Healthy Foods: কিডনি এবং হৃদপিণ্ড ভালো রাখতে অবশ্যই এড়ান এই সব খাবার

Healthy Foods: হৃদপিণ্ড এবং কিডনির জন্য ক্ষতিকর কিছু খাবার আছে যা সবাই অজান্তে খায়। কোন খাবারগুলি বিপদ ডেকে আনে এবং কেন এড়ানো জরুরি, জেনে নিন।

Healthy Foods: হৃদপিণ্ড এবং কিডনির জন্য ক্ষতিকর কিছু খাবার আছে যা সবাই অজান্তে খায়। কোন খাবারগুলি বিপদ ডেকে আনে এবং কেন এড়ানো জরুরি, জেনে নিন।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
আপডেট করা হয়েছে
New Update
Healthy Foods: স্বাস্থ্যকর খাবার।

Healthy Foods: স্বাস্থ্যকর খাবার।

Healthy Foods: অনেক খাবার আছে যেগুলোকে আমরা ছোটবেলা থেকেই স্বাস্থ্যকর বলে জানি। পরিবার, সমাজ আর বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে আমাদের মনে গেঁথে গেছে—কলা, পালং শাক, আঙুর কিংবা সয়া সসের মতো খাবার শরীরের জন্য ভালো। এগুলোকে আমরা অনেক সময় রোগ প্রতিরোধে সহায়ক হিসেবেই দেখি। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতামত বলছে, কিছু নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে এই পরিচিত স্বাস্থ্যকর খাবারগুলোই হৃদপিণ্ড এবং কিডনির জন্য বড় বিপদের কারণ হতে পারে। একেকজন মানুষের শরীর একেক রকম। বিশেষ করে কিডনি বা হৃদপিণ্ড দুর্বল থাকলে, অথবা নির্দিষ্ট ওষুধ খেলে, কিছু খাবার শরীরে লবণ, পটাশিয়াম ও বিপাক প্রক্রিয়ার ভারসাম্য নষ্ট করে দিতে পারে। ফলে যেসব খাবারকে আমরা নিরাপদ মনে করি, সেগুলোই অজান্তে ক্ষতি বাড়িয়ে দিতে পারে।

Advertisment

হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, কলা সাধারণত একটি শক্তিবর্ধক ও পরিপুষ্ট ফল। কিন্তু এই ফলটিতে পটাশিয়ামের পরিমাণ এতটাই বেশি যে কিডনি দুর্বল হলে শরীর অতিরিক্ত পটাশিয়াম বের করতে পারে না। ফলে রক্তে পটাশিয়ামের মাত্রা দ্রুত বাড়তে থাকে, যা হৃদপিণ্ডের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিশেষ করে যাঁরা কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ যেমন পটাশিয়াম ধরে রাখে এমন ওষুধ খান, তাঁদের ক্ষেত্রে কলা অতিরিক্ত মাত্রায় বিপদ বাড়িয়ে দিতে পারে। 

আরও পড়ুন- বাংলা কমিকসের রাজা, বাঁটুল হাঁদা-ভোঁদা, নন্টে-ফন্টের স্রষ্টার স্বীকৃতি এসেছে বড্ড দেরিতে

Advertisment

অন্যদিকে আঙুরকে অনেকে রোগ প্রতিরোধে অত্যন্ত উপকারী মনে করেন। কিন্তু আঙুরে এমন কিছু উপাদান থাকে যা লিভার নির্দিষ্ট ওষুধ ভাঙার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারে। লিভার প্রতিস্থাপন করা মানুষের ক্ষেত্রে এটি আরও বিপজ্জনক, কারণ আঙুর খেলে ওষুধের ঘনত্ব হঠাৎ বেড়ে গিয়ে শরীরে বিষক্রিয়ার মতো প্রতিক্রিয়া তৈরি করতে পারে। অনেকের ধারণা, ফল মানেই হৃদপিণ্ডের জন্য ভালো, কিন্তু সকল ফলের প্রভাব এক রকম নয়।

আরও পড়ুন- ভারতের সবচেয়ে মূল্যবান ১০ ব্র্যান্ড, নতুন তালিকায় বিরাট চমক!

পালং শাক আরেকটি ভিটামিনসমৃদ্ধ সবজি, যা আমরা সাধারণত রক্তাল্পতা দূর করতে কিংবা রোগ প্রতিরোধ বাড়াতে খাই। কিন্তু পালং শাকেও পটাশিয়ামের মাত্রা অত্যন্ত বেশি। তার সঙ্গে এটিতে ভিটামিন কে থাকে, যা রক্ত পাতলা করার ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। যাঁদের হৃদযন্ত্রে কৃত্রিম ভালভ আছে বা রক্ত জমাট বাধা রোধে ওষুধ খেতে হয়, তাঁদের ক্ষেত্রে পালং শাক অজান্তেই ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। হৃদরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি খুব সতর্কতার সঙ্গে খাওয়া উচিত।

আরও পড়ুন- পরেশনাথের জৈন মন্দির! শান্তি, সৌন্দর্য ও আধ্যাত্মিকতার অপূর্ব ঠিকানা

খাবারের স্বাদ বাড়াতে বহু মানুষ সয়া সস ব্যবহার করেন। কিন্তু এই সসে লবণের পরিমাণ এত বেশি যে শরীরে দ্রুত জল ধরে রাখতে পারে। এতে রক্তচাপ বাড়ে, হৃদপিণ্ড অতিরিক্ত চাপের মধ্যে পড়ে এবং কিডনিতেও চাপ তৈরি হয়। সোডিয়াম সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে সয়া সস অন্যতম। যাঁরা দীর্ঘদিন ধরে রক্তচাপের ওষুধ খাচ্ছেন বা হৃদপিণ্ড দুর্বল, তাঁদের ক্ষেত্রে সয়া সসের নিয়মিত ব্যবহার ক্ষতি বাড়াতে পারে।

আরও পড়ুন- দাঁত বা মাড়ির সমস্যায় ভুগছেন, জানেন অবহেলায় কী হতে পারে?

মদ্যপান সরাসরি হৃদপিণ্ডের ওপর বিষক্রিয়ার মত প্রভাব ফেলতে পারে। অ্যালকোহল হৃদপেশিকে দুর্বল করে দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয়। অনেক রোগী মনে করেন, অল্প মদ্যপান ক্ষতি করে না, কিন্তু তাদের শরীরের প্রকৃত অবস্থার ওপর নির্ভর করে অ্যালকোহল কখনও কখনও প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অ্যালকোহলের প্রভাব হৃদরোগকে নিয়ন্ত্রণের বাইরে নিয়ে যেতে পারে।

এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো—এই খাবারগুলো আসলে খারাপ নয়। সম্পূর্ণ সুস্থ মানুষ এগুলো নির্দ্বিধায় খেতে পারেন। বিপদের মূল কারণ হল শরীরে অসুস্থতা, কিডনির দুর্বলতা, হৃদরোগ বা নির্দিষ্ট ওষুধের প্রভাব। তাই স্বাস্থ্যকর খাবার শব্দটির সঙ্গে যে নিরাপত্তার ধারণা জড়িত, সব ক্ষেত্রে সেটি ঠিক নয়। প্রত্যেক মানুষের শরীর আলাদা, তাই খাবার বাছাই নির্ভর করবে ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য অবস্থার ওপর। তাই ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত পটাশিয়ামযুক্ত ফল, অতিরিক্ত লবণ বা অ্যালকোহল গ্রহণ করা শরীরকে অজান্তে বিপদের দিকে ঠেলে দিতে পারে।

সতর্কীকরণ

এই তথ্যগুলো শুধুমাত্র সচেতনতার জন্য দেওয়া হচ্ছে। কারও স্বাস্থ্যের অবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞের মতামত জরুরি। বিশেষ করে হৃদরোগ বা কিডনির সমস্যা থাকলে কোন খাবার আপনার জন্য নিরাপদ, তা তাঁদের কাছেই নির্ভরযোগ্যভাবে জানা যাবে।

foods healthy