Hair Regrowth Ayurvedic Remedy: টাক যত পুরনোই হোক, তাতে নাকি চুল গজাবে, কী জানিয়েছেন বাবা রামদেব?

Hair Regrowth Ayurvedic Remedy: টাক যত পুরনোই হোক মাথায় আবার চুল গজাতে পারে বলে দাবি বাবা রামদেবের। জেনে নিন টাক পড়ার আসল কারণ, আয়ুর্বেদিক প্রতিকার, যোগব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।

Hair Regrowth Ayurvedic Remedy: টাক যত পুরনোই হোক মাথায় আবার চুল গজাতে পারে বলে দাবি বাবা রামদেবের। জেনে নিন টাক পড়ার আসল কারণ, আয়ুর্বেদিক প্রতিকার, যোগব্যায়াম ও খাদ্যাভ্যাসের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Baba Ramdev: বাবা রামদেব।

Baba Ramdev: বাবা রামদেব।

Hair Regrowth Ayurvedic Remedy: বর্তমান সময়ে চুল পড়া এবং টাক পড়া একটি অত্যন্ত সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অল্প বয়সেই মাথার চুল পাতলা হয়ে যাওয়া বা সম্পূর্ণ টাক হয়ে যাওয়ার ঘটনা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। মানসিক চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন, ভেজাল খাবার এবং শরীরের ভেতরের অসামঞ্জস্যই এর প্রধান কারণ বলে মনে করা হয়। এই পরিস্থিতিতে যোগগুরু বাবা রামদেব আয়ুর্বেদের আলোকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিকার ও জীবনযাপনের পদ্ধতির কথা বলেছেন, যা নিয়ম মেনে অনুসরণ করলে চুলের গোড়া মজবুত হতে পারে এবং নতুন চুল গজানোর সম্ভাবনাও তৈরি হয়।

Advertisment

বাবা রামদেবের মতে, টাক পড়া শুধুমাত্র বাহ্যিক সমস্যা নয়, এটি শরীরের ভেতরের দুর্বলতার প্রতিফলন। পেট পরিষ্কার না থাকলে, রক্তে বিষ জমলে এবং মানসিক চাপ বেশি থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়ে মাথার ত্বকে। তাই চুলের চিকিৎসা শুরু করতে হলে আগে শরীরের ভেতরের ভারসাম্য ঠিক করা জরুরি।

বংশগত প্রভাব

টাক পড়ার অন্যতম বড় কারণ হলো বংশগত প্রভাব। তবে শুধু জেনেটিক কারণেই টাক পড়ে এমন ধারণা সম্পূর্ণ সঠিক নয়। হরমোনের ভারসাম্যহীনতা, অতিরিক্ত মানসিক চাপ, দীর্ঘদিনের অনিদ্রা, ভাজা ও অতিরিক্ত চিনিযুক্ত খাবার খাওয়া, কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনীর ব্যবহার এবং খুব গরম পানি দিয়ে নিয়মিত চুল ধোয়া চুলের ক্ষতির অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এগুলি ধীরে ধীরে চুলের গোড়াকে দুর্বল করে দেয় এবং একসময় চুল গজানোর ক্ষমতাই কমে যায়।

আরও পড়ুন- শীতের হিমেল হাওয়ায় সুখ খুঁজে পান, ঠান্ডায় কর্মক্ষমতা বাড়ে এই ৭ রাশির 

বাবা রামদেব একটি সহজ কিন্তু কার্যকর পদ্ধতির কথা বলেছেন যা নিয়মিত করলে অনেকেই উপকার পেয়েছেন। প্রতিদিন সকালে অথবা সন্ধ্যায় দুই হাতের নখ একসঙ্গে পাঁচ মিনিট ঘষতে হবে। এই অভ্যাস মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে সাহায্য করে, যার ফলে চুল পড়া কমে এবং নতুন চুল গজানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়।

আরও পড়ুন- মানিপ্ল্যান্টে এই দুই সাধারণ জিনিস বেঁধে দিলেই বদলে যাবে ভাগ্য, বিদায় নেবে অর্থকষ্ট!

চুলের তেলের ক্ষেত্রেও আয়ুর্বেদ বিশেষ গুরুত্ব দেয়। ভৃঙ্গরাজ তেল, নারকেল তেল অথবা সরিষার তেল মাথার ত্বকে নিয়মিত মালিশ করলে চুলের গোড়া শক্ত হয়। বাড়িতে তৈরি আয়ুর্বেদিক তেল ব্যবহার করলেও ভালো ফল পাওয়া যায়। বাবা রামদেবের মতে, নিয়মিত তেল মালিশ মাথার শুষ্কতা দূর করে এবং চুলের বৃদ্ধি স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন-  খাবার টেবিলে এই ৫ জিনিস রাখলেই শুরু ঘোর অমঙ্গল, পারিবারিক অশান্তি অনিবার্য!

পেঁয়াজের রস চুল গজানোর ক্ষেত্রে অত্যন্ত কার্যকর একটি প্রাকৃতিক উপাদান। প্রতিদিন রাতে মাথার ত্বকে পেঁয়াজের রস লাগিয়ে হালকা করে মালিশ করলে রক্ত চলাচল বৃদ্ধি পায়। সকালে মৃদু উপায়ে চুল ধুয়ে ফেললে ধীরে ধীরে চুলের ঘনত্ব বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন- হাতের তালুতে থাকা এই ৫ চিহ্ন একজন ব্যক্তিকে অত্যন্ত ধনী এবং সম্মানিত করে তোলে

যাঁদের মাথায় চুল একেবারে কমে গেছে, তাঁদের জন্য বাবা রামদেব একটি বিশেষ আয়ুর্বেদিক তেল তৈরির পরামর্শ দিয়েছেন। নারকেল তেল, মৌচাক এবং জবা পাতার রস একসঙ্গে কম আঁচে ফুটিয়ে এই তেল তৈরি করা যায়। নিয়মিত এই তেল মাথার ত্বকে লাগিয়ে মালিশ করলে চুলের গোড়া সক্রিয় হতে পারে।

যোগব্যায়াম ও প্রাণায়ামও চুলের সমস্যার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন অন্তত দশ থেকে পনেরো মিনিট প্রাণায়াম ও যোগব্যায়াম করলে মানসিক চাপ কমে, হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং এর প্রভাব সরাসরি চুলের উপর পড়ে। তবে যাঁদের শারীরিক সমস্যা রয়েছে, তাঁদের বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

খাদ্যাভ্যাস ঠিক না করলে কোনও চিকিৎসাই দীর্ঘস্থায়ী ফল দেয় না। বাবা রামদেব বলেন, পেট পরিষ্কার না থাকলে চুলের সমস্যা থেকেই যায়। তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় সবুজ শাকসবজি, ফল, অঙ্কুরিত শস্য এবং পর্যাপ্ত জল রাখা অত্যন্ত জরুরি। জাঙ্ক ফুড, অতিরিক্ত মশলাযুক্ত ও ভাজা খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই শ্রেয়।

সবশেষে বলা যায়, টাক পড়া বা চুল পড়া কোনও রাতারাতি হওয়া সমস্যা নয় এবং এর সমাধানও ধৈর্য ও নিয়মের উপর নির্ভর করে। আয়ুর্বেদিক প্রতিকার, সঠিক খাদ্যাভ্যাস, যোগব্যায়াম ও ইতিবাচক জীবনযাপন একসঙ্গে অনুসরণ করলে ধীরে ধীরে চুলের স্বাস্থ্যের উন্নতি সম্ভব।

দাবিত্যাগ: এই তথ্যগুলি সাধারণ জ্ঞানের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে। কোনও চিকিৎসা শুরু করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

hair remedy