/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/16/heart-friendly-foods-2025-11-16-00-52-47.jpg)
Heart-Damaging Foods: ঠিক রাখুন বুকের ধুকপুকুনি!
Heart-Damaging Foods: মানুষের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হল হৃদপিণ্ড বা হার্ট। প্রতিদিন নিরবিচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে করতে এই অঙ্গটি আমাদের শরীরের প্রতিটি কোণে অক্সিজেনযুক্ত রক্ত পৌঁছে দেয়। কিন্তু আমাদের নিয়মিত খাবার-দাবারের ভুল অভ্যাস ধীরে ধীরে এই হৃদযন্ত্রকে দুর্বল করে তোলে। বিশেষ করে কিছু খাবার রয়েছে যেগুলো নিয়মিত বা অতিরিক্ত পরিমাণে খেলে হার্টের ওপর ভয়ঙ্কর চাপ পড়ে এবং এর ফলে ব্লাড প্রেশার বেড়ে যাওয়া, রক্তে সুগারের মাত্রা বৃদ্ধি, কোলেস্টেরল জমে রক্তনালির সংকুচিত হয়ে যাওয়া সহ নানা সমস্যা বাড়ে। আজকের আলোচনায় থাকছে এমন ছ’টি খাবার যেগুলো আমাদের হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকারক এবং দীর্ঘমেয়াদে প্রাণঘাতী পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।
দৈনিক ব্যবহারের ভিত্তিতে, তালিকায় কে আছে কত নম্বরে?
এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে লবণ এবং চিনি। লবণ বা সোডিয়াম আমাদের শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে, কিন্তু অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। যখন ব্লাড প্রেশার অনিয়ন্ত্রিত থাকে, তখন হার্টকে অতিরিক্ত চাপ নিয়ে রক্ত পাম্প করতে হয়। এর ফলে হার্টের পেশি মোটা হয়ে যায় এবং হার্ট ফেইলিওরের ঝুঁকি বাড়ে। একইভাবে অতিরিক্ত চিনি আমাদের রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা বাড়িয়ে শরীরে ইনসুলিনের চাপ তৈরি করে। এই অনিয়ন্ত্রিত হাই সুগার ধীরে ধীরে রক্তনালি নষ্ট করে এবং হার্ট ও কিডনির ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে। তাই দৈনন্দিন জীবনে লবণ ও চিনির ব্যবহার সীমিত রাখা জরুরি।
আরও পড়ুন- কীভাবে সহজে আপনার শরীর পেতে পারে ভিটামিন বি১২, জানুন চিকিৎসকদের মত
দ্বিতীয় ক্ষতিকারক খাবার হলো ডুবো তেলে ভাজা খাবার। চপ, বেগুনি, ফ্রাইড চিকেন, নুডলস ফ্রাই, বার্গার বা যেকোনো তেলে চুবিয়ে ভাজা খাবার রক্তে খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়িয়ে দেয়। এই এলডিএল কোলেস্টেরল রক্তনালির ভেতর জমে ব্লক তৈরি করে। রক্তনালি ব্লক হলেই হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি তৈরি হয়। আজকাল ফাস্ট ফুডের জনপ্রিয়তার কারণে মানুষ এই ধরনের খাবার বেশি খাচ্ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের সংখ্যা বাড়িয়ে তুলছে। ডুবো তেলে রান্না খাবারের তেল বহুবার ব্যবহার করা হলে আরও বিষাক্ত যৌগ তৈরি হয় যা শরীরের পক্ষে অত্যন্ত ক্ষতিকারক।
আরও পড়ুন- রং ছাড়াই ৫ মিনিটে সহজে চুল করুন কালো, ব্যবহার করুন রান্নাঘরের এই উপাদান
তৃতীয় স্থানে রয়েছে রেড মিট বা লাল মাংস। যেমন—খাসি, ভেড়া, গরু কিংবা শূকরের মাংস। এই সব মাংসে স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ক্যালোরির পরিমাণ অনেক বেশি থাকে। নিয়মিত রেড মিট খেলে রক্তে কোলেস্টেরল বেড়ে যায় এবং রক্তনালির স্থিতিস্থাপকতা কমতে থাকে। এর ফলে উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা এবং হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ে। যদিও মাঝে মাঝে সীমিত পরিমাণে রেড মিট খাওয়া যেতে পারে, তবে দৈনিক খাদ্যতালিকায় এটি রাখা স্বাস্থ্যসম্মত নয়।
আরও পড়ুন- ক্রিসমাস–নতুন বছরে রঙিন করে তুলুন ভ্রমণ, জেনে নিন কোনগুলো ভারতের সেরা তুষার-ঢাকা জায়গা
তালিকার চতুর্থ ক্ষতিকারক খাবার হলো কোল্ড ড্রিংকস। আধুনিক জীবনে ঠান্ডা পানীয় যেন দৈনন্দিন অভ্যাসের মতো হয়ে গেছে, কিন্তু এই পানীয়গুলোতে অত্যধিক চিনি ও কৃত্রিম রং ছাড়া কোনো উপকারী উপাদান নেই। এক গ্লাস কোল্ড ড্রিংকসেই শরীরে কয়েকদিনের চিনি প্রবেশ করে। এই অতিরিক্ত চিনি হৃদপিণ্ডের পাশাপাশি লিভারকেও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে। যারা ইতিমধ্যে ডায়াবেটিস বা হাই ব্লাড প্রেশারে ভুগছেন তাদের জন্য কোল্ড ড্রিংকস সম্পূর্ণভাবে বর্জন করা উচিত।
আরও পড়ুন- ছেলে বা মেয়ের তুখোড় বুদ্ধি চান? এগুলো করান, হাতেনাতে ফল পাবেন
পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে নানা ধরনের প্যাকেটজাত খাবার। চিপস, বিস্কুট, কাপ নুডলস, প্রস্তুত মশলা, প্রক্রিয়াজাত স্ন্যাকস বা ইনস্ট্যান্ট খাবার সবই দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করার জন্য তৈরি হয়। তাই এসব খাবারে প্রচুর মাত্রায় লবণ, চিনি, তেল, ময়দা এবং রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করা হয়। এই সমস্ত উপকরণ শরীরে প্রদাহ তৈরি করে এবং হৃদযন্ত্রের ওপর চাপ বাড়ায়। নিয়মিত প্যাকেটজাত খাবার খেলে ওজন বেড়ে যায়, রক্তচাপ বৃদ্ধি পায় এবং রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়ে যায়।
এবং ষষ্ঠ ক্ষতিকারক খাবার হল রিফাইন্ড লেখা থাকে এমন যেকোনো খাদ্যদ্রব্য—রিফাইন্ড আটা, রিফাইন্ড ময়দা, রিফাইন্ড তেল ইত্যাদি। এগুলোকে কৃত্রিমভাবে সাদা বা স্বচ্ছ করতে বহু রাসায়নিক প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে আনা হয়। ফলে এই খাবারের প্রাকৃতিক পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়। রিফাইন্ড খাবার রক্তে গ্লুকোজ বাড়ায়, হরমোনে অস্থিরতা তৈরি করে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে।
সব মিলিয়ে বলা যায়, সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং হার্টকে সুস্থ রাখতে এই ছয়টি খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। এর পরিবর্তে তাজা শাকসবজি, ফলমূল, বাদাম, মাছ, হোল গ্রেন এবং লো-ফ্যাট খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন। খাদ্যাভ্যাস বদলালেই হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যায়।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us