/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/16/fatty-fish-2025-11-16-22-32-31.jpg)
Fatty Fish: হৃদরোগ কমাতে খান মাছ। কোন মাছ খাবেন?
Fatty Fish: হৃদরোগ আজ বিশ্বজুড়ে মৃত্যুর অন্যতম প্রধান কারণ। বয়স, জিনগত সমস্যা, হাই কোলেস্টেরল, স্ট্রেস এবং অস্বাস্থ্যকর খাবারের কারণে হৃদরোগের ঝুঁকি দ্রুত বাড়ছে। কিন্তু ভালো খবর হল—খাদ্যতালিকায় কিছু সহজ পরিবর্তন আনলেই হৃদপিণ্ডের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। এর মধ্যে হৃদরোগ কমানোর ক্ষেত্রে সবচেয়ে কাজের এবং বিজ্ঞানসম্মত খাবার হল চর্বিযুক্ত মাছ বা ফ্যাটি ফিশ।
এই মাছগুলো স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী
স্যামন, সার্ডিন, ম্যাকেরেল, ট্রাউটের মত মাছগুলোতে প্রচুর পরিমাণে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। এই উপকারি চর্বি হৃদপিণ্ডকে বহু দিক থেকে সুরক্ষা দেয়। এর ফলে রক্তনালীর প্রদাহ কমে, ধমনীর শক্ত হয়ে যাওয়া ধীর হয়, রক্ত সঞ্চালন উন্নত হয়, নাইট্রিক অক্সাইড উৎপাদন বাড়িয়ে রক্তনালীর প্রসারণ সহজ করে, খারাপ কোলেস্টেরল তৈরি কমায়, ট্রাইগ্লিসারাইড কমায়, ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়ায়। এগুলো একসঙ্গে কাজ করে হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক এবং করোনারি ধমনী রোগের ঝুঁকি অত্যন্ত কমিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন- কেনার দরকার নেই, এই সবজি দিয়েই ঘরে বানান দুর্দান্ত ফেসওয়াশ, মুখ হবে ঝলমলে!
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, যাঁরা নিয়মিত ওমেগা-৩ সমৃদ্ধ মাছ খান, তাদের এন্ডোথেলিয়াল ফাংশন উন্নত হয়। অর্থাৎ রক্তনালীর প্রসারণ-সংকোচন ক্ষমতা ভালো থাকে। এতে ধমনীর ভেতর প্লাক জমা কমে এবং রক্ত জমাট বাঁধার প্রবণতাও হ্রাস পায়। হার্ট অ্যাটাকের পর সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীদের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে— যাঁরা সপ্তাহে ২–৩ বার মাছ খেয়েছেন, তাঁদের পুনরায় হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমে গিয়েছে।
আর পড়ুন- সাদা পোশাকে লেগে যাওয়া রং নিয়ে চিন্তায়? দূর করুন এই সহজ ঘরোয়া কায়দায়
গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব দেশ যেমন জাপান বা স্ক্যান্ডিনেভিয়া অঞ্চলের মানুষ নিয়মিত চর্বিযুক্ত মাছ খান, তাঁদের মধ্যে হৃদরোগের হার তুলনামূলকভাবে খুব কম। এসব অঞ্চলে মানুষের খাদ্যতালিকায় মাছের পরিমাণ বেশি এবং ফলস্বরূপ হৃদরোগজনিত মৃত্যুও কম। এটি স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে চর্বিযুক্ত মাছের সুরক্ষামূলক প্রভাব বাস্তবেই কার্যকর এবং উপকারী।
আরও পড়ুন- এই গির্জা তৈরি হয়েছে ৪০ হাজার মানুষের হাড় দিয়ে! ভয়ংকর এই গির্জার রহস্য জানলে আঁতকে উঠবেন
অনেকেই ভুল ধারণায় ভোগেন যে চর্বিযুক্ত মাছ দামী, দূষিত বা সহজে পাওয়া যায় না। কিন্তু বাস্তবে স্যামন, সার্ডিন বা ট্রাউটের মতো মাছগুলোতে পারদের পরিমাণ খুবই কম এবং সেগুলো নিয়মিত খাওয়া নিরাপদ। এমনকি দেশীয় ইলিশ, রুইয়ের মাথা, চিতল, মাগুর বা অন্যান্য দেশজ চর্বিযুক্ত মাছে উপকারী চর্বির পরিমাণ কম নয় এবং এগুলোও হৃদপিণ্ডের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
আরও পড়ুন- এই গির্জা তৈরি হয়েছে ৪০ হাজার মানুষের হাড় দিয়ে! ভয়ংকর এই গির্জার রহস্য জানলে আঁতকে উঠবেন
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসকরা সপ্তাহে অন্তত দুই থেকে তিনবার চর্বিযুক্ত মাছ খাদ্যতালিকায় রাখার পরামর্শ দেন। প্রতিবার প্রায় একশ থেকে একশ পঞ্চাশ গ্রামের মতো পরিমাণ যথেষ্ট। তবে মাছ সবসময় না ভেজে সিদ্ধ, পাতলা ঝোল, গ্রিল বা বাষ্পে রান্না করা ভালো, কারণ তেলের অতিরিক্ত ব্যবহার উপকারের বদলে ক্ষতি করতে পারে। চর্বিযুক্ত মাছের পুষ্টিগুণ বজায় রাখতে অতি মশলা বা অতিরিক্ত লবণ ব্যবহার না করাই শ্রেয়।
হৃদরোগ প্রতিরোধে চর্বিযুক্ত মাছ নিয়মিত খাওয়া শুধুমাত্র আজকের জন্য নয়, এটি ভবিষ্যতের জন্যও একটি ভালো। এই অভ্যাস হৃদপিণ্ডকে শক্তিশালী রাখে, রক্তনালীকে নমনীয় রাখে, রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমায়। সবই একসঙ্গে করতে পারে এই চর্বিযুক্ত মাছ। তাই খাদ্যতালিকায় সপ্তাহে মাত্র দু'বার এই মাছ রাখলে দীর্ঘমেয়াদে অসাধারণ উপকার পাওয়া যায়। চিকিৎসকরাও বারবার উল্লেখ করেন যে সঠিক খাদ্যাভ্যাসই হৃদরোগ থেকে দূরে থাকার সবচেয়ে সহজ এবং সঠিক উপায়।
যাঁরা মাছ পছন্দ করেন না বা যাঁদের বিশেষ কারণে মাছ খাওয়া নিষেধ, তাঁরা ফ্ল্যাক্সসিড, আখরোট বা কুমড়োর বীজ থেকেও কিছুটা উপকারী চর্বি পেতে পারেন। তবে এই উপাদানগুলো কখনোই চর্বিযুক্ত মাছের সম্পূর্ণ বিকল্প নয়। তাই যাঁদের পক্ষে সম্ভব, তারা নিয়মিত এই মাছ খেলে হৃদপিণ্ড বহু বছর সুস্থ ও শক্তিশালী রাখতে পারেন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us