/indian-express-bangla/media/media_files/2025/08/11/health-tips-2025-08-11-14-16-16.jpg)
Health Tips: স্বাস্থ্য টিপস।
Good quality sleep benefits: বর্তমান ব্যস্ত জীবনে ঘুমকে অনেকেই সবচেয়ে সহজে ত্যাগযোগ্য অভ্যাস বলে মনে করেন। কাজের চাপ, সামাজিক দায়িত্ব কিংবা সুস্থ থাকার তাগিদে অনেকেই ঘুম কমিয়ে ভোরে ওঠার অভ্যাস গড়ে তুলছেন। কিন্তু স্নায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস অনেক সময় শরীরের ক্ষতি করে। ভালো ঘুম মানে শুধু বেশি সময় শুয়ে থাকা নয়, বরং শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য প্রয়োজনীয় পুনর্গঠনের সময় পাওয়া।
চিকিৎসকরা যা জানিয়েছেন
চিকিৎসকদের মতে, কম ঘুম শরীরে একাধিক জটিল রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পর্যাপ্ত এবং গভীর ঘুম না হলে হৃদরোগ, স্ট্রোক, ডায়াবেটিস, স্থূলতা, অবসাদ, স্মৃতিভ্রংশ এমনকী অকালমৃত্যুর আশঙ্কাও বাড়ে। ঘুম কম হলে রক্তচাপ ঠিক থাকে না, রক্তে শর্করার ভারসাম্য নষ্ট হয়, খিদে নিয়ন্ত্রণকারী হরমোন এলোমেলো হয়ে যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ে। তাই শুধু ব্যায়াম করলেই শরীর সুস্থ থাকবে, এমন ধারণা অনেক সময় বিভ্রান্তিকর হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন- খাবারের পর এলাচ চিবোলে শরীরে ঠিক কী ঘটে? জানলে অবাক হবেন
ভালো ঘুম শরীরের প্রায় সব ব্যবস্থার ওপর প্রভাব ফেলে। গভীর ঘুমের সময় মস্তিষ্ক দিনের বর্জ্য পরিষ্কার করে, স্মৃতি গুছিয়ে নেয় এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ভারসাম্য ফেরায়। স্বপ্নঘুমের সময় শেখার ক্ষমতা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক দৃঢ়তা বৃদ্ধি পায়। একইসঙ্গে শরীরের ভেতরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা, রক্তচাপ, ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে শুরু করে।
আরও পড়ুন- সংগীত জগতের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার নিয়ে অজানা তথ্য, জানলে অবাক হবেন!
অনেকেই মনে করেন ভোরে ওঠা মানেই সুস্থ জীবন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, যদি তা স্বাভাবিক ঘুমের চক্রের সঙ্গে না মেলে, তবে এই অভ্যাস ক্ষতিকর হতে পারে। বেশির ভাগ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ক্ষেত্রে নিয়মিত ভোর ৪টেয় ঘুম থেকে উঠলে গভীর ও স্বপ্নঘুম অসম্পূর্ণ থেকে যায়, বিশেষ করে যাঁরা রাতে দেরিতে ঘুমোতে যান। এর ফলে শরীরে ঘুমের ঘাটতি শুরু হয়। যদিও বাইরে থেকে এই ঘাটতি বোঝা যায় না। নিজেকে কর্মচঞ্চল মনে হয়।
আরও পড়ুন- মাখানা খেয়ে হাড়কে লোহার মত শক্ত করতে চান? জানুন খাওয়ার সঠিক পদ্ধতি
ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে গেলে শরীরে মানসিক চাপের হরমোন অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে এমন হলে ক্লান্তি, উদ্বেগ, অকারণ খিদে, মনোযোগের অভাব এবং বিরক্তি বাড়তে পারে। মস্তিষ্ক কঠোর নিয়মের চেয়ে ছন্দ মেনে চললে বেশি ভালো কাজ করে। তাই জোর করে একটি সময়সূচি চাপিয়ে দিলে তা শৃঙ্খলাবদ্ধ মনে হলেও স্নায়ুতন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
আরও পড়ুন- মদ্যপান করেন না, তবুও থাকছে লিভার ক্যানসারের ভয়, দূর করবেন কীভাবে?
অনেকে প্রশ্ন করেন, তবে কি ঘুম ব্যায়াম বা খাদ্যাভ্যাসের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। চিকিৎসকদের মতে, বিষয়টি প্রতিযোগিতার নয়। ঘুম হল ভিত্তি। ঘুম ঠিক না থাকলে খিদে বেড়ে যায়, শরীরচর্চার ইচ্ছা কমে, পেশির পুনর্গঠন বাধাগ্রস্ত হয় এবং খাবার সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত ভুল হতে থাকে। কিন্তু ঘুম ঠিক হলে মানুষ অজান্তেই ভালো খাবার বেছে নেয়, বেশি নড়াচড়া করে এবং মানসিকভাবে সতেজ থাকে।
/filters:format(webp)/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/01/good-quality-sleep-benefits-2026-02-01-09-16-36.jpg)
ভালো ঘুম বলতে শুধু নির্দিষ্ট সংখ্যক ঘণ্টায় ঘুম নয়। এর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে। প্রথমত, পর্যাপ্ত সময় ঘুমানো। অধিকাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য সাধারণত সাত থেকে নয় ঘণ্টা ঘুম প্রয়োজন। এর থেকে কম হলে শরীরে ধীরে ঘুমের দেনা জমে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতি করে। দ্বিতীয়ত, ঘুমের গভীরতা। গভীর ও স্বপ্নঘুম যথেষ্ট পরিমাণে না হলে শরীর ঠিকভাবে সেরে উঠতে পারে না। তৃতীয়ত, নিয়মানুবর্তিতা। প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে ঘুমোতে যাওয়া ও জেগে ওঠা, শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়িকে সুস্থ রাখে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ভালো মানের ঘুম (good quality sleep benefits) কেবল ক্লান্তি দূর করাতেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি শরীর ও মস্তিষ্কের জন্য সবচেয়ে শক্তিশালী ও কম পরিশ্রমের স্বাস্থ্যক্ষেত্রে বিনিয়োগ। ব্যায়াম, সঠিক খাবার এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ জীবনযাপন অবশ্যই প্রয়োজন, কিন্তু তার ভিত্তি যদি ঘুম না হয়, তবে উপকার পুরোপুরি পাওয়া যায় না।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us