/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/15/7-fireproof-animals-2025-11-15-19-42-55.jpg)
7 Fireproof Animals: আগুনে না পোড়া প্রাণী।
7 Fireproof Animals: আমরা সাধারণত ভাবি, আগুন, ভয়াবহ তাপ বা নিউক্লিয়ার বিস্ফোরণের ধ্বংসযজ্ঞে সব প্রাণীই মারা যায়। বাস্তবে বেশিরভাগ প্রাণীর ক্ষেত্রেই সেটা সত্যি। কিন্তু প্রকৃতির নিয়মে কিছু প্রাণী আছে যাদের শরীর, কোষ এবং বিবর্তন এমনভাবে তৈরি—যেখানে ভয়ংকর তাপ, তেজস্ক্রিয় বিকিরণ, এমনকি মহাশূন্যের ভয়াবহ পরিবেশও তাদের থামাতে পারে না। অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি—এদের মধ্যে দুইটি প্রাণী হয়তো আপনার ঘরেই রয়েছে!
নীচে এমন ৭টি প্রাণীর তালিকা দেওয়া হল, যারা পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর পরিবেশেও বেঁচে থাকার ক্ষমতা রাখে।
১. টারডিগ্রেড (Tardigrades) — পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণী
টারডিগ্রেড বা 'ওয়াটার বেয়ার' পৃথিবীর সবচেয়ে টেকসই প্রাণী। এরা সবকিছু শুকিয়ে গেলেও বাঁচে, ফুটন্ত জলে বাঁচে, বরফের মধ্যে জমে বাঁচে, মানুষের সহ্যক্ষমতার ১,০০০ গুণ রেডিয়েশনেও বেঁচে থাকে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয়— এদেরকে মহাকাশের শূন্যতায় পাঠানো হয়েছিল, যেখানে অক্সিজেন নেই, তাপমাত্রা ভয়ংকর এবং সূর্যের কসমিক রেডিয়েশন মারাত্মক। তবুও তারা জীবিত অবস্থায় ফিরে এসেছে। বিজ্ঞানীদের মতে, পৃথিবী যদি আবারও কোনও মহাপ্রলয়ে ধ্বংস হয়ে যায়—টারডিগ্রেডের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।
আরও পড়ুন- সন্ধ্যায় বানিয়ে ফেলুন মুচমুচে চিজ পকোড়া, পরিবারের লোকজনের মুখে লেগে থাকবে!
২. আরশোলা (Cockroaches) — নিউক্লিয়ার বোমায়ও শেষ হয় না
তেলাপোকা বা আরশোলাকে নিয়ে অনেক কৌতুক রয়েছে যে তারা 'নিউক্লিয়ার যুদ্ধেও বেঁচে যাবে'— যদিও পুরোপুরি সত্য না, তবুও এটা আংশিক সত্য। তেলাপোকা মানুষের তুলনায় ১০ গুণ বেশি রেডিয়েশন সহ্য করতে পারে। প্রায় ১,০০০ র্যাডস বিকিরণেও বাঁচে। হিরোশিমা-নাগাসাকির ধ্বংসস্তূপেও বেঁচে ছিল। তাই, তারা আপনার বাড়িতে শুধু বিরক্তিই তৈরি করে না। তাদের দেখাও একটা বিরাট অভিজ্ঞতা সঞ্চয়।
আরও পড়ুন- ভারতের এই ৫টি স্থাপত্যের বয়স ৫০০ বছরেরও বেশি, গিয়েছেন কখনও?
৩. উড ফ্রগ (Wood Frog) — বরফ হয়েও আবার জেগে ওঠে
উড ফ্রগ মানে 'বরফ ব্যাঙ'। উত্তর আমেরিকার এই ব্যাঙ শীতে পুরোপুরি জমে বরফ হয়ে যায়। হৃদস্পন্দন বন্ধ, শ্বাস বন্ধ, শরীরের ৬৫% বরফে পরিণত হয়। তবুও বসন্তে গলে ওঠার পর আবার স্বাভাবিকভাবে বাঁচে ও লাফায়। যদিও তারা আগুন বা রেডিয়েশন প্রতিরোধী নয়, তবে তাদের ‘সাসপেন্ডেড লাইফ’ ক্ষমতা গবেষকদের আজও বিস্মিত করে।
আরও পড়ুন- সকাল নাকি বিকেল, সূর্যের আলো থেকে কখন বেশি ভিটামিন ডি মেলে?
৪. ব্র্যাকোনিড বোলতা (Braconid Wasps) — তেজস্ক্রিয়তা সহ্য করতে পারে
ব্র্যাকোনিড পরিবারের অনেক বোলতা উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয়তা সহ্য করতে পারে। তাদের জিনগত গঠন এতটাই শক্তিশালী যে কোষের ক্ষতিও অনেক সময় ঠিক হয়ে যায়। নিউক্লিয়ার দুর্ঘটনায় পতিত অঞ্চলে এদের দ্রুত বেড়ে ওঠা এদের অভিযোজন ক্ষমতার উদাহরণ।
আরও পড়ুন- সকালে হাঁটার আগে শুধু খেয়ে নিন এই জিনিসটা, বড়সড় রোগভোগ থেকে বেঁচে যাবেন
৫. পিঁপড়ে (Ants) — রেডিওঅ্যাকটিভ বাংকারেও বেঁচে থাকে
রাশিয়ার একটি পরিত্যক্ত নিউক্লিয়ার বাংকারে বিজ্ঞানীরা একটি বিশাল পিঁপড়ের উপনিবেশ খুঁজে পেয়েছেন। আলো নেই, খাবার নেই, চারদিকে তেজস্ক্রিয় দেয়াল। তবুও তারা বেঁচে ছিল! মরা পিঁপড়ে খেয়ে, বেঁচে থাকা পিঁপড়ে নতুন উপনিবেশ গড়েছিল। যা প্রকৃতির এক অবিশ্বাস্য উদাহরণ।
৬. পায়রোফিলিক বিটল (Pyrophilic Beetles) — আগুন দেখলে ছুটে যায়
এই বিটলগুলিকে বলা হয় ‘অগ্নিপ্রেমী পোকা’। বন আগুন দেখলে তারা কাছে চলে আসে, জ্বলন্ত কাঠে ডিম পাড়ে, তাদের শরীরের সেন্সর ৫০ কিলোমিটার দূরের আগুনও টের পায়। এত তাপেও তারা কীভাবে বাঁচে? কারণ, তাদের এক্সোস্কেলেটন অত্যন্ত তাপ-সহনশীল।
৭. বিছে (Scorpions) — আগুন নয়, কিন্তু রেডিয়েশন থেকে বাঁচতে পারে
বিচ্ছুরা বা বিছেরা হাজার হাজার বছর ধরে বিপদজনক পরিবেশে টিকে আছে। উচ্চমাত্রার তেজস্ক্রিয়তায় সপ্তাহের পর সপ্তাহ বেঁচে থাকতে পারে এরা। ভয়ংকর তাপমাত্রাও সহ্য করতে সক্ষম। এ কারণেই তারা পৃথিবীর প্রাচীনতম বেঁচে থাকা প্রাণীদের তালিকায় রয়েছে।
আগুন, রেডিয়েশন, শূন্যতা—মানুষের কাছে যা ভয়ংকর, প্রকৃতির কিছু প্রাণীর কাছে তা কেবল আরেকটি চ্যালেঞ্জ।
টারডিগ্রেড, তেলাপোকা, পিঁপড়ে, বিছে—এরা প্রমাণ করে দিয়েছে, বিবর্তন কতটা বিস্ময়কর হতে পারে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us