Superfood Benefits: কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হবে এবং কোলেস্টেরল দ্রুত কমে যাবে, প্রতিদিন এই দেশি ফলটি খাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা

Superfood Benefits: কোষ্ঠকাঠিন্য, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে কিউই–অ্যাভোকাডোর চেয়েও বেশি কার্যকর এই দেশি ফল। জানুন কেন এই ফল সাধারণ মানুষের আসল সুপারফুড।

Superfood Benefits: কোষ্ঠকাঠিন্য, কোলেস্টেরল, ডায়াবেটিস ও ওজন নিয়ন্ত্রণে কিউই–অ্যাভোকাডোর চেয়েও বেশি কার্যকর এই দেশি ফল। জানুন কেন এই ফল সাধারণ মানুষের আসল সুপারফুড।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
High-Calorie Fruits: এই ফলগুলিতে রয়েছে প্রচুর ক্যালোরি

Fruits: কোন ফল সুপারফুড?

Superfood Benefits: আজকের ব্যস্ত জীবনে কোষ্ঠকাঠিন্য, হাই কোলেস্টেরল ও হজমের সমস্যা প্রায় প্রতিটি ঘরে দেখা যায়। অনেকেই ভাবেন এই সমস্যাগুলি সমাধানের জন্য বিদেশ থেকে আমদানি করা কিউই বা অ্যাভোকাডোর মতো দামি ফল খাওয়া ছাড়া উপায় নেই। কিন্তু বাস্তবে আমাদের হাতের কাছেই রয়েছে এমন একটি দেশি ফল, যা নিয়মিত খেলে হজমশক্তি উন্নত হয়, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয় এবং রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। সেই ফলটি হল পেয়ারা।

Advertisment

গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট যা জানিয়েছেন

বিখ্যাত গ্যাস্ট্রোএন্টেরোলজিস্ট ডা. পাল মানিকম সম্প্রতি তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া মাধ্যমে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে পেয়ারা কোনও সাধারণ ফল নয়। এটি এমন একটি প্রাকৃতিক সুপারফুড, যা নিয়মিত খেলে শরীরের একাধিক সমস্যা একসঙ্গে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তিনি জানিয়েছেন, পেয়ারায় থাকা দ্রবণীয় ফাইবার অন্ত্রের স্বাভাবিক গতিশীলতা বজায় রাখতে সাহায্য করে, যার ফলে দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য থেকেও ধীরে ধীরে মুক্তি পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন- ব্যায়াম ছাড়াই ওজন কমালেন বিদ্যা বালান! ৪৭ বছরের অভিনেত্রীর মেকওভারের রহস্য কী?

কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগা মানুষদের জন্য পেয়ারা অত্যন্ত কার্যকর একটি ফল। পেয়ারার ফাইবার মল নরম করে এবং অন্ত্রে জল ধরে রাখতে সাহায্য করে, ফলে মলত্যাগ সহজ হয়। যারা প্রায়ই পেট পরিষ্কার না হওয়ার সমস্যায় ভোগেন, তাদের জন্য সকালে বা বিকেলে একটি মাঝারি আকারের পেয়ারা খাওয়ার অভ্যাস খুবই উপকারী হতে পারে। নিয়মিত এই অভ্যাস বজায় রাখলে ওষুধের ওপর নির্ভরশীলতাও অনেক ক্ষেত্রে কমে যায়।

আরও পড়ুন- কী করলে ২০২৬ সালে ভালো থাকবে শরীর ও মন? খোঁজ পান সুস্থ থাকার গোপন চাবিকাঠির

পেয়ারার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ গুণ হল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে এর ভূমিকা। পেয়ারায় থাকা ফাইবার অন্ত্রে কোলেস্টেরলের শোষণ কমিয়ে দেয়, যার ফলে রক্তে এলডিএল বা খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা ধীরে ধীরে হ্রাস পায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের ওপর। যাঁরা হার্টের সমস্যার ঝুঁকিতে রয়েছেন বা যাঁদের কোলেস্টেরল একটু বেশি, তাঁদের জন্য পেয়ারা একটি নিরাপদ ও প্রাকৃতিক খাদ্য হতে পারে।

আরও পড়ুন- কেন নতুন বছরের প্রথম দিনেই পালিত হয় কল্পতরু উৎসব? জেনে নিন আসল কারণ

ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রেও পেয়ারা একটি ভরসাযোগ্য ফল। পেয়ারার গ্লাইসেমিক সূচক তুলনামূলকভাবে খুব কম, সাধারণত ১২ থেকে ২৪-এর মধ্যে থাকে। এর অর্থ হল, এটি খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। পেয়ারায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইবার রক্তে গ্লুকোজের শোষণ ধীরে করে, যা ডায়াবেটিস ও প্রি-ডায়াবেটিক পর্যায়ের মানুষদের জন্য বিশেষভাবে উপকারী।

আরও পড়ুন- ২০২৬-এ কবে পাচ্ছেন কতদিনের ছুটি? বেড়ানোর পরিকল্পনা থাকলে বুলিয়ে নিন চোখ!

যারা ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন, তাদের জন্যও পেয়ারা একটি আদর্শ ফল। পেয়ারার উচ্চ ফাইবার দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ফলে অপ্রয়োজনীয় খাওয়ার প্রবণতা কমে। এতে ক্যালোরি তুলনামূলকভাবে কম হলেও পুষ্টিগুণ প্রচুর, যা ডায়েট চলাকালীন শরীরকে দুর্বল হতে দেয় না। তাই ওজন কমাতে গিয়ে যারা বারবার ক্ষুধার সমস্যায় ভোগেন, তাঁরা ডায়েটে পেয়ারা রাখতে পারেন।

অনেকের মনে প্রশ্ন থাকে, লাল পেয়ারা না সাদা পেয়ারা—কোনটি বেশি উপকারী। ডা. পাল মানিকমের মতে, দুই ধরনের পেয়ারারই আলাদা উপকারিতা রয়েছে। লাল পেয়ারা রক্তাল্পতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষভাবে উপযোগী। এতে থাকা ভিটামিন সি শরীরে আয়রন শোষণ বাড়াতে সাহায্য করে। অন্যদিকে সাদা পেয়ারায় চিনি তুলনামূলকভাবে কম থাকে, যা ডায়াবেটিস রোগী ও কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগা মানুষদের জন্য বেশি উপকারী।

সব মিলিয়ে বলা যায়, কিউই বা অ্যাভোকাডোর মতো দামি ফলের পেছনে না ছুটে প্রতিদিন একটি করে পেয়ারা খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুললে হজমশক্তি বাড়ে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা উন্নত হয় এবং একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যা প্রাকৃতিকভাবেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। সাধারণ মানুষের জন্য পেয়ারাই হতে পারে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর প্রাকৃতিক ওষুধ।

benefits superfood