/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/16/foot-odor-remedy-2025-12-16-19-11-47.jpg)
Foot Odor Remedy: পায়ের দুর্গন্ধ দূর করার উপায় জেনে নিন।
Foot Odor Remedy: পায়ের দুর্গন্ধ এমন একটি সমস্যা, যা অনেক সময় শারীরিকের চেয়ে মানসিক অস্বস্তি বেশি তৈরি করে। অফিস, বন্ধুবান্ধবের আড্ডা কিংবা গণপরিবহণে জুতা খুলতে হলেই অস্বস্তিতে পড়েন অনেকে। চিকিৎসা বিজ্ঞানে এই সমস্যাকে ব্রোমোডোসিস বলা হয়। এটি খুব সাধারণ হলেও অবহেলা করলে সমস্যা বাড়তে পারে।
পায়ের দুর্গন্ধের মূল কারণ
পায়ের দুর্গন্ধের মূল কারণ হল ঘাম এবং ব্যাকটেরিয়া। শরীরের অন্যান্য অংশের তুলনায় পায়ের ত্বকে ঘামগ্রন্থির সংখ্যা বেশি। জুতা ও মোজার ভেতরে আটকে থাকা ঘাম উষ্ণ ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তৈরি করে, যা ব্যাকটেরিয়া ও কখনও ছত্রাক বৃদ্ধির জন্য আদর্শ। এই জীবাণুগুলি ঘাম ও মৃত চামড়া ভেঙে এমন রাসায়নিক তৈরি করে, যেখান থেকে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়।
আরও পড়ুন- অর্শ সারাতে কাজে লাগান এই ঘরোয়া উপাদানগুলো, জানুন চিকিৎসার সহজ পদ্ধতি!
শীতকালে বা দীর্ঘ সময় জুতা-মোজা পরে থাকলে এই সমস্যা আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে রেক্সিন, প্লাস্টিক বা ভারী লেদারের জুতা বাতাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। যাঁদের স্বাভাবিকভাবেই ঘাম বেশি হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে দুর্গন্ধের সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। হরমোনের পরিবর্তন, হাইপারহাইড্রোসিস, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া এবং খাদ্যাভ্যাসও এজন্য দায়ী হতে পারে।
আরও পড়ুন- শাড়ি পরলেও হতে পারে ক্যানসার? লক্ষণ জেনে সাবধানে থাকার পথ বাতলেছেন বিশেষজ্ঞরা
পায়ের দুর্গন্ধ দূর করতে প্রথম ও সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা। প্রতিদিন অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল সাবান দিয়ে পা ধুয়ে ভালো করে শুকিয়ে নেওয়া প্রয়োজন, বিশেষ করে পায়ের আঙুলের ফাঁকে। সেখানে আর্দ্রতা জমে থাকলে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বৃদ্ধি পায়। মরা চামড়া পরিষ্কার রাখা ও সময়মতো নখ কাটা দুর্গন্ধ কমাতে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন- ভেষজ পদ্ধতিতে খুশকি থেকে মুক্তি পাওয়ার ১৫টি ঘরোয়া উপায়
ঘরোয়া প্রতিকারের মধ্যে ইপসম সল্ট অত্যন্ত কার্যকর। হালকা গরম জলে আধা কাপ ইপসম সল্ট মিশিয়ে ১৫–২০ মিনিট পা ভিজিয়ে রাখলে ঘাম কমে এবং ব্যাকটেরিয়া নিয়ন্ত্রণে থাকে। ভিনেগার মিশ্রিত জলেও একইভাবে পা ভেজানো যেতে পারে, কারণ ভিনেগারের অম্লত্ব ব্যাকটেরিয়ার বৃদ্ধি কমায়।
আরও পড়ুন- এসআইআর নিয়ে উদ্বেগে ভুগছেন? কমানোর সবচেয়ে সহজ উপায় এগুলোই
বাইরে থেকে ফিরে অ্যালকোহল ওয়াইপ বা পাতলা কাপড়ে অল্প অ্যালকোহল দিয়ে পা মুছলে দুর্গন্ধ সৃষ্টিকারী জীবাণু নষ্ট হয়। ট্যালকম পাউডার, বোরিক অ্যাসিড বা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ফুট পাউডার ব্যবহার করলে পা শুষ্ক থাকে এবং ঘাম কম হয়।
জুতা এবং মোজা বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও সচেতন হওয়া প্রয়োজন। সুতির মোজা এবং বাতাস চলাচলযোগ্য চামড়া বা কাপড়ের জুতা পায়ের জন্য সবচেয়ে ভালো। প্রতিদিন মোজা পরিবর্তন করা এবং একই জুতা প্রতিদিন না পরে মাঝে বিরতি দেওয়া জরুরি। সপ্তাহে অন্তত এক–দু’দিন জুতা রোদে শুকিয়ে নিলে ভেতরের জীবাণু অনেকটাই নষ্ট হয়ে যাবে।
যাঁরা দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করেন, তাঁদের সুযোগ পেলে অফিসে স্যান্ডেল ব্যবহার করা উচিত। বাড়িতে ফিরেই জুতা খুলে পায়ে বাতাস লাগানো দরকার। ভেজা বা ঘেমে যাওয়া জুতা না শুকিয়ে ব্যবহার করলে দুর্গন্ধ আরও বাড়ে। এই সব নিয়ম মেনেও যদি দুর্গন্ধ না কমে, তবে সমস্যা ছত্রাকজনিত হতে পারে, যেমন অ্যাথলিটস ফুট। সে ক্ষেত্রে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ বা পোডিয়াট্রিস্টের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে প্রেসক্রিপশন অ্যান্টিফাঙ্গাল বা অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল ওষুধ দেওয়া হয়।
পায়ের দুর্গন্ধ কোনও গুরুতর রোগ না হলেও অবহেলা করলে আত্মবিশ্বাসে বড় আঘাত লাগতে পারে। নিয়মিত যত্ন, সঠিক অভ্যাস ও ঘরোয়া প্রতিকার মেনে চললে এই সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us