Swami Vivekananda: ছদ্মবেশে বেলুড় মঠে ছিলেন স্বামী বিবেকানন্দের ছোটভাই ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত

Hidden Freedom Fighter at Belur Math: স্বামী বিবেকানন্দরা ছিলেন ১০ ভাই-বোন। তার মধ্যে শৈশবেই তিন জনের মৃত্যু হয়। একবোন ১৬ বছর, একভাই-একবোন বেঁচেছিলেন ২২ বছর।

Hidden Freedom Fighter at Belur Math: স্বামী বিবেকানন্দরা ছিলেন ১০ ভাই-বোন। তার মধ্যে শৈশবেই তিন জনের মৃত্যু হয়। একবোন ১৬ বছর, একভাই-একবোন বেঁচেছিলেন ২২ বছর।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Swami Vivekananda: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে স্বামী বিবেকানন্দের ভাইয়ের উপস্থিতি উজ্জ্বল।

Swami Vivekananda: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে স্বামী বিবেকানন্দের ভাইয়ের উপস্থিতি উজ্জ্বল।

Swami Vivekananda: স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৬৩ সালের ১২ই জানুয়ারি (১২৬৯ বঙ্গাব্দের ২৯শে পৌষ, কৃষ্ণা সপ্তমী তিথি) কলকাতায় সিমুলিয়ায় দত্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তাঁর বাবার নাম বিশ্বনাথ দত্ত ও মায়ের নাম ভুবনেশ্বরী দেবী। পৌষ সংক্রান্তির ভোরে সূর্যোদয়ের ৬ মিনিট আগে, ৬ টা ৩৩ মিনিট ৩৩ সেকেন্ডে তিনি জন্মেছিলেন।

Advertisment

তাঁর নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত। ১৮৮৭ সালে তিনি বিরজাহোম করে তিনি সন্ন্যাসগ্রহণ করেন। সেই সময় তাঁর হয় স্বামী বিবিদিষানন্দ। ১৮৯১ সালে পরিব্রাজক জীবনে তিনি আবার নতুন নাম নেন। তা হল, স্বামী সচ্চিদানন্দ। ১৮৯৩ সালের ৩০ এপ্রিল খেতরির মহারাজের অনুরোধে তিনি নতুন নাম নেন। তা হল, স্বামী বিবেকানন্দ। সন্ন্যাসজীবনের এই শেষ নামেই তিনি খ্যাতি পান।

আরও পড়ুন- শীতকালে মুখ এবং শরীরের জন্য কোন তেল সবচেয়ে উপকারী, জানুন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ!

তিনি ছাড়াও বিশ্বনাথ দত্ত ও ভুবনেশ্বরী দেবীর ১০ সন্তান ছিল। প্রথম জন ছিল পুত্র সন্তান। যার মৃত্যু হয়েছিল শৈশবেই। দ্বিতীয় কন্যাসন্তানও মারা গিয়েছিল শৈশবেই। তৃতীয় সন্তান কন্যা, নাম হারামনি। মারা গিয়েছিলেন ২২ বছরে। চতুর্থ স্বর্ণময়ী মারা গিয়েছিলেন ৭২ বছর বয়সে। পঞ্চম সন্তান কন্যা। তারও মৃত্যু হয়েছিল শৈশবে। নরেন্দ্রনাথ ছিল ষষ্ঠ সন্তান। তিনি ৩৯ বছর ৫ মাস ২৪ দিন জীবিত ছিলেন। সপ্তম কিরণবালা মারা গিয়েছিলেন ১৬ বছর বয়সে। অষ্টম যোগীন্দ্রবালার মৃত্যু হয়েছিল ২২ বছর বয়সে। নবম মহেন্দ্রনাথ বেঁচেছিলেন ৮৭ বছর বয়স পর্যন্ত। দশম ভূপেন্দ্রনাথ বেঁচেছিলেন ৮১ বছর পর্যন্ত। 

আরও পড়ুন- গলা ব্যথা আর কাশিতে ভুগছেন? কফ সিরাপের বদলে কাজে লাগান এই ঘরোয়া জিনিসগুলো!

বসন্তকুমার ব্রহ্মচারী

স্বামী বিবেকানন্দের প্রয়াণের কয়েক বছর পর বেলুড় মঠে আবির্ভাব হয় এক নতুন ব্রহ্মচারীর। নাম বসন্তকুমার ব্রহ্মচারী। গায়ে গেরুয়া, চোখে সংযম, কথায় শান্তি। কিন্তু এই পরিচয়ের আড়ালেই লুকিয়ে ছিলেন এক দুঃসাহসী বিপ্লবী। তিনি আবার যে সে নন। ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, স্বামী বিবেকানন্দের ছোট ভাই। ব্রিটিশ গোয়েন্দারা জানত না, যাঁদের আন্দামানে পাঠানোর তালিকা তৈরি হচ্ছে, তাঁদেরই একজন নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন এই মঠে। ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত ছিলেন নরেন্দ্রনাথ দত্তের থেকে সতেরো বছরের ছোট। তাঁরও জন্ম উত্তর কলকাতার সিমলার বাড়িতেই। 

আরও পড়ুন- এই ঘরোয়া জিনিস ব্যবহার করলেই তেলাপোকা ও বোলতার যন্ত্রণা শেষ, ঘর ভরবে প্রাকৃতিক সতেজতায়

বঙ্গভঙ্গ ঘোষণার পর বাংলায় যে রাজনৈতিক বিস্ফোরণ ঘটে, তার অন্যতম কণ্ঠস্বর ছিল যুগান্তর পত্রিকা। যার অগ্রভাগে অন্যতম মুখ ছিলেন ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত। তিনি ১৯০৬ সালে যুগান্তরের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেন। স্বাধীনতার চেতনা ছড়িয়ে দিতে 'সোনার বাংলা' ইস্তেহারও প্রকাশ করেন। ১৯০৭ সালে গ্রেফতার হন ভূপেন্দ্রনাথ। এক বছর কারাগারে ছিলেন। মুক্তির পর তাঁকে দেশ ছাড়ার পরামর্শ দেন ভগিনী নিবেদিতা। 

আরও পড়ুন- ডায়াবেটিস, থাইরয়েড, স্থূলতা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবেন? বাবা রামদেবের আয়ুর্বেদিক পদ্ধতি জেনে নিন

আমেরিকায় গিয়ে উচ্চশিক্ষার পাশাপাশি বিপ্লবী রাজনীতির আন্তর্জাতিক পরিসরে প্রবেশ করেন ভূপেন্দ্রনাথ। গদর পার্টি থেকে জার্মানির বার্লিন কমিটি— সর্বত্রই তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি ছিল। বার্লিন কমিটির সম্পাদক হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। গিয়েছিলেন মস্কোতে, দেখা করেছিলেন লেনিনের সঙ্গে। স্বাধীনতার পর তিনি দেশে ফেরেন। কৃষক ও শ্রমিক আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। 'অপ্রকাশিত রাজনৈতিক ইতিহাস'-সহ বিভিন্ন গ্রন্থ তিনি রচনা করেন।

Swami Vivekananda