/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/28/fat-loss-signs-2026-01-28-20-11-30.jpg)
Fat Loss Signs: ওজন হ্রাসের সংকেত চিনে নিন।
Fat Loss Signs: অনেকেই ভাবেন ওজন কমলে প্রথমেই তা ধরা পড়বে দাঁড়িপাল্লায় বা পোশাক ঢিলে হওয়ায়। কিন্তু বাস্তবে fat loss শুরু হলে শরীর অনেক সূক্ষ্ম এবং কখনও কখনও অদ্ভুত সংকেত দিতে শুরু করে, যা আমরা সহজেই উপেক্ষা করি। ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া, আগের তুলনায় বেশি ঠান্ডা লাগা, মুড হঠাৎ ভালো বা খারাপ হয়ে যাওয়া—এই লক্ষণগুলো অনেকের কাছেই বিভ্রান্তিকর মনে হতে পারে।
নবি মুম্বইয়ের গাইনোকোলজিস্ট ডা. মল্লিকা সুরভে সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনই কিছু 'weird but common' পরিবর্তনের কথা তুলে ধরেছেন, যা fat loss-এর সময় শরীরে দেখা যায়। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এগুলো সবসময় খারাপ নয়, বরং অনেক ক্ষেত্রে শরীরের ভেতরের পরিবর্তনের স্বাভাবিক ইঙ্গিত।
fat loss শুরু হলে ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া একটি সাধারণ বিষয়। কারণ চর্বি কোষ শুধু শক্তি নয়, জলও ধরে রাখে। যখন শরীর সেই ফ্যাট ভাঙতে শুরু করে, তখন সেই অতিরিক্ত জল প্রস্রাবের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। এই কারণেই অনেকেই ডায়েট বা ব্যায়াম শুরু করার প্রথম দিকে বেশি বার টয়লেটে যেতে লক্ষ্য করেন।
আরও পড়ুন- কফি ছাড়ায় শরীর, স্নায়ু তরতাজা! জানুন বনিতা সান্ধুর ফিটনেস ফান্ডা
অনেকের আরেকটি অভিজ্ঞতা হল হঠাৎ ঠান্ডা বেশি লাগা, বিশেষ করে হাত-পা ঠান্ডা হয়ে যাওয়া। এর পেছনেও রয়েছে ফ্যাট কমে যাওয়ার প্রভাব। শরীরের চর্বি আমাদের প্রাকৃতিক insulation হিসেবে কাজ করে। ফ্যাট কমলে সেই সুরক্ষা স্তরও কমে যায়, ফলে ঠান্ডা বেশি অনুভূত হতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে resting metabolic rate সামান্য কমলেও এই অনুভূতি বাড়তে পারে।
আরও পড়ুন- প্রতিদিন রাতে ঘুমানোর আগে এই তেল লাগান, বগলের কালো দাগ ও দুর্গন্ধ ধীরে কমতে পারে
fat loss চলাকালীন ঘামের গন্ধ বদলে যেতেও পারে। এটা অনেকের কাছে অস্বস্তিকর লাগলেও চিকিৎসকদের মতে, শরীর যখন ফ্যাটকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে, তখন ketone তৈরি হয়। এই ketone সাময়িকভাবে শরীরের গন্ধে পরিবর্তন আনতে পারে। সাধারণত এটি ক্ষতিকর নয়, যদি পর্যাপ্ত খাবার ও জল গ্রহণ করা হয়।
আরও পড়ুন- মস্তিষ্ক সুস্থ থাকবে, স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ৬টি সহজ অভ্যাসের ওপর জোর দিচ্ছেন স্নায়ু বিশেষজ্ঞরা
শুধু শারীরিক নয়, মানসিক পরিবর্তনও fat loss-এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। এই সময় leptin, ghrelin, cortisol এবং insulin-এর মতো হরমোনে ওঠানামা করে। leptin কমে গেলে ক্ষুধা বাড়তে পারে, ghrelin-এর পরিবর্তনে appetite কখনও বেশি কখনও কম মনে হতে পারে। শুরুতে cortisol বাড়লে মুড সুইং, বিরক্তি বা ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন- কিডনির স্বার্থে কোন ৬ খাবার এবং পানীয় ভুলেও খাবেন না, জেনে নিন বিশেষজ্ঞ কী বলছেন
তবে শরীর ধীরে ধীরে নতুন রুটিনের সঙ্গে মানিয়ে নিলে এই হরমোনগুলো স্থিতিশীল হতে শুরু করে। তখন অনেকেই লক্ষ্য করেন, ঘুম ভালো হচ্ছে, মন শান্ত লাগছে এবং মানসিক স্পষ্টতা বাড়ছে। এই কারণেই অনেকের ক্ষেত্রে প্রথম দিকে মুড খারাপ থাকলেও পরে হঠাৎ ভালো লাগতে শুরু করে।
সব ওজন হ্রাস স্বাস্থ্যকর নয়
তবে সব fat loss-এর লক্ষণ যে স্বাস্থ্যকর হবে, এমন নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, healthy fat loss হলে শক্তি মোটামুটি স্থিতিশীল থাকে, ঘুম ভালো হয়, নারীদের ক্ষেত্রে মাসিক চক্র স্বাভাবিক থাকে এবং দৈনন্দিন কাজ বা ব্যায়ামে দুর্বলতা আসে না। এর বিপরীতে অতিরিক্ত বা অস্বাস্থ্যকর fat loss হলে দেখা দিতে পারে চরম ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, চুল পড়া, হরমোনের গোলমাল, বারবার অসুস্থ হওয়া বা মুখ খুব শুকনো এবং কান্ত দেখানো।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, শরীর কেমন অনুভব করছে। শুধু ওজন কমছে কি না, সেটাই একমাত্র মানদণ্ড হওয়া উচিত নয়। fat loss-এর লক্ষ্য হওয়া উচিত সামগ্রিক সুস্থতা, যাতে শরীর ও মন দুটোই ভালো থাকে। কোনও লক্ষণ যদি অতিরিক্ত বা দীর্ঘস্থায়ী মনে হয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us