/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/23/haunted-golconda-fort-1-2025-11-23-22-15-39.jpg)
Haunted Fort: অভিশপ্ত দুর্গ।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/23/haunted-golconda-fort-2-2025-11-23-22-15-53.jpg)
অভিশপ্ত দুর্গ
Haunted Golconda Fort: অন্ধ্রপ্রদেশের হায়দরাবাদের পশ্চিম প্রান্তে প্রায় ১১ কিলোমিটার দূরে রয়েছে ভারতের অন্যতম প্রাচীন এবং রাজকীয় গোলকুন্ডা দুর্গ। একসময় এটি শুধু সামরিক প্রতিরক্ষা কেন্দ্রই ছিল না, ছিল বাণিজ্য, সংস্কৃতি, প্রেম এবং রাজনৈতিক অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দু। হিন্দু এবং মুসলিম–দুই শাসনব্যবস্থার শিল্প ও স্থাপত্যের সমন্বয়ে তৈরি এই দুর্গ ভারতের ইতিহাসে এক বিশেষ অবস্থান দখল করে আছে। গ্রানাইট পাহাড়ের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা এই দুর্গটির উচ্চতা প্রায় ১২০ মিটার, যা একে আরও রাজকীয় ও শক্তিশালী করে তোলে। দুর্গের ঠিক ৯ কিলোমিটার দূরে বিখ্যাত হুসেন সাগর লেক অবস্থিত, যা এই অঞ্চলের সৌন্দর্যকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/23/haunted-golconda-fort-3-2025-11-23-22-16-23.jpg)
আগের নাম, 'মানকাল'
গোলকুন্ডার পুরোনো নাম ছিল মানকাল। কাকাতিয়া রাজবংশের তত্ত্বাবধানে নির্মিত হয় এই দুর্গ। মূলত তাদের পশ্চিম সীমান্ত রক্ষার জন্য। কাকাতিয়া শাসকদের পর রানি রুদ্রমা দেবী এবং প্রতাপরুদ্র দুর্গটির কাঠামো আরও মজবুত করে তোলেন। কিন্তু ইতিহাসের মোড় ঘুরে যায় যখন মুসুনরি নায়েক তুঘলক সেনাকে পরাজিত করে দুর্গ দখল করেন এবং কিছুদিন পর চুক্তির মাধ্যমে এটি বাহমানি সুলতানের হাতে তুলে দেন। এরপর থেকেই গোলকুন্ডা অঞ্চলের ইতিহাস নতুন পথে অগ্রসর হতে শুরু করে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/23/haunted-golconda-fort-4-2025-11-23-22-17-01.jpg)
স্বাধীনতা ঘোষণা
বাহমানি সুলতানরা যখন দুর্বল হয়ে পড়তে থাকেন, তখন তেলঙ্গানার গভর্নর সুলতান কুলি কুতুব-উল-মুলক ১৫৩৮ সালে স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। গোলকুন্ডা দুর্গকে কেন্দ্র করেই গড়ে ওঠে কুতুব শাহি রাজবংশ। পরবর্তী ৬২ বছরে এই রাজবংশের প্রথম তিন সুলতান দুর্গটিকে সম্প্রসারণ করে আজকের বিশাল আকারে রূপ দেন। গোলকুন্ডা অঞ্চলে হিরে–বাণিজ্য খুব প্রসিদ্ধ ছিল এবং এখান থেকেই নাকি বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত কোহিনুর হিরের সন্ধান মিলেছিল। হিরের মত মূল্যবান সম্পদ যে জায়গায় থাকে, সেখানে সংঘাত, লোভ এবং রক্তাক্ত ঘটনাও কম ঘটে না। গোলকুন্ডার অদ্ভুত রহস্যময়তার পিছনেও এই সম্পদের ভূমিকা রয়েছে বলেই মনে করা হয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/23/haunted-golconda-fort-11-2025-11-23-22-21-28.jpg)
প্রেমের সাক্ষী
গোলকুন্ডা দুর্গকে ঘিরে আরেকটি জনপ্রিয় কিংবদন্তি হল, সুলতান আবদুল্লাহ কুতুব শাহ এবং তারামতির প্রেমকাহিনি। স্থানীয় গাথা অনুসারে, দুর্গের পাশে এক সরাইখানায় থাকা বিদেশি অতিথিদের জন্য তারামতি এবং তার বোন প্রেমামতি গান এবং নৃত্য পরিবেশন করতেন। সুলতান একদিন তাঁদের পরিবেশনা দেখে এতটাই মুগ্ধ হন যে দুই বোনকে সুলতানের অতিথিশালায় স্থানান্তর করেন। ধীরে ধীরে তারামতি সুলতানের প্রিয় হয়ে ওঠেন। তাঁর সৌন্দর্য, সুরেলা কণ্ঠ এবং নৃত্যের কোমলতা সুলতানকে গভীরভাবে আকৃষ্ট করে। এই প্রেমের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে গোলকুন্ডার প্রতিটি খিলান, প্রতিটি পথ।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/23/haunted-golconda-fort-6-2025-11-23-22-19-07.jpg)
প্রেম পরিণতি পায়নি
তবে তাঁদের প্রেম পরিণতি পায়নি। ঠিক কী কারণে, তা আজও রহস্য। কিন্তু বিস্ময়ের ব্যাপার হল, রাজপরিবারের অন্যান্য রমণীদের পাশে রাজকীয় কবরস্থানে তারামতি ও প্রেমামতির কবরও রয়েছে। স্থানীয় বিশ্বাস, পরিণতি না পাওয়া এই প্রেমের আক্ষেপ আজও শান্তি পায়নি। সেই কারণেই নাকি রাতের অন্ধকারে দুর্গের ভিতরে শোনা যায় নুপুরের আওয়াজ, শুনতে পাওয়া যায় অদ্ভুত গোঙানির শব্দ। অনেকেই বলেন, গভীর রাতে তারামতির আত্মা দুর্গে ঘুরে বেড়ায় এবং মাঝে মধ্যে সুলতানের সামনে পরিবেশিত সেই নৃত্য যেন বাতাসেও ভেসে ওঠে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/23/haunted-golconda-fort-7-2025-11-23-22-19-47.jpg)
ভৌতিক অভিজ্ঞতা
শুধু তারামতি নয়, অনেকে আবার বিশ্বাস করেন সুলতান আবদুল্লাহ কুতুব শাহের আত্মাও মাঝে মাঝে দেখা যায়। দুর্গের নির্জন চত্বর, অন্ধকার প্যাসেজ, বিশাল রাজপ্রাসাদের ভগ্নস্তূপ—সব মিলিয়ে গোলকুন্ডা দুর্গে এমন এক পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা ভৌতিক অভিজ্ঞতার জন্য উপযুক্ত। বহু পর্যটকই জানান যে তাঁরা এখানে এসে অস্বাভাবিক ঘটনা দেখেছেন, কারও পদশব্দ শুনেছেন, আবার কেউ নাকি অনুভব করেছেন অদৃশ্য কারও উপস্থিতি।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/23/haunted-golconda-fort-8-2025-11-23-22-20-18.jpg)
আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক স্থান
এই কারণে সূর্যাস্তের পর গোলকুন্ডা দুর্গে প্রবেশ নিষিদ্ধ। সন্ধ্যার পর নাকি এখানে ভৌতিক ঘটনার প্রবণতা বেড়ে যায়। এমনকি সিনেমার শুটিং–ইউনিটের বহু সদস্যও জানিয়েছেন যে তাঁরা অদ্ভুত অভিজ্ঞতার শিকার হয়েছেন, যার কোনও যুক্তিযুক্ত ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। ইতিহাস, প্রেম, রহস্য, ভৌতিক আবহ—সব মিলিয়ে গোলকুন্ডা দুর্গ ভারতবর্ষের অন্যতম আকর্ষণীয় ঐতিহাসিক স্থান।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/23/haunted-golconda-fort-9-2025-11-23-22-20-48.jpg)
রহস্যময় প্রাচীন কেল্লা
আজও দুর্গটি পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয়, আবার ভৌতিক অভিজ্ঞতা খুঁজতে আসা মানুষদের জন্যও এটি এক অদ্ভুত রহস্যময় প্রাচীন কেল্লা। দিনের আলোয় এর স্থাপত্যের মহিমা যেমন মানুষকে মুগ্ধ করে, তেমনই রাতের অন্ধকারে এর নীরবতাও যেন অতীতের প্রেম, ব্যর্থতা, বিশ্বাসঘাতকতা আর রহস্য একসঙ্গে জাগিয়ে তোলে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us