Gen Z: চরম সংকটে জেনারেশন জেড! কীভাবে পারবে বাঁচতে?

Gen Z Identity Burnout: ভয়ংকর এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে জেনারেশন জেড। পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র সংকট! দিশাহারা পরিস্থিতিতে অনেকেই বুঝতে পারছেন না কী করবেন।

Gen Z Identity Burnout: ভয়ংকর এক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছে জেনারেশন জেড। পরিচয় নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র সংকট! দিশাহারা পরিস্থিতিতে অনেকেই বুঝতে পারছেন না কী করবেন।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Gen Z: বর্তমান প্রজন্ম ডিজিটাল দুনিয়ায় বড় হয়েছে।

Gen Z: বর্তমান প্রজন্ম ডিজিটাল দুনিয়ায় বড় হয়েছে।

Gen Z Identity Burnout: SIR পরিস্থিতিতে নিজেদের চরম বিপদে বলে মনে করছেন অনেকেই। পরিচয় এবং নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন বহু মানুষই। নবপ্রজন্ম বা জেনারেশন জেডের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নথিপত্রও দাখিল করতে হচ্ছে। তবে, সেটাই তাঁদের হয়রানির একমাত্র কারণ নয়। জেনারেশন জেড বর্তমানে চরম বিপদে। তার কারণটা অন্য।

Advertisment

আজকের তরুণ প্রজন্ম, বিশেষত জেনারেশন জেড, এমন এক সময়ে বড় হয়ে উঠছে যখন অনলাইন উপস্থিতি জীবনের অপরিহার্য অংশে পরিণত হয়েছে। কারও ক্ষেত্রে এটি পরিচয়ের মাধ্যম, কারও কাছে সৃজনশীলতার প্ল্যাটফর্ম, আবার অনেকে সামাজিক যোগাযোগের একমাত্র ভরসা হিসেবে ব্যবহার করেন অনলাইনকে। 

সামাজিক মাধ্যমের দুনিয়া

কিন্তু এই ব্যবহার যতটা সহজ দেখায়, বাস্তবে তার মানসিক প্রভাব ততটা কিন্তু সরল নয়। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের নানা রূপ ধরে রাখার বাধ্যবাধকতা বর্তমানে তরুণদের মধ্যে এক নতুন ধরনের ক্লান্তি তৈরি করছে। সেটা হল, ডিজিটাল পরিচয়জনিত মানসিক অবসাদ।

Advertisment

আরও পড়ুন- শরীরের এই জায়গায় জন্মদাগ? জ্যোতিষমতে এটা অতি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত, না জানাটা বোকামো!

অনেক তরুণই জানাচ্ছেন যে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাঁদের তিন বা তারও বেশি পরিচয় তৈরি হয়ে গেছে। একটি সাজানো, উজ্জ্বল ও নিখুঁত পরিচয় থাকে ছবি-ভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে; যেখানে প্রতিটি পোস্ট হতে হয় আকর্ষণীয় ও নিখুঁত। একই সময়ে পেশাজীবী পরিচয় ধরে রাখতে হয় অন্য একটি প্ল্যাটফর্মে, যেখানে নিজেকে দেখাতে হয় মনোযোগী, সফল এবং প্রতিনিয়ত উন্নতির পথে থাকা এক ব্যক্তি হিসেবে। আবার বন্ধু বা পরিবারকে দেওয়া বার্তাগুলোতে থাকতে হয় স্বাভাবিক, সহজ, প্রতিদিনের মত।

আরও পড়ুন- পায়ের তলায় পেঁয়াজ রেখে ঘুমোলে ভাবতেও পারবেন না এত উপকার! কী বলছেন বিশেষজ্ঞ?

দিনের পর দিন এতগুলো চরিত্রের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা তরুণদের ওপর মানসিক চাপ তৈরি করছে। অনেকেই জানান, তাঁরা বুঝতে পারেন না আসলে তাঁদের প্রকৃত সত্তা কোনটি। এই প্রশ্নই তাঁদের মধ্যে বাড়িয়ে দিচ্ছে অস্থিরতা, বিভ্রান্তি এবং ক্লান্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অস্বস্তির নামই পরিচয়-বার্নআউট—যখন মানুষ নিজের বাস্তব সত্তা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে, সেটা এই অস্বস্তি তৈরি করে।

আরও পড়ুন- অতিরিক্ত চা-কফি পান করলে বিরাট বিপদ! চরম সতর্কবাণী চিকিৎসকের

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আরেকটি বড় চাপ হল তুলনা। অনেকে বলেন, অন্যের সাফল্য, ভ্রমণ, সম্পর্ক বা অর্থনৈতিক উন্নতির সাজানো ছবির সঙ্গে নিজের বাস্তব জীবন তুলনা করে তাঁরা হীনমন্যতায় ভোগেন। যদিও সবাই জানেন যে অনলাইন দুনিয়া বাস্তবের প্রতিচ্ছবি নয়, তবু অবচেতনে ওই তুলনাগুলো মনকে দুর্বল করে দেয়। এতে তৈরি হয় নিজেকে যথেষ্ট মনে না হওয়ার ভয়, ব্যর্থতার আশঙ্কা এবং ঘটে আত্মসম্মানের অবনতি।

আরও পড়ুন- শীতকালে এই ৬টি খাবার, রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করে

মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ক্রমাগত নোটিফিকেশন, বিভিন্ন অ্যাপের মধ্যে ঘন ঘন পরিবর্তন এবং দ্রুতগতির তথ্যপ্রবাহ মস্তিষ্ককে দীর্ঘ সময় ধরে সতর্ক অবস্থায় রাখে। এতে মনোযোগের ঘাটতি, স্মৃতিশক্তির সমস্যা, উত্তেজনা বৃদ্ধি ও মানসিক অস্থিরতা দেখা দেয়। বিশেষত তরুণদের মস্তিষ্ক, যাঁদের মানসিক বিকাশ ঘটে চলেছে, এই অতিরিক্ত ডিজিটাল চাপের ফলে দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল যুক্ত থাকার অপরাধবোধ। অনেক তরুণ জানান, তাঁরা যখন ফোন পাশে রাখেন বা উত্তর দিতে দেরি করেন, তখন মনে হয় তাঁরা কাউকে হতাশ করছেন। আবার অনেকের ক্ষেত্রে পেশাগত কারণে যে কোনও মুহূর্তে সক্রিয় থাকার চাপ আরও তীব্র হয়ে ওঠে। ফলে তাঁরা কখনই মনকে বিশ্রাম দেওয়ার সুযোগ পান না। দিনের শেষে তাঁরা অনুভব করেন—শরীর ক্লান্ত, মন ক্লান্ত, কিন্তু মাথা স্থির হতে চাইছে না।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন, এই ক্লান্তি দূর করার উপায় ডিজিটাল দুনিয়া থেকে পুরো বিচ্ছিন্ন হওয়া নয়। বরং প্রয়োজনে ডিজিটাল ব্যবহারের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ তৈরি করা। কোন নোটিফিকেশন জরুরি, কোনটা নয়—তা ঠিক করা, কখন সক্রিয় থাকবেন আর কখন থাকবেন না—সেটা নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারণ করা এবং নিজের জীবনের কিছু মুহূর্ত অফলাইনে রেখে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বজায় রাখাই এক্ষেত্রে সঠিক রাস্তা। প্রযুক্তি যেন আমাদের জীবনের সহায়ক হয়, নিয়ন্ত্রক নয়—এই উপলব্ধিই সুস্থ মানসিক জীবনের পথে প্রথম পদক্ষেপ।

তরুণদের এখন বুঝতে শুরু করতে হবে যে সাজানো-গোছানো অনলাইন জগতের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ তাঁদের বাস্তব অনুভূতি, সম্পর্ক, আনন্দ এবং স্বস্তি। অনলাইন পরিচয় যতই দৃষ্টিনন্দন হোক, নিজের প্রকৃত সত্তার সঙ্গে সংযোগ থাকাই আসল মানসিক সুস্থতার চাবিকাঠি। ডিজিটাল দুনিয়া তাঁদের সাফল্যের পথ তৈরি করতে পারে, কিন্তু সেই পথকে শান্ত, স্থির ও সুখময় করে তুলতে পারে তাঁদের নিজেদের সচেতনতা।

Gen Z Identity