/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/23/empty-stomach-ghee-water-2025-12-23-15-14-05.jpg)
Empty Stomach Ghee Water: খালি পেটে খান ঘি।
Empty Stomach Ghee Water: সকালে ঘুম থেকে উঠে শরীরের ভিতরের সিস্টেম সবচেয়ে সংবেদনশীল অবস্থায় থাকে। এই সময় আপনি কী খান বা পান করেন, তার সরাসরি প্রভাব পড়ে হজম, পরিপাক এবং সারাদিনের এনার্জির ওপর। সাম্প্রতিক সময়ে স্বাস্থ্য সচেতন মানুষের মধ্যে খালি পেটে হালকা গরম জলের সঙ্গে ঘি খাওয়ার প্রবণতা দ্রুত বেড়েছে। আন্তর্জাতিক যোগ শিক্ষক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বিজয় জে আনন্দের মতে, এই অভ্যাসটি শরীরের ক্ষেত্রে ওষুধের মতো কাজ করে।
ভারতীয় আয়ুর্বেদে ঘি কেবল রান্নার জিনিস না, এর স্বাস্থ্য উপকারিতাও বিরাট। অনেকটা ওষুধের মত। আয়ুর্বেদ অনুযায়ী ঘি হল দীর্ঘায়ু, শক্তি এবং সুস্থতার প্রতীক। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ঘি ব্যবহৃত হয়ে আসছে শরীরের ভিতরের ভারসাম্য বজায় রাখতে। সকালে খালি পেটে গরম জলে অল্প পরিমাণ ঘি মিশিয়ে পান করলে প্রথমেই উপকার পায় পাচনতন্ত্র। ঘি হজমের আগুনকে সক্রিয় করে, আবার গরম জল অন্ত্রকে পরিষ্কার করতে সাহায্য করে। এর ফলে গ্যাস, অ্যাসিডিটি ও পেট ভারী থাকার সমস্যা অনেকটাই কমে যায়।
আরও পড়ুন- রাতে বালিশের নীচে রাখুন তেজপাতা, পাবেন এই সব বিরাট উপকারিতা!
যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে কোষ্ঠকাঠিন্যে ভুগছেন, তাঁদের জন্য এই অভ্যাসটি বিশেষ উপকারী। ঘি প্রাকৃতিকভাবে অন্ত্রকে লুব্রিকেট করে, ফলে মলত্যাগ সহজ হয়। নিয়মিত এই পানীয় গ্রহণ করলে অন্ত্র পরিষ্কার থাকে এবং সকাল শুরু হয় হালকা অনুভূতি নিয়ে। এটি কোনও কৃত্রিম ল্যাক্সেটিভ নয়, বরং শরীরের স্বাভাবিক কার্যকলাপকে উন্নত করে।
আরও পড়ুন- ক্রিসমাস পার্টির পর এই ৪টি বিষয় মনে রাখলে বাড়ি ফিরবেন নিরাপদে
ত্বকের ক্ষেত্রেও গরম জলের সঙ্গে ঘি খাওয়ার প্রভাব চোখে পড়ার মতো। ঘিতে থাকা ভিটামিন এ, ডি, ই এবং কে ত্বককে ভিতর থেকে পুষ্টি জোগায়। নিয়মিত খেলে ত্বকের শুষ্কতা কমে, স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরে আসে এবং বয়সের ছাপ ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। অনেকেই বাহ্যিক স্কিন কেয়ারে ভরসা রাখেন, কিন্তু প্রকৃত সৌন্দর্য আসে ভিতর থেকে, আর এই অভ্যাসটি ঠিক সেটাই করে।
আরও পড়ুন- আপনার পেটের সামনের অংশটা চর্বি নাকি ফোলা, বুঝবেন কী করে?
ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ঘি ভুলভাবে অবহেলিত একটি উপাদান। খালি পেটে ঘি পান করলে বিপাক ক্রিয়া সক্রিয় হয়, যার ফলে শরীরে জমে থাকা ফ্যাট দ্রুত পুড়ে যায়। ঘি-তে থাকা স্বাস্থ্যকর ফ্যাট দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে, ফলে অপ্রয়োজনীয় খাওয়া কমে যায়। তাই সঠিক পরিমাণে ঘি ওজন বাড়ায় না, বরং ওজন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।
আরও পড়ুন- শীতে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে আয়ুর্বেদের এই ৬টি খাবার, রাখুন প্রতিদিনের ডায়েটে
চুলের স্বাস্থ্যও এর ব্যতিক্রম নয়। ঘিতে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড চুলের গোড়ায় পুষ্টি পৌঁছে দেয়। নিয়মিত গরম জলের সঙ্গে ঘি পান করলে চুল পড়া কমে, চুল মজবুত হয় এবং মাথার ত্বকের শুষ্কতা দূর হয়। এটি ভিতর থেকে চুলের বৃদ্ধি উন্নত করে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রেও ঘি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এতে থাকা ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট শরীরকে সংক্রমণের বিরুদ্ধে শক্তিশালী করে। শীতকালে নিয়মিত এই পানীয় সেবনে সর্দি-কাশির প্রবণতাও কমে।
যাঁরা জয়েন্টের ব্যথা বা আর্থ্রাইটিসে ভুগছেন, তাঁদের জন্যও এই অভ্যাসটি উপকারী হতে পারে। ঘি-র প্রদাহ-বিরোধী গুণ জয়েন্টের ব্যথা কমাতে সাহায্য করে এবং শরীরের নমনীয়তা বাড়ায়। শুধু শারীরিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও ঘি গুরুত্বপূর্ণ। এতে থাকা ওমেগা ফ্যাটি অ্যাসিড মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায়, স্মৃতিশক্তি উন্নত করে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। নিয়মিত খেলে ঘুমের মান ভালো হয় এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে, বিশেষ করে মহিলাদের ক্ষেত্রে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সকালে খালি পেটে হালকা গরম জলের সঙ্গে ঘি খাওয়া একটি সহজ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকর ঘরোয়া স্বাস্থ্য অভ্যাস। সঠিক মাত্রায় এবং নিয়মিত গরম জলের সঙ্গে ঘি খেলে তা শরীরকে ভিতর থেকে সুস্থ করে তোলে।
সতর্কীকরণ
এই প্রতিবেদনটি সাধারণ সংগৃহীত তথ্যের ভিত্তিতে তথ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে লেখা হয়েছে। কোনও স্বাস্থ্য সংক্রান্ত প্রয়োজনে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া দরকার।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us