/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/29/gym-fitness-2025-11-29-16-17-20.jpg)
Gym Mistake: জিমে এই ভুলগুলো এড়ান।
Gym Mistake: জিমে নিয়মিত পরিশ্রম, কঠোর ট্রেনিং, হেভি লিফটিং—সবই করার পরও অনেকের অভিযোগ থাকে যে শরীরে কোনও বিশেষ পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না। কেন এমনটা হয়? ফিটনেস কোচরা বারবার বলছেন, অনেক সময় বড় ভুলটি হয় খুব সাধারণ জায়গাতেই। সেটা হল—সেটের মাঝে আপনি কী করছেন, তা। এই ভুলটাই ধীরে ধীরে কমিয়ে দেয় ওয়ার্কআউটের ফলাফল। সম্প্রতি লাইফস্টাইল ও ফিটনেস কোচ কিটিজা ওজোলিনা (Kitija Ozolina) সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরেছেন সেই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি। তিনি লিখেছেন, জিমে অনেক মানুষ সেটের মাঝে বিশ্রামের সময় মোবাইল স্ক্রল করেন, সোশ্যাল মিডিয়া দেখেন বা বন্ধুদের সঙ্গে গল্পে মেতে ওঠেন। আর এখানেই লুকিয়ে রয়েছে বড় সমস্যার সূত্র।
কিটিজার মতে, সেটের মাঝে শরীরে যে তাপমাত্রা থাকে, সেই উষ্ণতাই মাংসপেশিকে সক্রিয় রাখে এবং স্নায়ুতন্ত্র (nervous system)–কে প্রস্তুত রাখতে সাহায্য করে। যখন কেউ বসে পড়েন, ফোন দেখেন বা দীর্ঘ বিরতি নেন, তখন শরীর দ্রুত ঠান্ডা হয়ে আসে। মাংসপেশি শিথিল হতে শুরু করে এবং মস্তিষ্ক এবং শরীরের সংযোগ (brain-body connection) দুর্বল হয়ে পড়ে। এর ফলে পরের সেটে ফর্ম ঠিক থাকে না, মাংসপেশির ক্ষমতাও কমে যায় এবং মোট ওয়ার্কআউটের ইন্টেনসিটি বা তীব্রতা অনেকটা নেমে যায়।
আরও পড়ুন- শরীরে পুষ্টির ঘাটতি হলে দেখাবে এই ৫ গোপন সিগন্যাল, সতর্ক করলেন চিকিৎসক
ফিটনেস এক্সপার্টরা বলছেন, সেটের মাঝে ফোন স্ক্রলিং করলে শুধু মনোযোগই নষ্ট হয় না, বরং হার্টরেটও দ্রুত কমে যায়। এই হার্টরেট ড্রপের কারণে শরীরের রিদম নষ্ট হয় এবং সংগৃহীত এনার্জির ব্যবহার কমে যায়। বিশ্রামের সময় দীর্ঘ হয়ে গেলে মাংসপেশির অ্যাক্টিভেশনও কমতে থাকে। এর ফলে মাংসপেশির কাজে ধারাবাহিকতা নষ্ট হয় এবং চূড়ান্ত ফলাফল হয় দুর্বল। তাই বিশেষজ্ঞদের মতে, সেটের মাঝে সম্পূর্ণ বিশ্রাম নেওয়ার বদলে ছোট্ট ওয়াক বা হাঁটাহাঁটি, দাঁড়িয়ে হালকা নড়াচড়া বা গভীর শ্বাস নেওয়ার অভ্যাস রাখা জরুরি। এতে শরীর সক্রিয় থাকে এবং পরের সেটে এনার্জি দ্রুত ফিরে আসে।
আরও পড়ুন- শীতকালে শিশুদের পুষ্টির সহজ জোগান, মাত্র কয়েক মিনিটে বানান এই পদ
শরীরচর্চার সংস্থা হলিস্টিক ওয়েলনেস এক্সপার্ট (Holistic Wellness Expert)-এর প্রেরণা ক্ষেত্রপালও এই বক্তব্যকে সমর্থন করেছেন। তাঁর মতে, জিমে সেটের মাঝে ফোনে ডুবে গেলে শরীরের রিদম নষ্ট হয়ে যায় এবং ব্রেন অ্যাক্টিভিটি কমে যায়। এর ফলে যে মনোযোগ দরকার, তা হারিয়ে যায়। শরীরের স্বাভাবিক রিকভারি টাইমও বাড়তে থাকে, যা একসময় ওয়ার্কআউটের ফলাফলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তিনি জানান, ফোন স্ক্রলিং করলে অনিচ্ছাকৃতভাবে বিশ্রামের সময় বেড়ে যায় এবং হার্টরেটও দ্রুত নীচে নেমে আসে। ফলে শরীর ঠান্ডা হয়ে যায় এবং পরের সেটে একই ইন্টেনসিটি বা গতি বজায় রাখা কঠিন হয়ে যায়।
আরও পড়ুন- চিকিৎসকের পরিচয়ে অভিনয় সত্ত্বাকে ঢাকেননি, জন্মদিনে অভিনেতা শুভেন্দু চট্টোপাধ্যায়কে স্মরণ
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক স্বাতী গায়কোয়াড় (Specialist Dr Swati Gaikwad) বলেছেন, শরীর যখন কঠোর ওয়ার্কআউটে যায়, তখন স্বাভাবিকভাবেই মাংসপেশির ভেতরের গ্লাইকোজেন দ্রুত খরচ হয়ে যায়। ফলে ক্লান্তি আসে এবং পেশি দুর্বল হয়ে যায়। সেটের মাঝে কী করছেন তা-ই অনেক সময় নির্ধারণ করে দেয় আপনি পরের সেটে কতটা শক্তি নিয়ে নামতে পারবেন। তিনি বিস্তারিত জানান, মাংসপেশি ক্লান্ত হলে শরীরে ইলেকট্রোলাইটও কমে যায়। তাই যথাযথ হাইড্রেশন, পুষ্টিকর খাবার এবং পর্যাপ্ত ঘুম–এই তিনটি বিষয় সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।
আরও পড়ুন- উখড়ার ৩০০ বছরের জাগ্রত সন্ন্যাসী কালী, এর অলৌকিক ইতিহাস শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে!
জিমে যাঁরা লক্ষ্য রাখেন না, তাঁরা সাধারণত শরীরকে বারবার ঠান্ডা হতে দেন। শরীর ঠান্ডা হলে সেটের মাঝে সময় বেশি লাগে এবং মাংসপেশি বারবার শিথিল হয়ে যায়। এর ফলে ইনজুরির সম্ভাবনাও বাড়ে। একইসঙ্গে, বেশি শরীরচর্চা (over-exercising) করলে শরীরের গ্লাইকোজেনের ভাণ্ডার (glycogen store) দ্রুত ফুরিয়ে যেতে থাকে, যা মাংসপেশির পরিশ্রম সহ্য করার ক্ষমতা কমিয়ে ফেলে। তাই কখন বিশ্রাম নিতে হবে, কতক্ষণ নিতে হবে এবং কীভাবে শরীরকে সক্রিয় রাখতে হবে—এই রুটিন জানা খুবই জরুরি।
অন্যদিকে, ফিটনেস কোচদের মতে, হালকা হাঁটা, গভীর নিঃশ্বাস নেওয়া এবং দাঁড়িয়ে সক্রিয়ভাবে বিশ্রাম নেওয়া (standing active rest) শরীরকে ঠিকভাবে প্রস্তুত রাখে। এতে শরীরের তাপমাত্রা কমে না গিয়ে স্থির থাকে। এতে হার্টরেট একটি নির্দিষ্ট পর্যায়ে থাকে এবং নার্ভাস সিস্টেম (nervous system)ও সক্রিয় (active mode)–এ থাকে। ফলে পরের সেটে লিফটিং বা কার্ডিও করা আরও সহজ হয়। সামগ্রিকভাবে, ফোকাস থাকে, মাংসপেশির ব্যবহার বাড়ে এবং ওয়ার্কআউটের রেজাল্ট চোখে পড়ে অনেক দ্রুত।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
ফিটনেস বিশেষজ্ঞদের মতে, যেহেতু ফিটনেস একটি সর্বাঙ্গীণ প্রক্রিয়া, তাই শুধু ব্যায়াম নয়, পুষ্টি, ঘুম, জলপান এবং হরমোনের ভারসাম্য (hormonal balance) বজায় রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীর ও মনকে সক্রিয় রেখে নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চললে ফলাফল খুব দ্রুতই পাওয়া যায়। তাই জিমে সক্রিয় থাকা যেমন জরুরি, তেমনই সেটের মাঝে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়া এড়িয়ে চলা উচিত।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us