/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/27/heart-health-tips-2026-01-27-14-58-33.jpg)
Heart Health Tips: হৃদপিণ্ড সুস্থ রাখার কায়দা জেনে নিন।
Heart Health Tips: হৃদপিণ্ড আমাদের শরীরের এমন একটি অঙ্গ, যা দিনরাত এক মুহূর্তও বিশ্রাম না নিয়ে কাজ করে চলে। তবুও দৈনন্দিন জীবনে আমরা প্রায়শই এই গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গটির যত্ন নিতে ভুলে যাই। আধুনিক জীবনযাত্রার ব্যস্ততা, দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা, শরীরচর্চার অভাব এবং অনিয়মিত অভ্যাস ধীরে ধীরে হৃদপিণ্ডকে দুর্বল করে তোলে। অনেক সময় লক্ষণ বোঝার আগেই হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক যা জানিয়েছেন
২৫ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা সম্পন্ন কার্ডিয়াক সার্জন ডা. জেরেমি লন্ডনের মতে, শক্তিশালী ও সুস্থ হৃদপিণ্ড বজায় রাখতে চাইলে সবার আগে যে একটি বিষয় সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা উচিত, তা হল বসে থাকা জীবনধারা। দিনের পর দিন শারীরিক কার্যকলাপ ছাড়া শুধু চেয়ারে বসে কাজ করা বা দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকা হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলে।
আরও পড়ুন- হলুদ বা সোনালি সাবান ব্যবহারের ট্রেন্ড, ত্বকের জন্য এটা আশীর্বাদ না ক্ষতিকারক?
ডাক্তার স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, হৃদপিণ্ড আসলে একটি পেশী। শরীরের অন্য যে কোনও পেশীর মতোই এটি নিয়মিত ব্যবহার না করলে ধীরে তার শক্তি হারাতে শুরু করে। দীর্ঘ সময় নড়াচড়া না করলে হৃদপিণ্ডের রক্ত পাম্প করার ক্ষমতা কমে যায়, ফলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে অক্সিজেন সরবরাহ ব্যাহত হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, অল্প সময়ের জন্য সম্পূর্ণ বিশ্রাম বা বিছানায় পড়ে থাকলেও হৃদযন্ত্রের কর্মক্ষমতা কমে যেতে পারে।
আরও পড়ুন- মাত্র ১ লক্ষ টাকায় ঘুরে নিন এই ৬ দেশ
নিয়মিত ব্যায়াম কেন হৃদপিণ্ডের জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়েও ডা. লন্ডন বিশেষভাবে জোর দিয়েছেন। যখন আমরা হাঁটি, দৌড়াই বা কোনও শারীরিক পরিশ্রম করি, তখন হৃদপিণ্ড একটু বেশি পরিশ্রম করে রক্ত সঞ্চালন করে। এই অতিরিক্ত কাজই হৃদপিণ্ডকে আরও শক্তিশালী ও দক্ষ করে তোলে। ফলস্বরূপ হৃদযন্ত্র কম স্পন্দনে বেশি রক্ত পাম্প করতে পারে, যা সুস্থ হৃদয়ের একটি বড় লক্ষণ।
আরও পড়ুন- দেশপ্রেমের আবহে ভিড় এড়িয়ে ঘুরে আসুন এই ৬ অফবিট জায়গায়, সত্যিই রিফ্রেশ হবেন
শক্তিশালী হৃদপিণ্ডের মানুষদের শুধু হৃদরোগের ঝুঁকিই কম থাকে না, বরং অন্য কোনও অসুস্থতা বা অস্ত্রোপচারের পরেও তারা তুলনামূলকভাবে দ্রুত সেরে ওঠেন। শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ভাল থাকে, কারণ রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক ও কার্যকর থাকে। তাই হৃদপিণ্ডের সুস্থতা মানেই পুরো শরীরের সুস্থতা।
আরও পড়ুন- একদিনে শেষ হবে না প্রজাতন্ত্র দিবসের অনুষ্ঠান, কতদিন চলবে জানুন!
ডা. লন্ডন আরও জানিয়েছেন, ব্যায়াম মানে কেবল কঠোর জিম ট্রেনিং বা ভারী শরীরচর্চা নয়। প্রতিদিনের জীবনে ছোট শারীরিক কার্যকলাপই বড় পরিবর্তন আনতে পারে। যাঁরা দীর্ঘ সময় ডেস্কে বসে কাজ করেন, তাঁদের প্রতিঘণ্টায় অন্তত কয়েক মিনিট উঠে দাঁড়ানো, হাঁটাহাঁটি করা বা হালকা স্ট্রেচ করা উচিত। এতে হৃদযন্ত্র সক্রিয় থাকে এবং রক্ত সঞ্চালন ঠিক থাকে।
হাঁটা, সাইকেল চালানো, সাঁতার কাটা কিংবা সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামার মতো সাধারণ অভ্যাসও হৃদপিণ্ডের জন্য অত্যন্ত উপকারী। নিয়মিত এই ধরনের শারীরিক কার্যকলাপ দৈনন্দিন রুটিনে অন্তর্ভুক্ত করলে ধীরে হৃদপিণ্ড আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। পাশাপাশি মানসিক চাপও কমে, যা হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।
ডাক্তারদের মতে, সুস্থ হৃদপিণ্ডের জন্য ডায়েট ও পর্যাপ্ত ঘুম যেমন জরুরি, তেমনই সক্রিয় জীবনধারাও অপরিহার্য। শুধু ভাল খাওয়া বা ঠিক সময়ে ঘুমালেই হবে না, শরীরকে সচল রাখতে হবে। বসে থাকা অভ্যাস যত কমানো যায়, হৃদপিণ্ড ততই উপকৃত হবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, শক্তিশালী ও সুস্থ হৃদপিণ্ড চাইলে আজই বসে থাকা জীবনধারাকে বিদায় জানানো দরকার। ছোট পরিবর্তন, নিয়মিত নড়াচড়া ও সচেতন অভ্যাসই ভবিষ্যতে বড় হৃদরোগ থেকে আপনাকে নিরাপদ রাখতে পারে। তাই, হৃদপিণ্ডের যত্ন দিন, কারণ সুস্থ হৃদয়ই দীর্ঘ ও সুখী জীবনের চাবিকাঠি।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us