Interpol History: ইন্টারপোলের নাম শুনলে কেঁপে ওঠে ভয়ংকর অপরাধীও, তৈরি হয়েছিল এই দিনেই!

Interpol History: ১৯২৩ সালে ভিয়েনায় প্রতিষ্ঠিত ইন্টারপোল আজ বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা। সন্ত্রাসবাদ, সাইবার অপরাধ ও সংগঠিত অপরাধ দমনে এর অবদান জেনে নিন।

Interpol History: ১৯২৩ সালে ভিয়েনায় প্রতিষ্ঠিত ইন্টারপোল আজ বিশ্বের বৃহত্তম আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা। সন্ত্রাসবাদ, সাইবার অপরাধ ও সংগঠিত অপরাধ দমনে এর অবদান জেনে নিন।

author-image
IE Bangla Lifestyle Desk
New Update
Interpol

Interpol: জানুন, ইন্টারপোলের কাজকর্ম কীভাবে হয়।

Interpol History: আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে সহযোগিতার জন্য ১৯২৩ সালে গঠিত হয় ইন্টারপোল। তখন এর নাম ছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ পুলিশ কমিশন (ICPC)। ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক পুলিশ সভার মাধ্যমে সূচনা হয়েছিল এই সংস্থার। যা পরবর্তীতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক পুলিশ সংগঠন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

Advertisment

১৯২৩ সালের ৭ সেপ্টেম্বর ভিয়েনায় পাঁচ দিনব্যাপী এক সম্মেলনের শেষে গঠিত হয় 'ICPC'। প্রথমদিকে সংস্থার মূল উদ্দেশ্য ছিল বিভিন্ন দেশের পুলিশের মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং সহযোগিতা বাড়ানো। কিন্তু, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে নাৎসি শাসনের অধীনে এটি কার্যত অচল হয়ে পড়ে।

আরও পড়ুন- কাক ছাড়া শ্রাদ্ধ কেন অসম্পূর্ণ? কাকের রহস্যময় ভূমিকার কথা জানুন

সংগঠনের বর্তমান নামকরণ

১৯৫৬ সালে নতুন সংবিধান গ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনটির নামকরণ হয় ইন্টারপোল (Interpol)। নামটি এসেছে এর টেলিগ্রাফিক ঠিকানা থেকে। সেখান থেকেই বিশ্বব্যাপী পুলিশ সহযোগিতার নতুন অধ্যায় শুরু হয়। বর্তমানে ইন্টারপোলের সদর দপ্তর ফ্রান্সের লিওঁ শহরে অবস্থিত। এছাড়াও বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে সাতটি আঞ্চলিক ব্যুরো রয়েছে। সদস্য রাষ্ট্রের সংখ্যা ১৯৬ এবং প্রতিটি রাষ্ট্রে একটি করে ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (NCB) আছে।

আরও পড়ুন- মাত্র ৩০ মিনিটে মাইক্রোওয়েভে বানান চিকেন বিরিয়ানি! সহজ রেসিপিতে মন ভরান বাড়ির লোকেদের

ইন্টারপোল সরাসরি কোনও অপরাধীকে গ্রেফতার করে না। বরং এটি বিভিন্ন দেশের পুলিশের সঙ্গে সহযোগিতা করে, অপরাধ সম্পর্কিত ডাটাবেস শেয়ার করে এবং তদন্তমূলক প্রশিক্ষণ দেয়। ইন্টারপোলের মূল কাজ তিনটি খাতে বিভক্ত: ১) সন্ত্রাসবাদ দমন, ২) সাইবার অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, ৩) সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলা। এর পাশাপাশি শিশু পাচার, মাদক ব্যবসা, দুর্নীতি, বৌদ্ধিক সম্পত্তি চুরি এবং মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধেও এটি কাজ করে।

আরও পড়ুন- ভূমিষ্ঠ হয়েছিল মুদ্রিত বাংলা হরফ, সে কাহিনি গায়ে কাঁটা দেবে!

ইন্টারপোলের বার্ষিক বাজেট প্রায় ১৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। অর্থের মূল উৎস সদস্য রাষ্ট্রগুলির বার্ষিক অবদান। সংস্থাটি একটি সাধারণ পরিষদের মাধ্যমে পরিচালিত হয়, যেখানে প্রতিটি দেশের প্রতিনিধি থাকে। নির্বাহী কমিটি ও সভাপতি নীতিগত কাজ দেখভাল করেন, আর প্রতিদিনের কার্যক্রম চালান মহাসচিব ও তাঁর টিম।

আরও পড়ুন- পিতৃপক্ষে এই ৫ জিনিস দানে দারিদ্র্য হয় দূর, মেলে পূর্বপুরুষের আশীর্বাদ

ইন্টারপোলের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা। সংবিধান অনুসারে, এই সংস্থা কোনও রাজনৈতিক, ধর্মীয় বা সামরিক সংঘাতে হস্তক্ষেপ করে না। বরং কেবলমাত্র অপরাধ দমন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজেই এটি সীমাবদ্ধ থাকে। সংস্থাটি চারটি ভাষায় কাজ করে: ইংরেজি, ফরাসি, স্প্যানিশ এবং আরবি। আধুনিক যুগে এর অনলাইন ডাটাবেস ও যোগাযোগ ব্যবস্থা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠেছে।

১৯২৩ সালে ছোট আকারে যাত্রা শুরু করা ইন্টারপোল আজ আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনে অন্যতম ভরসার নাম। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, সাইবার হুমকি ও সংগঠিত অপরাধ মোকাবিলায় ইন্টারপোলের কার্যকর ভূমিকা রয়েছে। ২১ শতকে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা জোরদার করার ক্ষেত্রে এই সংস্থার ভূমিকা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।

history Interpol