/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/30/happy-new-year-2025-12-30-14-26-27.jpg)
Hangover Recovery Tips: হ্যাংওভার কাটানোর টিপস জেনে নিন।
Hangover Recovery Tips: বর্ষবরণ মানেই আনন্দ, উল্লাস, বন্ধুদের সঙ্গে পার্টি আর রাত জেগে উদযাপন। ৩১ ডিসেম্বরের রাত অনেকের কাছেই বছরের সবচেয়ে আনন্দের সময়। কিন্তু এই আনন্দের পরের সকালটা বেশিরভাগ মানুষের কাছেই হয়ে ওঠে কঠিন। ঘুম থেকে ওঠার সঙ্গেই মাথা ধরা, বমি ভাব, শরীর ভারী লাগা কিংবা অস্বাভাবিক ক্লান্তি হ্যাংওভারের পরিচিত লক্ষণ। কাজের দিনে যদি এই অবস্থায় অফিসে ফিরতে হয়, তাহলে সমস্যাটা আরও বেড়ে যায়।
হ্যাংওভারের মূল কারণ হল শরীরের অতিরিক্ত ডিহাইড্রেশন এবং প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও মিনারেলের ঘাটতি। অ্যালকোহল শরীর থেকে জল দ্রুত বের করে দেয়, যার ফলে মাথা ধরা ও দুর্বলতা দেখা দেয়। তাই এই সময় সবচেয়ে জরুরি বিষয় হল শরীরকে আবার হাইড্রেটেড করা এবং হালকা খাবারের মাধ্যমে শক্তি ফিরিয়ে আনা।
আরও পড়ুন- ঘণ্টার পর ঘণ্টা অফিসে বসে থাকার ফলে শক্ত হয়ে যাচ্ছে পিঠ? আরাম দেবে এই ৩ সহজ ব্যায়াম
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠেই শরীরের যত্ন নেওয়া শুরু করা উচিত। খালি পেটে চিনি ছাড়া লেবুর জল খেলে শরীর দ্রুত জল শোষণ করতে পারে এবং বমি ভাবও অনেকটা কমে। এর সঙ্গে তরমুজ, সবেদা কিংবা কমলা জাতীয় ফল খেলে শরীরে প্রাকৃতিক চিনি ও জল একসঙ্গে পৌঁছে যায়। এগুলি হজমে সহজ হওয়ায় পেটেও চাপ পড়ে না।
আরও পড়ুন- পেটের মেদ কি জিরা জল ও মধু সত্যিই কমায়? কী বলছেন পুষ্টিবিদরা, জানলে অবাক হবেন!
পুষ্টিবিদদের মতে, হ্যাংওভারের সময় শরীরে জলের পরিমাণ বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আখের রস, বেদানা, কলা এবং কালো খেজুর এই সময় খুবই উপকারী। এগুলিতে থাকা প্রাকৃতিক শর্করা ও পটাশিয়াম শরীরকে দ্রুত চাঙ্গা করে তোলে। পাশাপাশি পুদিনা জল কিংবা আমলকীর রস শরীরের টক্সিন বের করে দিতে সাহায্য করে এবং মাথা ধরা কমায়।
আরও পড়ুন- ভারতীয় রেল সম্পর্কে এই ৬টি তথ্য, জানলে রীতিমতো চমকে যাবেন!
অনেকেই হ্যাংওভারের সময় খাবার এড়িয়ে চলেন, যা একেবারেই ঠিক নয়। সময় করে অল্প হলেও খাওয়া জরুরি। হালকা স্যুপ বা তরল খাবার খেলে শরীর হাইড্রেটেড থাকে এবং পেটও ফাঁকা লাগে না। এতে দুর্বলতা ধীরে ধীরে কাটতে শুরু করে।
আরও পড়ুন- বছর শেষে প্রিয় মানুষদের সঙ্গে ঘুরতে যেতে চান? এই রোম্যান্টিক জায়গাগুলিই সবচেয়ে ট্রেন্ডিং
এই সময় ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় থেকে দূরে থাকা সবচেয়ে ভালো। কফি বা চা শরীরকে আরও ডিহাইড্রেট করতে পারে এবং বমি ভাব বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই হ্যাংওভারের দিনে এগুলি এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। দুপুরের দিকে হালকা পাতলা খাবার খাওয়া শরীরের জন্য ভালো। দই ভাত, টমেটো ভাত বা সাবু দিয়ে তৈরি খিচুড়ি সহজে হজম হয় এবং শরীরে প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। অতিরিক্ত তেল-মশলা দেওয়া খাবার এই সময় একেবারেই নয়।
হ্যাংওভার কাটানোর আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হল পর্যাপ্ত বিশ্রাম। যতটা সম্ভব শরীরকে বিশ্রাম দিতে হবে। এতে লিভার ও শরীরের অন্যান্য অঙ্গ দ্রুত কাজ করতে পারে এবং ক্লান্তি কমে। এই সময় আরও একটি বিষয় মাথায় রাখা জরুরি। একদিনের পার্টির পর পরপর আবার অ্যালকোহল সেবন শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে। লিভারকে সুস্থ রাখতে হলে অন্তত কয়েকদিন বিরতি দেওয়া প্রয়োজন। আনন্দের মরশুমে শরীরের সীমা বোঝা খুব জরুরি। মাত্রা বুঝে আনন্দ করলে পরের দিনও শরীর সুস্থ থাকবে।
হ্যাংওভার কোনও বড় রোগ না হলেও, সঠিক যত্ন না নিলে এটি শরীরকে বেশ ভোগাতে পারে। তাই বর্ষবরণের পরদিন নিজের শরীরের প্রতি একটু বেশি যত্ন নিন। সঠিক খাবার, পর্যাপ্ত জল এবং বিশ্রামই হ্যাংওভার কাটানোর সবচেয়ে সহজ ও কাজের উপায়।
মনে রাখা দরকার
এই নিবন্ধে দেওয়া তথ্য সাধারণ সচেতনতার জন্য। গুরুতর শারীরিক সমস্যা বা দীর্ঘস্থায়ী অসুস্থতার ক্ষেত্রে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us