/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/20/hair-care-2025-11-20-17-47-20.jpg)
Hair Care: এভাবে যত্ন নিন চুলের।
Herbal Hair Oil: চুলের যত্নে প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার আজকাল রীতিমতো জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বাজারে যত ধরনের কেমিক্যালযুক্ত হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট পাওয়া যায়, তার বেশিরভাগই দীর্ঘমেয়াদে চুলকে দুর্বল করে দিতে পারে। তাই অনেকেই এখন ঘরোয়া ভেষজ তেলের ওপর নির্ভর করছেন, যা চুলকে শুধু শক্তিশালীই করে না, বরং দ্রুত লম্বা ও ঘন হতেও সাহায্য করে। জাফরান এবং জবা ফুল দিয়ে তৈরি হার্বাল হেয়ার অয়েল তেমনই একটি উপকারি সমাধান, যা দীর্ঘদিন ধরেই আয়ুর্বেদের অংশ হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
জাফরান বা কেশর চুলের গোড়া মজবুত করতে এবং স্ক্যাল্পে বা মাথার ত্বকে রক্ত সঞ্চালন বাড়াতে অত্যন্ত কাজের। এটি চুলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাড়ায় এবং হেয়ার ফলিকলকে পুষ্টি জোগায়। অন্যদিকে জবা ফুল চুলকে নরম, উজ্জ্বল এবং ঘন করতে সাহায্য করে। জবার প্রাকৃতিক মিউসিলেজ চুলে কন্ডিশনারের মতো কাজ করে এবং চুলের ভাঙন কমায়। মীরা কাপুরের একটি পুরনো সাক্ষাৎকারেও এই তেলের কথা উঠে এসেছে। যা পরবর্তীতে সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে।
আরও পড়ুন- বিশ্বের সেরা ৫ খাবারের তালিকায় বাটার চিকেন! বাড়িতেই স্বাস্থ্যকর রেসিপি বানানোর গোপন ট্রিক ফাঁস
জবা ফুল দিয়ে তৈরি এই তেল যে কেউ বাড়িতেই বানাতেই পারবেন। প্রথমে দুটি জবা ফুলের পাপড়ি আলাদা করে নিয়ে তার সঙ্গে পাতা যোগ করতে হবে। এরপর এক চা চামচ নারকেল তেল দিয়ে পুরো মিশ্রণটি ভালোভাবে পিষে নিতে হবে। একটি প্যানে তিন চামচ নারকেল তেল গরম করে এই মিশ্রণটি তেলের মধ্যে দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে নিতে হয়। চাইলে মেথি, কারিপাতা, শুকনো আমলকির গুঁড়ো, মরিঙ্গা ফুল বা নিমপাতা যোগ করা যেতে পারে—যেগুলো চুলের জন্য আরও উপকারি। তেল ফুটতে শুরু করলে এবং রং পরিবর্তন হলে চুলা বন্ধ করে ঠান্ডা করতে দিতে হবে। এরপর ভালোভাবে ছেঁকে বায়ুরোধী বোতলে রাখলে কয়েক মাস পর্যন্ত এই তেল ভালো থাকবে।
আরও পড়ুন- এই ৬টি ফলে থাকে সবচেয়ে বেশি কীটনাশক, জানলে অবাক হবেন!
চুলে লাগানোর জন্য ক্যামোমাইল হেয়ার মাস্কও ব্যবহার করা যেতে পারে। এই মাস্ক তৈরির জন্য জবা ফুল ও পাতা একসঙ্গে পিষে তার সঙ্গে তিন টেবিল চামচ দই ও দুই টেবিল চামচ অ্যালোভেরা জেল ভালোভাবে মিশিয়ে নিতে হবে। এই মিশ্রণটি শুকনো চুলে লাগিয়ে ২০ মিনিট রেখে দিলে চুল হবে মসৃণ, উজ্জ্বল এবং শক্তিশালী। চুল ঠান্ডা জলে ধুয়ে ফেললেই তাৎক্ষণিক ফল পাওয়া যাবে।
আরও পড়ুন- শীতকালে ফাটা পায়ের গোড়ালি সারাতে ঘরে বসেই করুন এই সহজ রাতের প্রতিকার
প্রাকৃতিক উপাদানযুক্ত এই ধরনের হার্বাল হেয়ার অয়েল চুল পড়া কমাতে, নতুন চুল গজাতে এবং ত্বকের স্বাস্থ্যের উন্নতি করতে সাহায্য করে। দীর্ঘদিন ধরে কেমিক্যালযুক্ত প্রোডাক্ট ব্যবহারের কারণে যাদের চুল রুক্ষ, ফাটা বা দুর্বল হয়ে গেছে, তাদের জন্য এই ঘরোয়া তেল বিশেষ উপকারি হতে পারে। নিয়মিত ব্যবহার করলে চুলের রুক্ষতা কমে, চুল শক্তিশালী হয় এবং শুকনো মাথার ত্বকের সমস্যাও দূর হয়।
আরও পড়ুন- এই ৫ বিরল প্রাণী, দেখা মেলে শুধু শীতেই!
তবে মনে রাখা দরকার যে প্রতিটি মাথার ত্বকের ধরন আলাদা। কারও যদি মাথার ত্বকে অ্যালার্জি, ফাঙ্গাল ইনফেকশন বা চর্মরোগ থাকে, তাহলে যে কোনও নতুন উপাদান ব্যবহার করার আগে অবশ্যই একজন ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে নেওয়া উচিত। প্রয়োজনে প্যাচ টেস্ট করে নেওয়া ভালো, যাতে কোনও বিরূপ প্রতিক্রিয়া হওয়ার সম্ভাবনা না থাকে।
মনে রাখা দরকার
ওপরের তথ্যটি শুধুমাত্র শিক্ষামূলক উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছে এবং এটি কোনও চিকিৎসাগত পরামর্শ নয়। চুল বা ত্বকের সমস্যা নিয়ে কোনও সন্দেহ হলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের কাছে যান।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us