন্ধ শক্তিশালী, ঝাঁঝালো এবং প্রাকৃতিক। একটি দানা ভাঙলেই সেই ঘ্রাণ পাওয়া হয়। ভেজাল জিরার গন্ধ সাধারণত কম থাকে। যা শুঁকলে বাসি বা রাসায়নিক মেশানো বলেই মনে হয়। এছাড়াও জিরার আকার এবং রঙের ওপর নজর রাখাও জরুরি। আসল জিরার সব দানা আকারে প্রায় সমান এবং এর প্রাকৃতিক রং হয় বাদামি। নকল জিরার রং অনেক সময় হয় অতিরিক্ত কালচে। দানাগুলির আকারেও বৈচিত্র্য দেখা যায়।
আরও পড়ুন- কিংবদন্তি গায়ক-সুরকার জুবিনের জীবন, সাফল্য এবং অকাল বিদায়ের অজানা কাহিনি জানুন বিস্তারিত
পুষ্টিগত দিক থেকেও আসল জিরার গুরুত্ব অপরিসীম। জিরায় থাকে উমিনালডিহাইড (cuminaldehyde), যা একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি হজম শক্তি বাড়ায়, গ্যাস ও অম্বল কমায় এবং শরীরের প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। এছাড়া এতে থাকা ভিটামিন, খনিজ এবং প্রয়োজনীয় তেল (essential oils) আমাদের পরিপাকতন্ত্রকে সুস্থ রাখে। কিন্তু নকল জিরায় এসব গুণ অনুপস্থিত, বরং তাতে থাকা কৃত্রিম রং বা রাসায়নিক উপাদান লিভার, কিডনি বা পেটের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
আরও পড়ুন- ব্যবহার করুন এই ৩টি জিনিস, পান লম্বা কালো ঘন চুল
জিরা কেনার সময় তাই কিছু বিষয় খেয়াল রাখা খুবই জরুরি। সবসময় ব্র্যান্ডেড এবং সিলযুক্ত প্যাকেট কেনাই ঠিক। উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, প্যাকেটের লট নম্বর এবং কোথায় বানানো হয়েছে দেখে তবেই কিনবেন। যতটা সম্ভব খোলা বা লুজ (loose) মশলা কেনা এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ সেগুলিতে ভেজাল মেশানোর সম্ভাবনা অনেক বেশি। প্যাকেট খোলার পর রং, গন্ধ ও দানার আকারও দেখে নেওয়া উচিত।
জিরা কীভাবে রাখবেন?
জিরা সংরক্ষণের ক্ষেত্রেও সচেতনতা প্রয়োজন। সবসময় কাচ বা স্টিলের বাতাস নিরোধক (airtight) কনটেইনারে জিরা রাখুন। এই মশলা আর্দ্রতা পছন্দ করে না, তাই ঠান্ডা, শুকনো ও অন্ধকার জায়গায় জিরা রাখা উচিত। অনেকেই একসঙ্গে অনেক বেশি পরিমাণ জিরা কিনে রাখেন, এটা একেবারেই ঠিক নয়। কারণ, দীর্ঘদিন রেখে দিলে জিরার গন্ধ ও কার্যকারিতা কমে যায়, আর খোলা অবস্থায় থাকলে জিরায় ভেজাল মেশানো সহজ হয়। তাই জিরার ছোট প্যাকেটে কিনে দ্রুত ব্যবহার করাটাই ঠিক।
আরও পড়ুন- হাত না লাগিয়েই বেসিন রাখুন ঝকঝকে, কাজে লাগান এই দুর্দান্ত সহজ কৌশল!
রান্নায় জিরা ব্যবহারের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম আছে। হালকা ভেজে নিলে জিরার ঘ্রাণ আরও বের হয়, তবে বেশি পুড়িয়ে ফেললে এর পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায় এবং স্বাদও কটু হয়ে যায়। তড়কাতে দেওয়ার সময় মাঝারি আঁচ সবচেয়ে ভালো। জিরার ঘ্রাণ তখনই সঠিকভাবে পাওয়া যায়, যখন সেটা অতিরিক্ত গরম করা হয় না।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল—সন্দেহ হলে নতুন জিরা কিনে ফেলুন। মশলার মতো ব্যাপারে অসতর্কতা দীর্ঘ সময়ে শরীরের ক্ষতি করতে পারে। তাই জিরা নিয়ে সামান্য সন্দেহ হলেই তা বদলে ফেলুন। এক্ষেত্রে ঝুঁকি নেওয়াটা ঠিক নয়। খাবারের নিরাপত্তা আজকের দিনে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের রান্নায় ব্যবহৃত মশলায় ভেজাল থাকলে তা পুরো পরিবারের ওপর দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সচেতন হন, সঠিকভাবে পরীক্ষা করুন এবং নিরাপদ জিরা ব্যবহার করুন—এটাই সুস্বাদু ও স্বাস্থ্যকর রান্নার প্রথম শর্ত।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us