/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/01/garbeta-sarbamanggala-temple-2025-12-01-03-43-20.jpg)
Garbeta Sarbamanggala Temple: গড়বেতার সর্বমঙ্গলা মন্দির।
Garbeta Sarbamanggala Temple: গড়বেতার ইতিহাস (History of Garbeta) অনুযায়ী অবিভক্ত মেদিনীপুরের এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং প্রাচীন জনপদ। এই অঞ্চল শুধু ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্যের জন্যই নয়, বরং ধর্মীয় ঐতিহ্য এবং লোককথার কারণেও আজকের দিনেও সমানভাবে উজ্জ্বল। গড়বেতা তথা বগড়ী অঞ্চলের অধিষ্ঠাত্রী দেবী সর্বমঙ্গলা, যিনি মা দুর্গারই আরেক রূপ হিসেবে পরিচিত। ভক্তদের কাছে তিনি সিদ্ধিপ্রদায়িনী এবং মনস্কামনা পূরণকারী দেবী হিসেবে বিশেষভাবে খ্যাত। বহু যুগ ধরে এখানে শক্তিপূজা চলে আসছে।
মন্দিরকে ঘিরে অজস্র কাহিনি
গড়বেতার এই সর্বমঙ্গলা মন্দিরকে নিয়ে রয়েছে অজস্র কাহিনি। স্থানীয় ইতিহাস ও জনশ্রুতি অনুসারে এই মন্দিরের বয়স হাজার বছরেরও বেশি। মন্দিরের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হল এর উত্তরমুখী দরজা। সাধারণত অধিকাংশ শক্তিমন্দির পূর্বমুখী বা দক্ষিণমুখী হয়, কিন্তু গড়বেতার দেবী সর্বমঙ্গলার মন্দির উত্তরমুখী হওয়ায় এটিকে বিশেষ শক্তিধাম হিসেবে মানা হয়। এই গঠনশৈলী মন্দিরকে করে তুলেছে বিরল ও রহস্যময়।
আরও পড়ুন- বহু অলৌকিক কাহিনির সাক্ষী, ৬০০ বছরের ইতিহাস বসিরহাট সংগ্রামপুর কালীবাড়ির
একটি কাহিনি অনুযায়ী, মহারাজা বিক্রমাদিত্যের আমলে এক অতিপরাক্রমশালী যোগী তান্ত্রিক মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। আবার অন্য আরেক মত বলে—রাজা স্বপ্নে দেবীকে পেয়ে তাঁর নির্দেশে মন্দিরের মুখ ঘুরিয়ে দেন এবং এখানে তিনিই সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। এই উত্তরমুখিতা নিয়ে এখনও বহু গবেষণা ও আলোচনা চলে, কারণ শক্তিপীঠের ক্ষেত্রে এই দিকচয়ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও পড়ুন- উখড়ার ৩০০ বছরের জাগ্রত সন্ন্যাসী কালী, এর অলৌকিক ইতিহাস শুনলে গায়ে কাঁটা দেবে!
মন্দিরের ভিতরে দেবী সর্বমঙ্গলার যে মূর্তি পূজিত হয় সেটি কালো পাথর দিয়ে তৈরি। দেবী দশভুজা, সিংহবাহিনী এবং মুখমণ্ডল লালরঙে অলঙ্কৃত। মূর্তিটির মূল খোদাইয়ের ওপর গালা দিয়ে তৈরি মুখাবয়ব দেবীকে জীবন্ত রূপে উপস্থাপন করেছে। বিগ্রহের নাকে বড় নোলক, দীপ্তিময় দীর্ঘ চোখ এবং তাঁর দুই পাশে খোদাই করা অন্নপূর্ণা আর ভৈরবীর মূর্তি, দৃষ্টি আকর্ষণ করে। দেবীর পাশে পঞ্চমুণ্ডির আসন এই মন্দিরের তান্ত্রিক ঐতিহ্যের অন্যতম প্রতীক। কথিত আছে—একসময় এখানে নরবলি হত, পরে ছাগ ও মহিষ বলির প্রচলন ছিল। মল্লরাজ দুর্জন মল্ল বলিদান প্রথা বন্ধ করেন। তাঁর পর থেকে বৈষ্ণব মতে পূজা শুরু হয়।
আরও পড়ুন- হাওড়ার ‘সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি’, ৩০০ বছরের জাগ্রত মন্দির বড় ভরসা ভক্তদের!
সর্বমঙ্গলা মন্দিরে আজও নিত্যপুজো হয় এবং প্রতিবছর দুর্গাপুজো এখানে বিশেষ গুরুত্ব সহকারে পালিত হয়। মেদিনীপুরের অন্যতম প্রাচীন দুর্গাপুজোর স্থান হিসেবে এই মন্দির ভক্তদের আকর্ষণের কেন্দ্র। বিশেষ করে নবমীর দিন মন্দির প্রাঙ্গণে মানুষের ঢল নামে। দেবীকে নিত্য ভোগ দেওয়া হয় এবং বিশেষ দিনে বিশেষ ভোগের রীতি দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত। মকর সংক্রান্তির দিনে দেবীকে পিঠে নিবেদন করা হয়, যা স্থানীয় সংস্কৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
আরও পড়ুন- ট্যাংরার চিনে-কালীর অদ্ভুত ইতিহাস, জাগ্রত দেবীর প্রতি অগাধ বিশ্বাস ভক্তদের
মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে অদূরে বয়ে যাওয়া শিলাবতী নদী এই তীর্থস্থানের পরিবেশকে আরও পবিত্র ও মনোরম করে তুলেছে। বহু সন্ন্যাসী, তন্ত্রসাধক এবং ভক্তের বিশ্বাস—শিলাবতীর উত্তর-পশ্চিমগামী প্রবাহ এখানে আচমকা কমে গিয়েছে। সবমিলিয়ে গড়বেতার এই সর্বমঙ্গলা মন্দির আজও তন্ত্রসাধনার এক প্রাচীন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
আরও পড়ুন- জাগ্রত মন্দির, পূরণ হয় মনস্কামনা, ভক্তদের ভরসা মধ্যমগ্রাম কালীবাড়ি
দেশ-বিদেশ থেকে বহু ভক্ত আজও এখানে আসেন মনস্কামনা পূরণের জন্য। বহু মানুষ মানেন যে সর্বমঙ্গলার শক্তি এতটাই জাগ্রত যে তাঁর কাছে করা প্রার্থনা ব্যর্থ হয় না। মন্দিরের নীরবতা, প্রাচীন স্থাপত্য, ভক্তির পরিবেশ এবং শিলাবতীর প্রবাহ—সব মিলিয়ে এই স্থানকে করে তুলেছে অভিনব তীর্থক্ষেত্র। অবিভক্ত মেদিনীপুরের ইতিহাসে সর্বমঙ্গলা মন্দির শুধু ধর্মীয় পরিচয়ের স্থান নয়, বরং জীবন্ত ঐতিহ্য, এক গভীর সংস্কৃতির পরিচয়।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us