/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/29/breakfast-2025-12-29-10-01-50.jpg)
Breakfast mistakes gut health: জেনে নিন, ক্ষতিটা কী হচ্ছে!
Gut Health Alert: সুস্থ শরীরের মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে আছে আমাদের অন্ত্রের মধ্যে। আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, অন্ত্র শুধু খাবার হজমের কাজই করে না, বরং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা, মানসিক স্বাস্থ্য এমনকী ওজন নিয়ন্ত্রণেও বড় ভূমিকা রাখে। অথচ দিনের শুরুতে অর্থাৎ সকালের নাস্তায় আমরা এমন কিছু ভুল করে বসি, যার প্রভাব ধীরে ধীরে অন্ত্রকে ভিতর থেকে দুর্বল করে দেয়। এই ক্ষতি একদিনে বোঝা যায় না, কিন্তু সময়ের সঙ্গে তা মারাত্মক আকার নিতে পারে।
সকালের টিফিন হল শরীরের ইঞ্জিন চালু করার মতো। ঘুমের দীর্ঘ সময় পর এই খাবারই অন্ত্রকে সক্রিয় করে এবং উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলিকে শক্তি জোগায়। কিন্তু ব্যস্ত জীবনে অনেকেই তাজা রান্না এড়িয়ে প্যাকেটজাত বা ভাজা খাবারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। নেচার জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় উঠে এসেছে, এই ধরনের খাবারে থাকা কিছু রাসায়নিক উপাদান অন্ত্রের প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে নষ্ট করে দিতে পারে।
আরও পড়ুন- শীতের বিষণ্ণতা কাটাতে সহজ ও কার্যকর উপায়, পান মানসিক স্বস্তি, ফিরুন স্বাভাবিক জীবনে
বিশেষ করে প্যাকেটজাত বিস্কুট, কেক বা রেডি-টু-ইট খাবারে ব্যবহৃত ইমালসিফায়ার অন্ত্রের দেওয়ালে থাকা সুরক্ষাকবচকে দুর্বল করে দেয়। এই সুরক্ষা ভেঙে গেলে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া সহজেই রক্তে প্রবেশ করতে পারে। ফলে অন্ত্রে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ শুরু হয়, যাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে অনেক জটিল রোগের মূল কারণ বলা হয়।
আরও পড়ুন- প্রতিদিন জলপাই তেল খেলে শরীরে কী ঘটে? জানলে আজ থেকেই বদলে ফেলবেন অভ্যাস!
সকালের ভাজা খাবার যেমন পুরি, কচুরি বা সিঙারা দেখতে যতটা লোভনীয়, অন্ত্রের জন্য ততটাই ক্ষতিকর। এই খাবার হজম হতে অনেক সময় নেয় এবং অন্ত্রে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে। নিয়মিত এমন খাবার খেলে গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য এবং পেট ভারী থাকার সমস্যা দেখা দেয়। ধীরে ধীরে অন্ত্রের স্বাভাবিক গতি কমে যায়।
আরও পড়ুন- দ্রুত ওজন কমাতে চান? বাবা রামদেবের এই সহজ যোগ ও জীবনযাপন পদ্ধতি মানলেই শরীরে আসবে বদল!
ময়দা দিয়ে তৈরি খাবারও অন্ত্রের নীরব শত্রু। বিস্কুট বা সাদা রুটি অন্ত্রে লেগে থেকে হজম প্রক্রিয়াকে ধীর করে দেয়। এতে প্রয়োজনীয় ফাইবার না থাকায় ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলি বেঁচে থাকতে পারে না। এর ফলে অন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হয়, যাকে ডিসবায়োসিস বলা হয়। এই অবস্থায় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়।
আরও পড়ুন- শীতকালে মাথাব্যথা ও মাইগ্রেন কেন বাড়ে? জানুন কারণ এবং আয়ুর্বেদিক প্রতিকার
অনেকেই ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে চা বা কফি পান করেন। এই অভ্যাস অন্ত্রের জন্য মোটেও ভালো নয়। খালি পেটে ক্যাফেইন প্রবেশ করলে পেটে অ্যাসিডের মাত্রা হঠাৎ বেড়ে যায়। এর ফলে অন্ত্রের আস্তরণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পুষ্টি শোষণের ক্ষমতা কমে যায়। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস বজায় থাকলে আলসার এবং অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
প্যাকেটজাত চিপস, চানাচুর বা নোনতা খাবারেও লুকিয়ে আছে বিপদ। অতিরিক্ত লবণ ও প্রিজারভেটিভ অন্ত্রের ভালো ব্যাকটেরিয়াকে ধ্বংস করে দেয়। এতে শুধু হজমের সমস্যা নয়, শরীরে জলাভাব এবং রক্তচাপ বৃদ্ধির আশঙ্কাও দেখা দেয়।
সকালে খালি পেটে অতিরিক্ত চিনি বা প্যাকেটজাত ফলের রস খাওয়াও অন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর। এতে হঠাৎ রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায় এবং বিপাক ক্রিয়া ব্যাহত হয়। এর প্রভাব পড়ে লিভার এবং অগ্ন্যাশয়ের ওপর, যা ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পুষ্টিবিদদের মতে
পুষ্টিবিদদের মতে, অন্ত্র সুস্থ রাখতে হলে সকালের খাবার বা ব্রেকফাস্ট হতে হবে হালকা, তাজা এবং ফাইবার সমৃদ্ধ। ডালিয়া, ওটস, পোহা, মুগ ডাল, রাগি দোসা কিংবা তাজা ফল অন্ত্রের জন্য অত্যন্ত উপকারী। এই ধরনের খাবার ভালো ব্যাকটেরিয়াকে বাঁচিয়ে রাখে এবং সারা দিন শক্তি জোগায়। সব মিলিয়ে বলা যায়, সকালের নাস্তায় করা ছোট্ট একটি ভুলও দীর্ঘমেয়াদে অন্ত্রের বড় ক্ষতি করতে পারে। আজই যদি এই অভ্যাস বদলানো যায়, তাহলে ভবিষ্যতে বহু রোগ থেকে নিজেকে রক্ষা করতে পারবেন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us