/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/07/shanidev-and-shiva-2025-12-07-00-27-19.jpg)
Shanidev and Shiva: শনিদেব ও শিব।
Home Vastu Tips: বাড়ির আশপাশে থাকা গাছ আমাদের শুধু ছায়াই দেয় না, মন ও পরিবেশকে শান্ত রাখে। তাই মানুষ আজকাল বাড়ি সাজাতে নানা শৌখিন গাছ ব্যবহার করেন। কিন্তু বড় বা পুরনো গাছ থাকলে অনেকে নানা কারণে সেই গাছ কেটে ফেলেন। বাড়ির জায়গা কমে যাওয়া, নিরাপত্তার সমস্যা বা বাড়ির কাঠামোর ক্ষতি—এসব কারণেই সাধারণত গাছ কাটতে হয়। কিন্তু শাস্ত্রীয় মতে, সব গাছ ইচ্ছেমতো কেটে ফেলা যায় না। কিছু পবিত্র গাছকে কেটে ফেললে বাড়িতে অশুভ শক্তির প্রভাব বাড়ে বলে মনে করা হয়। বিশেষত শিব ও শনির কৃপা নষ্ট হয়, যা পরিবারের শান্তি, স্বাস্থ্য ও আর্থিক স্থিতিতে অমঙ্গল ডেকে আনতে পারে।
বেলগাছকে বহু পুরাণে পবিত্র গাছ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। মহাদেবের পুজো বেলপাতা ছাড়া অসম্পূর্ণ। ঘরে থাকা বেলগাছ কেটে ফেললে মহাদেব রুষ্ট হন বলে শাস্ত্রে বলা আছে। অনেকেই বাড়ির উঠোনে বেলগাছ বড় হয়ে গেলে ভেবে নেন এটি কেটে ফেললেই সমস্যার সমাধান। কিন্তু ধারনা করা হয়, বেলগাছ কাটলে পরিবারের ওপর অশান্তি, আর্থিক ক্ষতি বা স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই বেলগাছ বাড়িতে থাকলে যতটা সম্ভব সেটিকে রক্ষা করা উচিত।
আরও পড়ুন- সূর্যাস্তের পরে নিষিদ্ধ, ভুলেও করবেন না এই সব কাজ, রুষ্ট হতে পারেন লক্ষ্মী!
নিমগাছের গুরুত্বও শাস্ত্রে বিশেষভাবে উল্লেখ করা হয়েছে। এটি শুধু ঔষধি গাছ নয়, অনেকের মতে এটি শুভ শক্তির প্রতীক। বাড়ির দালান বা উঠোনে থাকা নিমগাছকে ত্যাগ করলে গৃহস্বামী ও সন্তানদের জীবনে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে বিশ্বাস প্রচলিত আছে। নিমগাছের ছায়া অনেকের মতে নেতিবাচক শক্তি দূর করে। তাই অকারণে নিমগাছ কাটা উচিত নয়। যদি বাধ্য হয়ে তা কাটতেই হয়, তবে তার বিকল্প রোপণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন- চূড়ান্ত অশান্তি, ২০২৬-এ ভাঙতে পারে এই তিন রাশির সম্পর্ক!
নারকেল গাছ সাধারণত উঁচু ও সুদর্শন হওয়ায় অনেকেই বাড়িতে রাখেন। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে বাড়ির ওপর ঝুঁকি তৈরি হলে অনেকে এই গাছ কেটে ফেলেন। শাস্ত্রমতে নারকেল গাছ কাটলে বাড়িতে রোগ-বিপদ প্রবেশ করে বলে ধারণা রয়েছে। অনেকে বলেন, নারকেল গাছ স্বাস্থ্যের প্রতীক, তাই সেটি কেটে ফেললে পরিবারে দীর্ঘস্থায়ী রোগ দেখা দিতে পারে। যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে এসব বিশ্বাসের কোনও ভিত্তি নেই, তবু বহু মানুষ এখনও এই রীতি অনুসরণ করেন।
আরও পড়ুন- বিয়ের পর ভালোবাসা কমছে? দাম্পত্যে অশান্তির নেপথ্যে নাড়ীদোষ, জানুন প্রতিকার
অশ্বত্থ গাছের ক্ষেত্রে শাস্ত্রীয় বিশ্বাস আরও কঠোর। বলা হয়, এই গাছের গোড়ায় দেবতাদের আশ্রয় থাকে। তাই অনেক সময় বাড়ির আশেপাশে অশ্বত্থ গাছ গজিয়ে উঠলে মানুষ ভয়ে তা উপড়ে ফেলেন। কারণ বাড়ির দেয়াল বা ফ্লোর ভাঙার আশঙ্কা থাকে। কিন্তু শাস্ত্র মতে, অশ্বত্থ গাছকে বাড়িতে উপড়ে ফেললেও সেটিকে অন্যত্র রোপণ করা আবশ্যিক। না হলে শনিদেব রুষ্ট হন বলে মনে করা হয়। শনির অপ্রসন্নতা জীবনে বাধা, কর্মহানি বা অশান্তি বাড়াতে পারে বলে বহু পুরাণে উল্লেখ আছে।
আরও পড়ুন- আজ কী লেখা আছে আপনার ভাগ্যে? পড়ুন রাশিফল
বটগাছকে অনেকেই বাড়িতে রাখা অনুচিত ভাবেন। কিন্তু তা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। বটগাছ শাস্ত্রমতে অত্যন্ত পবিত্র গাছ, যার মধ্যে ঈশ্বরের উপস্থিতি আছে বলে বিশ্বাস করা হয়। বাড়িতে যদি বটগাছ জন্মে, সেটিকে কাটলে গুরুতর অমঙ্গল হতে পারে। পরিবারের সৌভাগ্য ক্ষুণ্ণ হয় বলে অনেকে মনে করেন। তাই বটগাছ কাটার আগে বহু মানুষ পুজো বা বিশেষ প্রার্থনা করে থাকেন।
কিছু নিয়ম মানা উচিত
যদি কোনও পরিস্থিতিতে গাছ কাটা অপরিহার্য হয়ে পড়ে, তখন কিছু নিয়ম মানা উচিত। শাস্ত্র মতে এমন দিনে গাছ কাটতে হয় যেদিন বাড়িতে অশুভ প্রভাব কম থাকে। কাটার আগে সেই গাছে গঙ্গাজল ছিটিয়ে ধূপ–ধুনো দিয়ে প্রার্থনা করতে হয়। এরপর গাছ কাটলে তার চারা অন্য কোথাও রোপণ করা উচিত, যাতে কাটার দোষ কমে যায়। অনেকে বিশ্বাস করেন, অন্যত্র গাছ লাগালে সেই গাছের আশীর্বাদ বজায় থাকে এবং অমঙ্গলও দূরে থাকে।
এই বিশ্বাসগুলো মূলত লোকায়ত রীতি ও পুরাণভিত্তিক, যা বহু বছর ধরে প্রচলিত। আধুনিক সময়েও অনেকেই যুক্তি নয়, আধ্যাত্মিকতা ও ঐতিহ্যের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে এই নিয়মগুলি পালন করেন। প্রকৃতির প্রতি সম্মান ও গাছের প্রতি কৃতজ্ঞতা দেখাতেই মূলত এসব রীতি তৈরি হয়েছে—এ কথা অস্বীকার করার কোনও উপায় নেই।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us