Incline Walking for Fat Loss: ট্রেডমিলে এই পথে হাঁটলেই কমবে পেটের মেদ? জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ

Incline Walking for Fat Loss: ট্রেডমিলে দৌড় নয়, ঢালু পথে হাঁটাই হতে পারে মেদ ঝরানোর সেরা উপায়। পদ্ধতিটি কতটা উপকারী, কারা কী করবেন— বিস্তারিত জানুন।

Incline Walking for Fat Loss: ট্রেডমিলে দৌড় নয়, ঢালু পথে হাঁটাই হতে পারে মেদ ঝরানোর সেরা উপায়। পদ্ধতিটি কতটা উপকারী, কারা কী করবেন— বিস্তারিত জানুন।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Incline Walking for Fat Loss: মেদ কমানোর উপায় জেনে নিন।

Incline Walking for Fat Loss: মেদ কমানোর উপায় জেনে নিন।

Incline Walking for Fat Loss: ওজন কমানো বা শরীরের অতিরিক্ত মেদ ঝরানোর কথা উঠলেই বেশিরভাগ মানুষের মাথায় প্রথমে আসে দৌড়, জিমে কঠিন ব্যায়াম বা খুব বেশি ঘাম ঝরানোর ওয়ার্কআউট। কিন্তু সাম্প্রতিক এক স্বাস্থ্য আলোচনায় উঠে এসেছে এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি। হৃদ্‌রোগ ও রক্তসঞ্চালন সংক্রান্ত গবেষণার সঙ্গে যুক্ত এক বিশেষজ্ঞের মতে, ট্রেডমিলে খুব জোরে দৌড়ানো নয়, বরং সঠিক ঢালে ধীরে ও নিয়ন্ত্রিত গতিতে হাঁটাই হতে পারে মেদ কমানোর কার্যকরী এবং দীর্ঘস্থায়ী উপায়।

Advertisment

ট্রেডমিলের ঢালু অংশ

এই পদ্ধতিতে ট্রেডমিলের ঢালু অংশ দশ থেকে বারো শতাংশের মধ্যে রেখে, মাঝারি গতিতে হাঁটার কথা বলা হয়েছে। এতে শরীরের ওপর চাপ কম পড়ে, অথচ ক্যালোরি খরচ ও চর্বি পোড়ানোর প্রক্রিয়া সক্রিয় থাকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের হাঁটায় শরীর এমন একটি অবস্থায় থাকে যেখানে শক্তির মূল উৎস হিসেবে চর্বি ব্যবহার করা হয়, যা ধীরে হলেও স্থায়ীভাবে মেদ কমাতে সাহায্য করে।

আরও পড়ুন- এই ৫টি ভালো অভ্যাস ক্যান্সারের আশঙ্কা কমাতে পারে, জানিয়েছে হু

ঢালু পথে হাঁটার সবচেয়ে বড় সুবিধা হল এতে পা, নিতম্ব ও কোমরের পেশি একসঙ্গে সক্রিয় হয়। সমতল রাস্তায় হাঁটার তুলনায় এখানে শরীরকে বেশি পরিশ্রম করতে হয়, কিন্তু দৌড়ের মতো হঠাৎ ধাক্কা বা জোড়ায় অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। ফলে হাঁটু বা গোড়ালির সমস্যায় ভোগা অনেক মানুষও তুলনামূলক নিরাপদে এই ব্যায়ামটি করতে পারেন।

আরও পড়ুন- তুলসী পাতা এভাবে ব্যবহার করুন, ব্রণ দূর করে মুখ হবে স্বাভাবিক উজ্জ্বল

হৃদ্‌রোগ বিশেষজ্ঞদের ব্যাখ্যায় উঠে এসেছে, মাঝারি গতিতে দীর্ঘ সময় হাঁটলে হৃদ্‌যন্ত্রের ওপর নিয়ন্ত্রিত চাপ পড়ে, যা ধীরে ধীরে সহনশীলতা বাড়ায়। এতে রক্তচাপ ও হৃদ্‌স্পন্দন নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীর অতিরিক্ত ক্লান্ত না হয়ে চর্বি পোড়ানোর কাজে মনোযোগ দেয়। এই কারণেই এই পদ্ধতিকে অনেকেই দৌড়ের বিকল্প হিসেবে দেখছেন।

আরও পড়ুন- বলতে গেলে ঘরোয়া জিনিস, এগুলো পিরিয়ডের ব্যথা কমাতে দুর্দান্ত কাজ করে, জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞ!

তবে এই ব্যায়াম সবার জন্য এক রকম উপযোগী হবে, এমনটা নয়। যাঁরা একেবারেই নতুন, তাঁদের ক্ষেত্রে হঠাৎ বেশি ঢালু বা দীর্ঘ সময় হাঁটা শরীরের জন্য কষ্টকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ধীরে ধীরে শুরু করাই সবচেয়ে নিরাপদ পথ। প্রথমে কম ঢালুতে অল্প সময় হাঁটা, তারপর শরীরের সক্ষমতা অনুযায়ী সময় ও ঢালু বাড়ানো উচিত।

আরও পড়ুন- রাতে দাঁত না মাজলে হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়তে পারে, জানিয়েছেন চিকিৎসকরা

হৃদ্‌রোগ, অনিয়ন্ত্রিত রক্তচাপ বা দীর্ঘদিনের হাঁটু ও জোড়ার সমস্যায় যাঁরা ভুগছেন, তাঁদের এই ধরনের ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। কারণ ঢালু পথে হাঁটা তুলনামূলকভাবে হৃদ্‌যন্ত্র ও পায়ের পেশির ওপর বেশি চাপ সৃষ্টি করে। ভুলভাবে করলে পেশিতে ব্যথা, হাঁটুতে টান বা পায়ের শিনে যন্ত্রণা দেখা দিতে পারে।

আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল হাঁটার ভঙ্গি। ট্রেডমিলে হাঁটার সময় অনেকেই ভারসাম্য রাখতে হাতল ধরে রাখেন, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে এতে ব্যায়ামের কার্যকারিতা কমে যায়। সোজা হয়ে হাঁটা, দৃষ্টিকে সামনে রাখা এবং স্বাভাবিকভাবে হাত নাড়ানো শরীরের ভারসাম্য ও ক্যালোরি খরচ দুটোই বাড়ায়। সঠিক জুতো পরাও এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ভুল জুতো হাঁটুর ওপর অতিরিক্ত চাপ ফেলতে পারে।

মেদ কমানোর ক্ষেত্রে শুধুমাত্র এই হাঁটার ওপর নির্ভর করলেও খুব ভালো ফল পাওয়া না-ও যেতে পারে। বিশেষজ্ঞরা জোর দিচ্ছেন খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার সামগ্রিক পরিবর্তনের ওপর। পরিমিত ক্যালোরি, পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এড়িয়ে চললে এই ব্যায়ামের সুফল অনেক বেশি পাওয়া যায়। এর সঙ্গে সপ্তাহে কয়েক দিন হালকা শক্তিবর্ধক ব্যায়াম যোগ করলে পেশি সুস্থ থাকে এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া আরও সক্রিয় হয়।

নিয়মানুবর্তিতা এখানে সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি। সপ্তাহে অন্তত তিন দিন থেকে শুরু করে ধীরে সময় বাড়ালে শরীর অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। দীর্ঘমেয়াদে দেখলে, এই ধীর কিন্তু ধারাবাহিক পদ্ধতিই অনেকের জন্য নিরাপদ ও টেকসই ওজন কমানোর পথ হয়ে উঠতে পারে।

walking Fat Loss