/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/19/gut-health-and-diet-2025-12-19-12-57-08.jpg)
Gut Health and Diet: খান, এইসব হজম শক্তি বাড়ানোর খাবার।
Gut Health and Diet: আমাদের শরীরের পেট বা অন্ত্রকে অনেকেই শুধুমাত্র হজমের যন্ত্র হিসেবে ভাবেন। কিন্তু আধুনিক গবেষণা বলছে, গাট বা অন্ত্র আসলে একটি জটিল জীবন্ত ব্যবস্থা, যেখানে কোটি কোটি উপকারী ও ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া একসঙ্গে বসবাস করে। এই গাট মাইক্রোবায়োম আমাদের হজম, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা এমনকি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, আমরা প্রতিদিন কী খাচ্ছি তার ওপরই নির্ভর করে পেট কতটা সুস্থ থাকবে।
খাবারের উপাদান গুরুত্বপূর্ণ
ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার পেটের স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপাদানগুলির একটি। ফল, সবজি, শাকপাতা, ডাল ও সম্পূর্ণ শস্যে থাকা ডায়েটারি ফাইবার উপকারী ব্যাকটেরিয়াদের খাবার হিসেবে কাজ করে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলি ফাইবার ভেঙে এমন কিছু উপাদান তৈরি করে যা অন্ত্রের দেওয়ালকে মজবুত রাখে এবং হজম প্রক্রিয়াকে স্বাভাবিক রাখে। ফাইবার কম খেলে পেটের ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য কমে যায়, যার ফলে গ্যাস, কোষ্ঠকাঠিন্য ও অস্বস্তির মত সমস্যা দেখা দিতে পারে।
আরও পড়ুন- শরীর দিচ্ছে সতর্কতা! এই ৬ লক্ষণ অবহেলা করলে বাড়তে পারে থাইরয়েডের সমস্যা!
দইয়ের মত ফারমেন্টেড খাবার পেটের স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী। দই, কেফির, আচারজাত খাবার বা প্রাকৃতিকভাবে ফারমেন্টেড খাদ্যে থাকে প্রোবায়োটিক ব্যাকটেরিয়া। এই ভালো ব্যাকটেরিয়াগুলি অন্ত্রে গিয়ে ক্ষতিকর জীবাণুর বৃদ্ধি কমায় এবং হজম শক্তি উন্নত করে। নিয়মিত ফারমেন্টেড খাবার খেলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং অ্যান্টিবায়োটিক বা অনিয়মিত খাবারের কারণে হওয়া গাটের অর্থাৎ পেটের ক্ষতিও অনেকটা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন- বরফে জমিয়ে রাখা কোন খাবারগুলো ক্ষতি করছে আপনার শরীরের?
পেটের স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল নিয়মিত ভালো খাবার খাওয়ার অভ্যাস। মাঝে মাঝে স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেই পেট ভালো থাকবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। গবেষণা বলছে, দীর্ঘমেয়াদি খাদ্যাভ্যাসই পেটের পরিপাক যন্ত্রের ব্যাকটেরিয়ার গঠন নির্ধারণ করে। প্রতিদিন ফাইবার, উদ্ভিদভিত্তিক খাবার ও প্রোবায়োটিক খাবার খেলে পেট বা অন্ত্র ধীরে ধীরে শক্তিশালী ও স্থিতিশীল হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন- মানসিক স্বাস্থ্যের জেরেও বাড়তে পারে হাঁপানি? চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলল গবেষণায়!
উদ্ভিদভিত্তিক খাবার অন্ত্রের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে। শাকসবজি, ফল, বাদাম ও ডালে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট অন্ত্রের আস্তরণকে সুরক্ষা দেয়। এর ফলে অন্ত্র ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার মধ্যে সঠিক যোগাযোগ বজায় থাকে এবং দীর্ঘদিনের হজম সংক্রান্ত সমস্যা কমে আসে।
আরও পড়ুন- বাঁ কানে ‘শোঁ শোঁ’ শব্দ, কেন শোনা যায়, কখন এটি বিপজ্জনক হতে পারে?
অন্যদিকে অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার, চিনি ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট পেটের জন্য ক্ষতিকর। এই ধরনের খাবার ভালো ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা কমিয়ে দেয় এবং ক্ষতিকর জীবাণুর বৃদ্ধি বাড়ায়। এর ফলে পেট ফাঁপা, অনিয়মিত মলত্যাগ ও অস্বস্তির মত সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এই অভ্যাস চললে পেটে প্রদাহ সৃষ্টি হয়ে অন্যান্য শারীরিক সমস্যাও তৈরি হতে পারে।
পেটের সমস্যা শুধু হজমেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি আমাদের সামগ্রিক সুস্থতার সঙ্গেও জড়িত। সুস্থ অন্ত্র শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, প্রদাহ কমায় এবং মস্তিষ্কের সঙ্গে অন্ত্রের যোগাযোগ ভালো করে। এই পেট-মস্তিষ্ক যোগের জন্যই মানসিক চাপ, উদ্বেগ এমনকি মুডের ওপরও অন্ত্রের প্রভাব পড়ে। তাই সঠিক খাদ্যাভ্যাস মানেই শুধু ভালো হজম নয়, বরং সুস্থ শরীর এবং মন।
সব মিলিয়ে বলা যায়, প্রতিদিনের খাবারের ছোট ছোট পরিবর্তনই পেটের স্বাস্থ্যে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। নিয়মিত ফাইবার, উদ্ভিদভিত্তিক ও প্রোবায়োটিক সমৃদ্ধ খাবার খেলে অন্ত্র সুস্থ থাকে এবং শরীরও ভালোভাবে কাজ করে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us