/indian-express-bangla/media/media_files/2026/02/14/valentine-2026-02-14-09-10-23.jpg)
Valentine's Day 2026: প্রতীকী ছবি।
Why do we celebrate Valentine's Day: গোলাপের সুগন্ধ আর চকলেটের মিষ্টিতে আজ ভাসছে গোটা বিশ্ব। কিন্তু এই উৎসবের পেছনে রয়েছে এক রক্তঝরা ইতিহাস। রোমের এক ধর্মযাজকের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা ও আত্মত্যাগের কাহিনী আজ কোটি কোটি মানুষের মনে প্রেমের উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তৃতীয় শতাব্দীর সেই নিষিদ্ধ প্রেম
ভ্যালেন্টাইনস ডে-র নামকরণ করা হয়েছে তৃতীয় শতাব্দীর রোমান যাজক সেন্ট ভ্যালেন্টাইনের নামানুসারে। সেই সময় রোমের সম্রাট দ্বিতীয় ক্লডিয়াস বিশ্বাস করতেন, অবিবাহিত যুবকরাই সেরা সৈনিক হতে পারে। তাই তিনি আইন করে সেনাদের বিয়ে নিষিদ্ধ করেন। কিন্তু যাজক ভ্যালেন্টাইন সম্রাটের অবাধ্য হয়ে গোপনে সেনাদের বিয়ের ব্যবস্থা করতেন। এই খবর জানাজানি হতেই তাঁকে বন্দি করা হয়।
আরও পড়ুন-১৪ ফেব্রুয়ারি: ক্যালেন্ডারের পাতায় ভালোবাসা নয়, আজ বীর জওয়ানদের রক্তে ভেজা এক কালো দিন
কারাগারে থাকাকালীন তিনি তাঁর জেলারের অন্ধ মেয়ের চিকিৎসা করেন এবং দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেন। প্রচলিত আছে যে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার আগে তিনি ওই তরুণীকে একটি চিরকুট লিখে যান, যার শেষে লেখা ছিল, ‘ফ্রম ইয়োর ভ্যালেন্টাইন’। ২৭০ খ্রিস্টাব্দের ১৪ ফেব্রুয়ারি তাঁর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়।
যেভাবে উৎসবের শুরু
ভ্যালেন্টাইনের মৃত্যুর প্রায় ২০০ বছর পর রোমান গির্জা পৌত্তলিক উৎসব ‘লুপারকালিয়া’ বন্ধ করতে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে ‘সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে’ হিসেবে ঘোষণা করে। মধ্যযুগে কবি চসার প্রথম এই দিনটিকে রোমান্টিক প্রেমের সাথে যুক্ত করেন। এরপর ইউরোপজুড়ে ‘আদালত অব প্রেম’ (High Court of Love)-এর মতো মজার প্রথা চালু হয়, যেখানে মানুষ প্রেমের কবিতা পড়ত এবং প্রিয়জনকে মনের কথা জানাত।
রূপ বদলেছে বিবর্তনে
প্রাচীনকালে মানুষ হাতে তৈরি সুন্দর কার্ড, ফিতে এবং লেস দিয়ে সাজিয়ে প্রিয়জনকে পাঠাত। সেই সব কার্ডে কিউপিড (প্রেমের দেবতা), হৃদপিণ্ড ও ফুলের নকশা থাকত। আজও সেই চিহ্নগুলোই প্রেমের বিশ্বজনীন প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
আরও পড়ুন- Cow Milk Benefits: গরুর দুধ কি সত্যিই মানুষের শরীরের জন্য উপকারী? জানুন বৈজ্ঞানিক সত্য!
বর্তমান সময়ে ভ্যালেন্টাইনস ডে
আধুনিক যুগে ভালোবাসা দিবস কেবল প্রেমিক-প্রেমিকাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বিশ্বের অনেক দেশে এটি পরিবার এবং বন্ধুদের প্রতি ভালোবাসা প্রকাশের দিনে পরিণত হয়েছে। প্রতি বছর কোটি কোটি কার্ড ও লাল গোলাপ দেওয়া-নেওয়া হয়। রেস্তোরাঁগুলোতে থাকে বিশেষ আয়োজন। অনেক জুটি এই দিনটিকে স্মরণীয় করতে সুন্দর কোনো স্থানে ঘুরতে যান। সম্পর্কে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হওয়ার জন্য ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্বের অন্যতম জনপ্রিয় দিন। পাহাড়ের চূড়ায় বা বিলবোর্ডে সৃজনশীল বার্তার মাধ্যমে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার চল এখন তুঙ্গে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us