/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/29/fake-vs-real-khejur-gur-2025-12-29-16-43-49.jpg)
Fake vs Real Khejur Gur: ভেজাল গুড় কিনছেন কি? চিনে নিন।
Fake vs Real Khejur Gur: শীতকাল এলেই বাঙালির রান্নাঘরে ফিরে আসে খেজুরের গুড়ের রাজত্ব। পৌষ মাস মানেই পিঠে-পুলি, পায়েস, পাটিসাপটা আর তার সঙ্গে খাঁটি খেজুরের গুড়ের সুবাস। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাজারে গুড়ের চাহিদা যত বেড়েছে, ততই বেড়েছে ভেজাল গুড়ের রমরমা। অনেক সময় গুড়ের রং, গন্ধ বা চকচকে চেহারা দেখে বোঝার উপায় থাকে না সেটি আদৌ খাঁটি কি না। অথচ এই ভেজাল গুড় নিয়মিত খেলে শরীরের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়তে পারে।
খেজুরের গুড় তৈরি হয় খেজুরের রস থেকে। কিন্তু ভালো মানের খেজুরের রস পেতে হলে চাই টানা ঠান্ডা। শীত ঠিকমতো না পড়লে রসের পরিমাণ কমে যায় এবং স্বাদেও আসে তারতম্য। সেই কারণেই অনেক অসাধু ব্যবসায়ী খেজুরের রসের সঙ্গে চিনি, আখের রস, স্টার্চ কিংবা রাসায়নিক মিশিয়ে গুড় তৈরি করেন। দেখতে তা ঝকঝকে এবং আকর্ষণীয় হলেও ভিতরে লুকিয়ে থাকে বিপদ।
আরও পড়ুন- শীতকালীন এই খাবারগুলো শরীরকে রাখে উষ্ণ, বাড়ায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা
খাঁটি খেজুরের গুড় চেনার প্রথম উপায় হল তার রং। খাঁটি গুড় সাধারণত কালচে বাদামি বা গাঢ় বাদামি রঙের হয়। যদি গুড় খুব হালকা হলুদ, সাদা বা অতিরিক্ত সোনালি দেখায়, তাহলে বুঝতে হবে সেখানে রাসায়নিক বা ব্লিচিং এজেন্ট ব্যবহার করা হয়েছে। প্রকৃত খেজুরের রস জ্বাল দিলে রং কখনও এত উজ্জ্বল হয় না।
আরও পড়ুন- ব্রেকফাস্টে এই ৫ খাবারের ভুলে নীরবে পচতে শুরু করে আপনার অন্ত্র, আজই বদলান অভ্যাস
গুড়ের চকচকে ভাবও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত। খুব বেশি চকচকে বা স্ফটিকের মত উজ্জ্বল গুড় দেখলে সতর্ক হওয়া দরকার। এই ধরনের গুড়ে অনেক সময় সোডিয়াম বাইকার্বোনেট বা ক্যালসিয়াম কার্বোনেট ব্যবহার করা হয়, যা গুড়কে উজ্জ্বল করে এবং ওজন বাড়ায়। খাঁটি গুড় সাধারণত ম্যাট বা একটু নিস্তেজ দেখায়, তাতে কৃত্রিম ঔজ্জ্বল্য থাকে না।
আরও পড়ুন- শীতের বিষণ্ণতা কাটাতে সহজ ও কার্যকর উপায়, পান মানসিক স্বস্তি, ফিরুন স্বাভাবিক জীবনে
স্পর্শ করেও গুড়ের বিশুদ্ধতা বোঝা যায়। খাঁটি খেজুরের গুড় আঙুলে নিলে তা একটু নরম এবং আঠালো অনুভূত হয়। খুব শক্ত, পাথরের মতো গুড় হলে বুঝতে হবে তাতে চিনি বা অন্যান্য শর্করা অতিরিক্ত মাত্রায় মেশানো হয়েছে। অনেক সময় বাইরে শক্ত হলেও ভিতরে যদি গুড় রসালো হয়, তবে সেটি তুলনামূলক ভাবে ভালো হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
আরও পড়ুন- প্রতিদিন জলপাই তেল খেলে শরীরে কী ঘটে? জানলে আজ থেকেই বদলে ফেলবেন অভ্যাস!
জলের পরীক্ষাও গুড় চেনার একটি ঘরোয়া উপায়। স্বচ্ছ জলে সামান্য গুড় দিয়ে কিছুক্ষণ রেখে দিলে যদি জল ঘোলা হয়ে যায় বা নীচে সাদা বা দানাদার কিছু জমে যায়, তবে বুঝতে হবে সেখানে স্টার্চ বা অন্য কোনও জিনিস রয়েছে। খাঁটি গুড় সাধারণত ধীরে জলে গলে যায় এবং তলায় আলাদা কিছু জমে থাকেও না।
গুড়ের গন্ধও ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ। আসল খেজুরের গুড়ের গন্ধ খুবই স্বাভাবিক ও মৃদু হয়। খুব তীব্র বা কৃত্রিম মিষ্টির গন্ধ পেলে বুঝতে হবে সেখানে কেমিক্যাল ফ্লেভার ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক সময় এই কৃত্রিম গন্ধ এতটাই নিখুঁত হয় যে প্রথমে ধোঁকা দিতে পারে, কিন্তু কাছ থেকে শুঁকলেই তাতে অস্বাভাবিকতা ধরা পড়ে।
স্বাদও একটি বড় ইঙ্গিত দেয়, যদিও না খেয়ে বোঝাই সবচেয়ে নিরাপদ। খাঁটি গুড়ের মিষ্টত্ব গভীর ও স্বাভাবিক হয়। খুব বেশি মিষ্টি, নোনতা বা তেতো স্বাদ থাকলে তা ভেজালের লক্ষণ। পুরোনো বা ভেজাল গুড়ে অনেক সময় নোনতা ভাব আসে, আবার অতিরিক্ত জ্বাল দেওয়া হলে তেতো স্বাদও অনুভূত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজার থেকে গুড় কেনার সময় কালচে বাদামি রঙের, কম চকচকে এবং হালকা নরম গুড় বেছে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ। অত্যধিক সুন্দর দেখতে গুড়ই যে ভালো, এমন ধারণা একেবারেই ভুল। খাঁটি জিনিস অনেক সময় দেখতে সাধারণ হলেও গুণে সেরা হয়।
গুড়ের পুষ্টিগুণ অস্বীকার করার উপায় নেই। এতে আয়রন, ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম ও নানা খনিজ উপাদান থাকে যা হজমশক্তি বাড়ায়, রক্তাল্পতা কমাতে সাহায্য করে এবং শরীর ডিটক্স করতে সহায়ক। কিন্তু, এই সব উপকার তখনই পাওয়া সম্ভব, যখন গুড় খাঁটি হয়। ভেজাল গুড় বরং লিভার, কিডনি এবং হজমের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলতে পারে।
পিঠে-পুলির মরশুমে যা করবেন
পিঠে-পুলির মরশুমে তাই গুড় কেনার আগে একটু সচেতন হওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। কয়েকটি সহজ লক্ষণ মনে রাখলেই আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার কেনা গুড় আসল না নকল। স্বাদ নয়, চোখ, নাক আর স্পর্শই হোক এক্ষেত্রে আপনার পরীক্ষার সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us