নগদহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাস্তবায়ন, এখনও চলছে বিনিময় প্রথা!

"নোট বাতিলের সময় যখন তাঁরা দেখেন যে প্রয়োজন মেটানোর মতো নগদ টাকা নেই তাদের কাছে, তখন তাঁরা বিনিময় প্রথায় ভর করে জীবনযাপন শুরু করেন"।

By: Kolkata  Published: Jul 14, 2019, 7:14:38 PM

দুর্নীতিমুক্ত ভারত গড়তেই নগদহীন অর্থনীতির প্রয়োজন, বিভিন্ন সময় এমনটাই বলে থাকেন মোদী সরকার। কিন্তু, এসব তো ২০১৪ সালের পরের কথা। অথচ এই দেশের একাধিক গ্রামে দীর্ঘকাল ধরেই চলছে নগদহীন অর্থনীতি। তবে, নগদের বিকল্প এখানে ডিজিটাল পেমেন্ট নয়, বরং সাবেক বিনিময় প্রথা। রাজস্থানের কারাউলি জেলার লাদোর খুর্দ, কালান, বাহরাই, মেনগ্রা এবং হাকিমপুর গ্রামে গেলে হঠাৎ মনে হতে পারে, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের নগদহীন অর্থনীতি বাস্তবায়িত হয়ে গিয়েছে প্রত্যন্ত ভারতেও। কিন্তু, না। লেনদেন এখানে অনলাইনে নয়, বরং লাইনে দাঁড়িয়ে প্রাচীন বিনিময় প্রথার মাধ্যমে। কারণ, এই গ্রামগুলিতে নেই টাকা।

গ্রামের পথে একটু হাঁটতেই চোখে পড়ল, বছর পঁয়ত্রিশের নীতুদেবী শাড়ির আঁচলে গম বেঁধে নিয়ে যাচ্ছেন কাছের রামস্বরূপ শর্মার দোকানে। দাড়িপাল্লায় মেপে দোকনদার জানান, ২৫০ গ্রাম গম। এর দাম ৪ টাকা। সেই দামে নীতু দেবী বাড়ি নিয়ে গেলেন দুটি দেশলাই বাক্স ও একটি মোমবাতি।

ভারতে যেখানে পেটিএম, গুগল পে এবং ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ে কেনাকাটার রেওয়াজ চালু হয়েছে, সেখানে ভারতের একাধিক প্রত্যন্ত গ্রামে আজও চলছে বিনিময় প্রথা। এক বাসিন্দা জানাচ্ছেন, এই জেলায় রোজগার করার জন্য চাষবাসই একমাত্র ভরসা। তাদের অর্থনৈতিক অবস্থাও বেশ খারাপ। কাজেই বাড়িতে উৎপন্ন শস্য লেনদেন করেই চলে সংসার।

আরও পড়ুন: মাঝসমুদ্রের ঝড়ে ভারত থেকে বাংলাদেশে তলিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন, জানালেন প্রত্যক্ষদর্শী

নীতু দেবীকে প্রশ্ন করা হয়, ‘ডিজিটাল অর্থনীতি’ কী জানেন? তিনি বলেন, “শুনেছি, তবে কোথায় ব্যবহার হয় জানি না”। এদিকে দোকানদার শর্মা জানাচ্ছেন, এই বিনিময় প্রথায় তিনি মাসে মোট ১০০ কেজি গম লাভ করতে পারেন।

উল্লেখ্য, এই জেলায় নেই কোনও ব্যাঙ্ক, আর এটিএম-এর তো প্রশ্নই ওঠে না। তবে এই জেলার পাশে একটা ছোট ব্যাঙ্ক আছে, কিন্তু অতটা দূর গিয়ে টাকা তোলা বা জমা করা ব্যায় সাপেক্ষ বলে জানাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা।

রাজস্থান সেন্টার ফর বাজেটের প্রবীণ বিশ্লেষক নেসার আহমেদ বলেন, “নোট বাতিল, বিনিময় প্রথাকে আরও সচল করে তুলেছে এই এলাকায়। মুদ্রার আবিষ্কারের আগে, বিনিময় প্রথাই ছিল একমাত্র উপায়। নোট বাতিলের সময় যখন নগদের আকাল শুরু হয়, তখন আরও বেশি মাত্রায় বিনিময় প্রথা নির্ভর হয়ে ওঠেন তাঁরা। তবে এর আগেও বেশ কিছু অর্থনৈতিকভাবে পিছিয়ে পড়া মানুষ এই প্রথায় কেনাবেচা করতেন”।

হাকিমপুরের দোকানদার পিন্টু শর্মা জানিয়েছেন, অর্থনৈতিক ব্যবস্থা কেবল ব্যবসা নয় বরং বিশ্বাসের প্রতীক। লেনদেন গ্রাহক এবং দোকানদারের মধ্যে বিশ্বাসের বন্ধন তৈরি করে। নোটবন্দি হওয়ার পর, এই বিশ্বাস আরও বৃদ্ধি পেয়েছে, বলেই মনে করেন তিনি।

Get all the Latest Bengali News and West Bengal News at Indian Express Bangla. You can also catch all the Latest News in Bangla by following us on Twitter and Facebook


Title: less-cash villages to cashless ones: নগদহীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার বাস্তবায়ন, এখনও চলছে বিনিময় প্রথা!

Advertisement