/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/28/kidneys-diet-2026-01-28-10-40-17.jpg)
Kidney's Diet: এই ডায়েটে ভালো রাখুন কিডনি।
Kidney's Diet: বর্তমান সময়ে সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস। কী খাবেন আর কী খাবেন না—এই সিদ্ধান্তই দীর্ঘমেয়াদে আপনার হার্ট, কিডনি, লিভার এবং সামগ্রিক স্বাস্থ্যের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করে। সম্প্রতি জনপ্রিয় পুষ্টিবিদ অমিতা গাদ্রে (Amita Gadre) তাঁর আমি আমার কিডনিকে ভালোবাসি (I Love My Kidneys), এই ভাবনাকে সামনে এনে এমন ছয়টি খাবার ও পানীয়ের কথা বলেছেন, যেগুলো তিনি একেবারেই এড়িয়ে চলেন। তাঁর এই তালিকা শুধু ট্রেন্ডি ডায়েট নয়, বরং বিজ্ঞানভিত্তিক স্বাস্থ্যচিন্তার প্রতিফলন।
জেনে নিন পুষ্টিবিদ কী বলছেন
এক্ষেত্রে প্রথমেই আসে এনার্জি ড্রিংকস (Energy Drinks)-এর প্রসঙ্গ। বাইরে থেকে এনার্জি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে এই পানীয়গুলোতে থাকে অতিরিক্ত চিনি ও উচ্চমাত্রার ক্যাফেইন। নিয়মিত এনার্জি ড্রিংকস খেলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যেতে পারে, ঘুমের সমস্যা দেখা দেয় এবং দীর্ঘমেয়াদে মেটাবলিক ডিসঅর্ডারের ঝুঁকি বাড়ে। অমিতা গাদ্রে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এতটা ক্যাফেইনের প্রয়োজন তাঁর শরীরের নেই।
আরও পড়ুন- দই দিয়ে বানান ৬টি অজানা রেসিপি, যা স্বাদে ও পুষ্টিতে চমকে দেবে!
এরপর রয়েছে বহুল প্রচারিত ডিটক্স জুস এবং ভেজিটেবল জুস (Detox Juices ও Vegetable Juices)-এর কথা। অনেকেই মনে করেন এই ধরনের পানীয় শরীর পরিষ্কার করে দেয়। কিন্তু বাস্তবটা হল, আমাদের শরীরের কিডনি ও লিভার নিজের কাজ নিজেই করে। অতিরিক্ত ডিটক্স জুস শরীরে অক্সালেট-এর ভার (oxalate load) বাড়াতে পারে, যা কিডনির জন্য ক্ষতিকর। তাই গাদ্রে (Gadre) বলেন, 'আমি আমার কিডনিকে ভালোবাসি, অকারণে ওদের ওপর চাপ দিতে চাই না।'
আরও পড়ুন- পেট ফাঁপার আসল কারণ কী? বিশেষজ্ঞের মতে, ৮টি ভুল না করলে কমবে এই সমস্যা
তৃতীয় যে খাবারগুলো তিনি এড়িয়ে চলেন, সেগুলো হলো রং-যুক্ত খাবার (Added Food Colour)। লাল বা সবুজ রং দেওয়া কেক, ফাস্ট ফুড, কিংবা জনপ্রিয় স্টার্টার যেমন চিকেন ললিপপ—এই সব খাবারে থাকা কৃত্রিম রং দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। যদিও অল্পমাত্রায় সবার ক্ষতি না-ও হতে পারে, তবে দীর্ঘদিন ধরে এগুলো খেলে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে বাধ্য।
আরও পড়ুন- হলুদ বা সোনালি সাবান ব্যবহারের ট্রেন্ড, ত্বকের জন্য এটা আশীর্বাদ না ক্ষতিকারক?
চতুর্থ তালিকায় রয়েছে আমাদের দৈনন্দিন স্ন্যাক্স—নমকিন, ভুজিয়া, ফারসান ইত্যাদি। দেখতে অল্প মনে হলেও এগুলোর মধ্যে থাকা ট্রান্স ফ্যাট ও অতিরিক্ত নুন ক্রমশ ধমনীতে চর্বিযুক্ত স্তর (প্লাক) জমাতে সাহায্য করে। এর ফলে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ এবং প্রদাহের ঝুঁকি বেড়ে যায়। গাদ্রে (Gadre) সোজাসাপটা জানিয়েছেন, তিনি তাঁর হৃদপিণ্ড এবং ধমনীকে ভালোবাসেন।
আরও পড়ুন- মাত্র ১ লক্ষ টাকায় ঘুরে নিন এই ৬ দেশ
এরপর আসে হুইপড ক্রিম (Whipped Cream) বা হুইপড টপিং (Whipped Topping)-যুক্ত খাবার। অনেকেই জানেন না, এই হুইপড টপিং আসলে ক্রিম নয়, বরং বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তা তৈরি হয় পাম অয়েল (palm oil) দিয়ে। এই ধরনের স্যাচুরেটেড ফ্যাট শরীরের লিপিড প্রোফাইল খারাপ করে দিতে পারে এবং ওজন বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
সবশেষে রয়েছে ফ্রুট জুস (Fruit Juice)। ফলের রস পান করা অনেকের কাছে স্বাস্থ্যকর মনে হলেও বাস্তবে ফলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ—ফাইবার। যা ফলের রসে থাকে না। ফল চিবিয়ে খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা ধীরে বাড়ে, কিন্তু জুস খেলে তা হঠাৎ বেড়ে যেতে পারে। তাই গাদ্রের মতে, ফল খাওয়াই জুসের থেকে অনেক বেশি উপকারী।
এই বিষয়ে মত দিয়েছেন দিল্লির সিকে বিড়লা হাসপাতালের প্রধান পরামর্শদাতা (Internal Medicine) চিকিৎসক ডা. নরেন্দর সিংলা (Dr Narander Singla, CK Birla Hospital, Delhi)। তাঁর মতে, এই খাবারগুলো এড়িয়ে চলা একেবারেই যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত। এতে শরীর পায় কম প্রসেসড খাবার, নিয়ন্ত্রিত চিনি ও ফ্যাট এবং বেশি পুষ্টিগুণ। দীর্ঘমেয়াদে এটি হার্ট, কিডনি এবং মেটাবলিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কিডনির জন্য উপকারী ডায়েট (Kidney's Diet) সচেতন জীবনযাপনের প্রতিফলন। মাঝেমধ্যে ইচ্ছে হলে একটু উপভোগ করাই যায়, তবে এই খাবারগুলো এড়িয়ে চললে ভবিষ্যতে শরীর আপনাকে ধন্যবাদ দেবে।


/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us