/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/31/liver-cancer-risk-2026-01-31-13-36-11.jpg)
Liver Cancer Risk: লিভার ক্যানসারের কারণগুলো জানুন।
Liver Cancer Risk: দীর্ঘদিন ধরেই সমাজে একটি ধারণা প্রচলিত যে লিভার ক্যানসার মূলত মদ্যপানকারীদেরই রোগ। যাঁরা অ্যালকোহল ছুঁয়ে দেখেন না, তাঁরা নিজেদের এই রোগ থেকে প্রায় সম্পূর্ণ নিরাপদ বলেই মনে করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক বছরগুলিতে চিকিৎসকদের অভিজ্ঞতা এই ধারণাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। বিশিষ্ট লিভার বিশেষজ্ঞ ডা. শিবকুমার সারিনের মতে, বর্তমানে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত বহু রোগীই এমন, যাঁরা জীবনে কখনও মদ্যপান করেননি।
ডা. সারিন যা জানিয়েছেন
ডা. সারিন জানিয়েছেন, অ্যালকোহল অবশ্যই লিভারের ক্ষতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ, তবে এটি একমাত্র কারণ নয়। আধুনিক জীবনযাত্রা, খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন এবং কিছু দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতা মিলিয়ে লিভার ক্যানসার এখন জীবনধারাজনিত রোগে পরিণত হচ্ছে। সমস্যার সবচেয়ে ভয়ংকর দিক হল, এই ক্ষতি নীরবে হয় এবং উপসর্গ প্রকাশ পায় অনেক দেরিতে।
আরও পড়ুন- দুধ ছাড়া কফি খেলে শরীরে পড়ে বিরাট প্রভাব, সেটা কী? জানলে চমকে যাবেন!
ডায়াবেটিস, হাই কোলেস্টেরল এবং অতিরিক্ত ওজন লিভারের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। বিশেষ করে পেটের চর্বি লিভারের ভেতরে চর্বি জমার প্রবণতা বাড়িয়ে দেয়। ডা. সারিনের মতে, বর্তমানে লিভার ক্যানসারে আক্রান্ত অনেক রোগীর পিছনেই রয়েছে দীর্ঘদিনের ডায়াবেটিস ও স্থূলতা। রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে না থাকলে লিভার কোষে প্রদাহ সৃষ্টি করে। যা ধীরে লিভার সিরোসিস এবং পরে ক্যানসারের দিকে এগিয়ে যেতে পারে।
আরও পড়ুন- পিঠে বা কোমরে ব্যথা থাকলে জিমে যাওয়ার আগে এই ৮টি করণীয় ও বর্জনীয় বিষয় জেনে নিন
ভারতের মতো দেশে হেপাটাইটিস বি এবং সি এখনও একটি বড় আতঙ্ক। এই ভাইরাসগুলি অনেক সময় বছরের পর বছর শরীরে বাস করলেও তেমন কোনও লক্ষণ বাইরে থেকে বোঝা যায় না। ফলে বহু মানুষ জানতেই পারেন না যে তাঁরা সংক্রমিত। এই নীরব সংক্রমণ ধীরে লিভারের কোষ ধ্বংস করে এবং একসময় লিভার ক্যানসারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো পরীক্ষা না হলে এই ভাইরাসজনিত ক্ষতি ধরা পড়ে অনেক দেরিতে।
আরও পড়ুন- আর বাজারের ওপর নির্ভরশীল নয়! সহজ উপায়ে সংরক্ষণ করুন, সারা বছর তাজা থাকবে সবুজ মটর
বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার। জাঙ্ক ফুড, অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার, মিষ্টিজাতীয় খাবার এবং শারীরিক পরিশ্রমের অভাবের ফলে এমন অনেক মানুষের লিভারে চর্বি জমছে, যাঁরা কখনও মদ্যপান করেন না। ডা. সারিন বলেন, ফ্যাটি লিভার এখন আর সাধারণ কোনও সমস্যা নয়। এটি প্রদাহ সৃষ্টি করে সিরোসিস এবং পরবর্তী সময়ে লিভার ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে।
আরও পড়ুন- এখন আপনার বাচ্চারা বই থেকে পালাবে না, এই ৫টি টিপস পড়াশোনায় মনোযোগ বাড়াতে সাহায্য করবে
লিভার ক্যানসারের আরেকটি বড় সমস্যা হল, দেরিতে রোগ নির্ণয়। প্রাথমিক পর্যায়ে এই রোগের লক্ষণগুলি খুবই অস্পষ্ট। ক্লান্তি, অম্বল, ওজন কমে যাওয়া বা পেটে হালকা ভারী ভাব—এই উপসর্গগুলি সাধারণ মানুষ প্রায়ই গুরুত্ব দেন না। ফলে রোগটি অনেকটা এগিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসকের কাছে পৌঁছন। তখন চিকিৎসা করাটা আরও সমস্যার হয়ে ওঠে।
তাহলে লিভার কীভাবে রক্ষা করা যায়? ডা. সারিনের মতে, মদ্যপান থেকে দূরে থাকা বা খুব সীমিত রাখা, ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম অত্যন্ত জরুরি। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় ভাজা খাবার এবং অতিরিক্ত চিনি কমিয়ে ফল, শাকসবজি ও পরিমিত প্রোটিন রাখা প্রয়োজন। যাঁদের ডায়াবেটিস বা ফ্যাটি লিভারের সমস্যা আছে, তাঁদের নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে পরীক্ষা করানো উচিত। পাশাপাশি হেপাটাইটিস বি-এর টিকা নেওয়া এবং প্রয়োজনে হেপাটাইটিস সি-এর পরীক্ষা করানো লিভার ক্যানসার প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, লিভার ক্যানসার এখন আর শুধুমাত্র মদ্যপানকারীদের রোগ নয়। এটি আধুনিক জীবনযাত্রার একটি নীরব ফল। সচেতনতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং সঠিক জীবনধারা মেনে চললেই এই মারাত্মক রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us