/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/28/howrah-siddheshwari-kali-temple-2025-11-28-05-17-37.jpg)
Howrah Siddheshwari Kali Temple: হাওড়ার ‘সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি’
Howrah Siddheshwari Kali Temple: হাওড়া জেলার ইতিহাসে যেমন নদী, রেলস্টেশন ও শিল্পাঞ্চলের দাপট রয়েছে, তেমনই রয়েছে দেবী মহামায়ার অসংখ্য মন্দিরের কাহিনি। তার মধ্যেই বিশেষ উল্লেখযোগ্য কালীবাবুর বাজার সংলগ্ন সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির, যার ইতিহাস যেন পুরোনো হাওড়ার শিকড় ধরে থাকা এক বিস্মৃত ঐতিহ্য। তিনশো বছরেরও বেশি সময় ধরে পূজিত এই দেবস্থানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছে কিংবদন্তি, তন্ত্রসাধনা, নদীপথের যাত্রীদের অটল বিশ্বাস এবং স্থানীয় মানুষের গভীর ভক্তি।
দেবী বামাকালী রূপে পূজিতা
বর্তমান হাওড়ার ব্যস্ত শহুরে পরিবেশে দাঁড়িয়ে থাকা এই মন্দিরের ইতিহাস একসময় সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। তিনশো–সাড়ে তিনশো বছর আগে এই অঞ্চল ছিল ঘনজঙ্গল ও বন্যপ্রাণীতে ভরা। পাশ দিয়েই বয়ে যেত গঙ্গার একটি শাখা—হুগলি নদী। সেই সময় বহু মানুষ নৌকা করে দূরদূরান্তে যাতায়াত করতেন এবং যাত্রাপথে নৌকা থামিয়ে মায়ের কাছে প্রণাম জানিয়ে যেতেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের বিশ্বাস, এই অঞ্চলের রক্ষাকর্ত্রী ছিলেন দেবী সিদ্ধেশ্বরী, যিনি আদতে বামাকালী রূপে পূজিতা হন।
আরও পড়ুন- ওয়্যাক্সিং-শেভিং বন্ধ করুন, এই ঘরোয়া পাউডারেই মুখের লোম দূর হবে সহজে
লোককথায় জানা গিয়েছে, প্রায় তিনশো বছর আগে এক তন্ত্রসাধক সন্ন্যাসী এই অঞ্চলে পর্ণকুটির তৈরি করে দেবীর একটি মৃন্ময়ী প্রতিমা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তিনি গোপনে তন্ত্রসাধনা ও কালীসাধনা করতেন। দীর্ঘদিনের সাধনার পর দেবী তাঁকে স্বপ্নাদেশ দেন এবং সেখান থেকেই প্রতিষ্ঠা পায় সিদ্ধেশ্বরী তলা। এই ‘তলা’-র নাম থেকেই সৃষ্টি হয় এলাকার নাম—সিদ্ধেশ্বরী তলা। তখনকার দিনে এই অঞ্চল নির্জন হলেও দেবীর মাহাত্ম্যে প্রতিদিন ভক্তদের আনাগোনা বাড়তে শুরু করেছিল।
আরও পড়ুন- ফুসফুসের ক্যানসারে দ্রুতহারে বাড়ছে, এই লক্ষণগুলো দেখলেই হোন সতর্ক!
পরবর্তীতে রানী বিরাজমোহিনী দেবীর নির্দেশে গঙ্গোপাধ্যায় পরিবার এই মন্দিরের সেবাইতের দায়িত্ব পান। আজও তাঁদের বংশধরেরাই এই ঐতিহ্য বহন করে চলেছেন। ধূপ–দীপ–নৈবেদ্যসহ প্রতিদিনের পূজা যেমন নিয়মমাফিক হয়, তেমনই উৎসবের দিনে ভক্তদের ভিড়ে উপচে পড়ে মন্দির প্রাঙ্গণে। বর্তমান কষ্টিপাথরের ত্রিনয়নী দেবী কালিকার মূর্তি স্থাপন করা হয় ১৯২০ সালের ১৬ আশ্বিন। পাঁচ ফুট উচ্চতার এই মূর্তি নির্মাণ করেছিলেন কাশীর এক বিখ্যাত ভাস্কর। দেবীর গলায় রুপো ও সোনার অলঙ্কার, হাতে রূপোর খাঁড়া, আর চোখে ত্রিনয়নের তীব্র শক্তির প্রকাশ—এভাবেই জাগ্রত দেবীর রূপ ভক্তদের সামনে উঠে এসেছে।
আরও পড়ুন- ভিভ রিচার্ডসের মত বিরাট কোহলিও কেন মাঠে চুইংগাম চিবোন? জানুন গোপন রহস্য
একতলা মন্দিরের সামনে রয়েছে নাটমন্দির। সেখান থেকেই শুরু হয় ভক্তদের সারি, প্রদীপের আলো, ধূপের গন্ধ আর শঙ্খধ্বনির শব্দে তৈরি পবিত্র আবহ। বিশেষ দিনে সন্ধ্যা আরতির সময় মন্দির যেন আলোকোজ্জ্বল হয়ে ওঠে। দূরদূরান্ত থেকে ভক্তরা এসে মনে মনে মানত করে যান। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, 'দেবী সিদ্ধেশ্বরীর দরবারে কেউ খালি ফিরে যায় না।'
আরও পড়ুন- আলিপুরের পর কলকাতার দ্বিতীয় চিড়িয়াখানা, কীভাবে যাবেন?
হাওড়া স্টেশন থেকে রামরাজাতলার দিকে যাওয়া বাসে কালীবাবুর বাজারে নামলেই চোখে পড়বে মন্দিরের চূড়া। ঠিকানা—৫২ নম্বর নেতাজী সুভাষ রোড, কিন্তু ভক্তদের মুখে এ মন্দিরের পরিচয়, ‘সিদ্ধেশ্বরী কালীবাড়ি’। স্বাস্থ্য, সন্তানলাভ, মানসিক শান্তি, ব্যবসা—এমন নানা ইচ্ছাপূরণের কাহিনি স্থানীয় মানুষ আজও বলেন গর্ব করে। তিনশো বছরের বেশি সময় পার করেও দেবীর মাহাত্ম্য একটুও ফিকে হয়নি, বরং সময়ের সঙ্গে আরও বেড়েছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us