/indian-express-bangla/media/media_files/2025/07/19/fruits-for-digestion-2025-07-19-10-47-45.jpg)
Fruits for digestion: পেটের জন্য উপকারী ফল।
Guava Health Benefits: বাজারে আকছার পাওয়া যাওয়া বিভিন্ন ফলকে আমরা অনেক সময়ই সাধারণ একটি ফল হিসেবে দেখে থাকি, কিন্তু আধুনিক পুষ্টিবিজ্ঞান এবং চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে এই ফলের গুণাগুণ যে কোনও দামি সুপারফুডের থেকে কম নয়। ভারতীয় বাড়িতে সহজেই পাওয়া যায় এমন ফলে রয়েছে অসাধারণ পুষ্টিগুণ, যা নিয়মিত খেলে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এমনকী ক্যান্সারের ঝুঁকিও অনেকটাই কমানো সম্ভব। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় এইরকম একটি ফলকে গুরুত্ব দিলে সামগ্রিক স্বাস্থ্যে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
চিকিৎসক যা জানিয়েছেন
গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. শুভম বাৎস্য সামাজিক মাধ্যমে তাঁর সাম্প্রতিক এক ভিডিওতে জানিয়েছেন, পেয়ারায় কমলার তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি ভিটামিন সি রয়েছে। ভিটামিন সি শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রক্তনালিকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। নিয়মিত পেয়ারা খাওয়ার অভ্যাস ধমনীর ভেতরে চর্বি জমা রোধ করতে সাহায্য করে, ফলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমে।
আরও পড়ুন- লোকটাক ছাড়াও রয়েছে অচেনা স্বর্গ, মণিপুরে ঘুরে দেখতেই হবে এই জায়গাগুলি
হৃদরোগের ক্ষেত্রে পেয়ারার সবচেয়ে বড় ভূমিকা হল এর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার সমৃদ্ধ। পেয়ারায় থাকা দ্রবণীয় ফাইবার খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে এবং ভালো কোলেস্টেরলের মাত্রা বজায় রাখে। এর ফলে হৃদপিণ্ডের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না এবং রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকে। নিয়মিত সকালের টিফিনে পেয়ারার অন্তর্ভুক্তি হৃদযন্ত্রকে দীর্ঘদিন সুস্থ রাখতে সহায়ক হতে পারে।
আরও পড়ুন- ত্বক কুঁচকে গেছে? এইভাবে টমেটোর ফেসপ্যাক বানালেই মিলবে উজ্জ্বলতা
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পেয়ারাকে বিশেষভাবে উপকারী ফল হিসেবে ধরা হয়। পেয়ারার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম, অর্থাৎ এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায় না। পেয়ারায় থাকা জৈব সক্রিয় উপাদানগুলি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা বাড়াতে সাহায্য করে, ফলে টাইপ ২ ডায়াবেটিস রোগীদের রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। অনেক বিশেষজ্ঞই পরামর্শ দেন, ডায়াবেটিস রোগীরা যদি ফল খেতে চান, তাহলে পেয়ারার মতো কম শর্করাযুক্ত ফল বেছে নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।
আরও পড়ুন- ফ্রিজে রাখা এই ৫ খাবার ফের গরম করে খেলে বিষিয়ে যেতে পারে শরীর, সতর্কবার্তা চিকিৎসকের
হজমের সমস্যায় ভোগা মানুষের জন্যও পেয়ারার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। এতে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যআঁশ রয়েছে, যা অন্ত্রের গতিশীলতা উন্নত করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্য, অ্যাসিডিটি ও গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত পেয়ারা খাওয়ার অভ্যাস পেট পরিষ্কার রাখে এবং আলসারের মতো সমস্যার ঝুঁকি কমাতে পারে। যারা দীর্ঘদিন ধরে হজমের সমস্যায় ভুগছেন, তাঁদের জন্য পেয়ারাকে খাদ্যতালিকায় রাখা উপকারী হতে পারে।
আরও পড়ুন- আয়ু বাড়বে, দিনে মাত্র ৫ মিনিট করুন এই কাজ, কী বলছে গবেষণা?
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও পেয়ারার অবদান উল্লেখযোগ্য। এতে থাকা পটাশিয়াম শরীরের সোডিয়াম ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে, ফলে রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। নিয়মিত পেয়ারা খাওয়ার অভ্যাস হৃদযন্ত্র ও কিডনির ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং রক্তচাপজনিত জটিলতা কমাতে সহায়ক হয়।
পেয়ারার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি। এতে থাকা লাইকোপিন ও ফ্ল্যাভোনয়েড শরীরের কোষকে ফ্রি র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে রক্ষা করে। এর ফলে অকাল বার্ধক্য, ত্বকের সমস্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি কমে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সারা বছর সহজলভ্য এমন একটি ফল যদি নিয়মিত খাওয়া যায়, তাহলে ভিটামিন সি-এর অভাবজনিত বহু স্বাস্থ্য সমস্যা দূর করা সম্ভব।
ডা. বাৎস্যের মতে, ভারতে আমের মরসুমে আমরা যেভাবে আমের দিকে অতিরিক্ত নজর দিই, সেই একই গুরুত্ব যদি পেয়ারাকেও দেওয়া হয়, তাহলে দেশের সামগ্রিক পুষ্টি পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। সারা বছর পাওয়া যায় এমন এই ফলটি শুধু সস্তা নয়, বরং স্বাস্থ্যরক্ষায় অত্যন্ত কার্যকর। সব মিলিয়ে বলা যায়, পেয়ারাকে অবহেলা না করে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় পেয়ারাকে অন্তর্ভুক্ত করা একটি সহজ কিন্তু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস। কারণ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, হজমের সমস্যা কিংবা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে পেয়ারার ভূমিকা অনস্বীকার্য।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us