/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/11/foot-health-warning-2025-12-11-18-06-04.jpg)
Foot Health Warning: পায়ের ব্যথায় সতর্ক থাকুন।
Foot Health Warning: পা মানুষের শরীরের এমন একটি অঙ্গ যা সারাদিনের সমস্ত ভার বহন করে। হাঁটা থেকে দৌড়নো—প্রতিটি কাজের ভিত্তিই হল শক্ত ও সুস্থ পা। অথচ আমরা অনেকেই পায়ের ব্যথাকে গুরুত্ব দিই না। ব্যথা থাকলেও প্রতিদিনের কাজের চাপে বা অবহেলার কারণে আমরা তা এড়িয়ে যাই। চিকিৎসকদের মতে, এই অবহেলাই ভবিষ্যতে বড় ধরনের পায়ের রোগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিদিনের কিছু সাধারণ অভ্যাস নীরবে পায়ের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে। সমস্যা ধীরে ধীরে বাড়লেও প্রথম দিকে সেগুলি ধরা পড়ে না, যতক্ষণ না ব্যথা তীব্র হয়ে ওঠে।
দৈনন্দিন এই সব অভ্যাসগুলোর বদল দরকার
দৈনন্দিন অভ্যাসগুলোর মধ্যে প্রথমেই আসে ঠিকভাবে জুতো না পরার ব্যাপার। অনেক সময় আমরা খুব টাইট বা স্টাইলিশ কিন্তু আরামহীন জুতো ব্যবহার করি। এতে চাপে পড়ে পায়ের আঙুলের স্বাভাবিক গঠন বদলে যেতে পারে। অতি টাইট জুতোয় আঙুলের মাঝের স্নায়ুতে চাপ পড়ে যন্ত্রণার সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, লম্বা সময় হাই হিল পরলে শরীরের ভারসাম্য সামনের দিকে সরে যায়। এর ফলে গোড়ালি, হাঁটু এমনকী কোমরেও ব্যথা বাড়তে পারে। দীর্ঘদিন হাই হিল পরার অভ্যাস গোড়ালির জয়েন্ট দুর্বল করে এবং হাঁটার ধরন বদলে দেয়।
আরও পড়ুন- শাক ধোয়ার সময় এই ভুলটা করছেন না তো? বিরাট বিপদে পড়তে পারেন কিন্তু
অনেকেই বাড়িতে নরম মেঝেতে হাঁটার অভ্যাস থাকলেও আধুনিক বাসার কঠিন মার্বেলে বা টাইলসের ওপর খালি পায়ে হাঁটেন। এতে গোড়ালিতে ধাক্কা লাগে এবং হাঁটার সময় শক শোষণের ক্ষমতা কমে যায়। ফলে হিল পেইন (heel pain) এবং প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস (plantar fasciitis) দেখা দেয়। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ক্ষতিকর অভ্যাস। চাকরি বা কাজের কারণে যদি আপনাকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয় তবে পায়ের রক্তসঞ্চালন ধীর হয়ে যায়। এতে গোড়ালি ফুলে যাওয়া, ব্যথা এবং ভারী ভাব অনুভূত হয়।
আরও পড়ুন- ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কি সত্যিই ওজন কমায়? নতুন গবেষণায় মিলল চমকপ্রদ তথ্য!
পায়ের ত্বকও শরীরের অন্যান্য অংশের মতোই যত্ন চায়। অনেকেই গোড়ালির শুষ্কতা ও ফাটা চামড়াকে গুরুত্ব দেন না। কিন্তু শুষ্ক ফাটা গোড়ালি পায়ের ত্বকের প্রতিরক্ষামূলক আবরণকে দুর্বল করে দেয়। এতে ব্যাকটেরিয়া সহজে ঢুকে ইনফেকশন হতে পারে। স্নান শেষে পা ভালোভাবে শুকানো এবং নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার না করলে এই সমস্যা আরও বাড়ে। পায়ের আঙুলের মাঝে আর্দ্রতা জমে ফাংগাল ইনফেকশন (fungal infection) হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন- শীতকালে ভুল করে এই ৫টি খাবার খাবেন না, খেলে পরিবার বারবার অসুস্থ হবে!
আরেকটি সাধারণ অভ্যাস হল ভুলভাবে নখ কাটা। অনেকেই নখকে বেঁকিয়ে কাটেন, যা ইনগ্রোন টোনেইল (ingrown toenail) হওয়ার অন্যতম কারণ। নখের ধার ত্বকের ভেতরে ঢুকে তীব্র ব্যথা ও ইনফেকশন তৈরি করে। একই জুতো প্রতিদিন ব্যবহার করাও পায়ের ক্ষতি করে। জুতোয় সারাদিনের ঘাম থেকে আর্দ্রতা তৈরি হয়, যা শুকোতে না পেরে ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস বাড়ার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করে। তাই প্রতিদিন এক জুতো ব্যবহার করা স্বাস্থ্যসম্মত নয়।
আরও পড়ুন- বারবার রঙের ঝামেলা নেই, এই ঘরোয়া উপাদানে চুল করুন জঙ্গলের মত ঘন, কালো
এছাড়া অনেকেই পায়ের ব্যথাকে উপেক্ষা করেন। বিশেষজ্ঞরা বলেন, প্ল্যান্টার ফ্যাসাইটিস (plantar fasciitis) বা টেন্ডন স্ট্রেইন (tendon strain)–এর মত সমস্যায় শুরুতেই বিশ্রাম এবং চিকিৎসা প্রয়োজন। ব্যথা উপেক্ষা করলে সমস্যা বেড়ে দীর্ঘস্থায়ী রোগে রূপ নেয়। পা ফুলে যাওয়া বা তীব্র ব্যথা দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
পায়ের স্বাস্থ্য রক্ষায় জুতোর সঠিক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আরামদায়ক, বাঁকহীন, যথেষ্ট কুশনযুক্ত জুতো পায়ের আর্চকে সাপোর্ট করে। শুষ্কতা এড়াতে প্রতিদিন পা ময়েশ্চারাইজ করা দরকার। পায়ের নখ সোজা করে কাটা উচিত যাতে ত্বকের ভেতরে ঢুকে ব্যথা না তৈরি করে। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কাজ করলে মাঝে মাঝে একটু হাঁটা বা বসে বিশ্রাম নেওয়া জরুরি। স্নান শেষে পা ভালোভাবে মুছে ফেলা এবং নরম তোয়ালে দিয়ে শুকানো উচিত। পুরোনো জুতো বদলাতে দেরি করা উচিত নয়। কারণ জুতোর সোল ক্ষয়ে গেলে পায়ের সাপোর্ট কমে যায়।
সুস্থ পায়ের জন্য এমন ছোট অভ্যাসই বড় পরিবর্তন আনে। প্রতিদিন পায়ের যত্ন নিলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ব্যথা, ইনফেকশন বা জয়েন্ট সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। নিজের পায়ের অবস্থার প্রতি সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নেওয়া—এই দুটোই সুস্থ জীবনের পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us