/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/19/indira-gandhi-2025-11-19-13-30-14.jpg)
Indira Gandhi Birth Anniversary: জন্মদিনে ইন্দিরা গান্ধীকে স্মরণ।
Indira Gandhi Birth Anniversary: জন্মদিন উপলক্ষে আজ গোটা বিশ্ব স্মরণ করছে ভারতের অন্যতম শক্তিশালী এবং বিতর্কিত ব্যক্তিত্ব ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী গান্ধীকে। ১৯১৭ সালের ১৯ নভেম্বর ভারতের বিখ্যাত নেহেরু পরিবারে তার জন্ম। ছোটবেলা থেকেই তিনি রাজনীতির বাতাসে বড় হয়েছেন। ঠাকুর্দা মতিলাল নেহেরু ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। তাঁর বাবা জওহরলাল নেহেরু ছিলেন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। এমন পরিবারের সন্তান হওয়ায় ইন্দিরার মধ্যে শৈশব থেকেই দেশ, রাজনীতি এবং সমাজ নিয়ে কৌতূহল ছিল তুঙ্গে।
শৈশবে পড়াশোনা করেন সুইজারল্যান্ডে
শৈশবে তিনি পড়াশোনা করেন সুইজারল্যান্ডে। পরে অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে। এছাড়া ভারতীয় সংস্কৃতির ছোঁয়া পেতে ১৯৩৪-৩৫ সালে শান্তিনিকেতনে পাঠ নেন। সেখানে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ হয় কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের। কবিগুরুই তার নাম দেন 'প্রিয়দর্শিনী'। সেই নামই পরবর্তীতে তাঁর পরিচয়ের অংশ হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন- সুরের আলোর পথযাত্রী, জন্মদিনে সলিল চৌধুরীর জীবনের নানা অজানা দিক স্মরণ
শৈশব থেকেই ইন্দিরার স্বভাব ছিল দৃঢ়। তিনি ছিলেন আত্মবিশ্বাসী এবং সংগ্রামী। স্বাধীনতা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে তিনি রাজনৈতিক পরিবেশ কাছ থেকে দেখেছেন। ১৯৪২ সালে 'ভারত ছাড়ো' আন্দোলনের সময় তিনি সরাসরি সক্রিয় হন এবং সেই সময় তাঁকে কারাবন্দি করা হয়েছিল। কিন্তু, তাঁর সাহস ভাঙেনি। এই সময়ে তিনি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন সাংবাদিক ও কংগ্রেস নেতা ফিরোজ গান্ধীর সঙ্গে। বিবাহের পর তিনি আরও বেশি গুরুত্বের সঙ্গে রাজনৈতিক কার্যক্রমে যুক্ত হন।
আরও পড়ুন- শোবার ঘরে ভুলেও এই জিনিসগুলো রাখবেন না, ছড়াবে অশান্তি!
১৯৬৪ সালে লাল বাহাদুর শাস্ত্রীর মন্ত্রিসভায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হিসেবে যোগ দেন তিনি। মাত্র দুই বছরের মধ্যেই, ১৯৬৬ সালে ভারত পায় তার প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী—ইন্দিরা গান্ধীকে। তিনি সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ছিলেন অত্যন্ত কঠোর। ছিলেন আত্মবিশ্বাসী এবং রাজনৈতিকভাবে তিক্ষ্ণদৃষ্টি সম্পন্ন এক নেত্রী। নিজের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি এবং কর্মদক্ষতার মাধ্যমে ভারতের রাজনীতিকে তিনি কয়েক দশক ধরে প্রভাবিত করেছেন।
আরও পড়ুন- সুরের আলোর পথযাত্রী, জন্মদিনে সলিল চৌধুরীর জীবনের নানা অজানা দিক স্মরণ
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর সময়ে ভারত বেশ কিছু ঐতিহাসিক এবং কঠিন সিদ্ধান্তের মধ্যে দিয়ে গেছে। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে ইন্দিরা গান্ধীর ভূমিকা আজও বাঙালির হৃদয়ে অমর হয়ে আছে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্মম হত্যাযজ্ঞের সময়ে তিনি শুধু শরণার্থীদের আশ্রয়ই দেননি, আন্তর্জাতিক মহলে বাংলাদেশের পক্ষে জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রেখেছিলেন। তাঁর দৃঢ় নেতৃত্বে এই যুদ্ধে ভারত সামরিক হস্তক্ষেপ করেছিল। যার ফলে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে। এই অবদানের জন্য ২০১১ সালে বাংলাদেশ সরকার তাঁকে মরোণোত্তর স্বাধীনতা সম্মাননা প্রদান করেছিল।
আরও পড়ুন- বিশ্বের ৬টি ঐতিহাসিক রেলওয়ে স্টেশন, এগুলো আজ পুরোপুরি হোটেল
তবে তাঁর রাজনৈতিক জীবন সবসময় প্রশংসায় ভরা ছিল না। ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা জারি করার সিদ্ধান্ত তাঁকে ব্যাপক বিতর্কের মুখে ফেলে দেয়। অনেকেই মনে করেন, তখন তিনি কঠোরভাবে গণতন্ত্রের কিছু মৌলিক অধিকার সীমিত করেছিলেন। তবুও তাঁর জনপ্রিয়তা এবং রাজনৈতিক দক্ষতাকে অস্বীকার করার উপায় ছিল না।
পারিবারিক জীবনে ইন্দিরা ছিলেন নানা দুঃখ-দুর্ভাগ্যের সাক্ষী। তার ছোট ছেলে সঞ্জয় গান্ধী বিমান দুর্ঘটনায় মারা যান। বড় ছেলে রাজীব গান্ধীও পরবর্তীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হয়েছিলেন, কিন্তু তিনিও এক আত্মঘাতী হামলায় নিহত হন। এসব ব্যক্তিগত শোক ইন্দিরাকে ভেঙে দিতে পারেনি, বরং আরও শক্ত করেছে।
১৯৮৪ সালের জুনে তাঁর নির্দেশে ভারতীয় সেনারা শিখ ধর্মের পবিত্র তীর্থ স্বর্ণমন্দিরে অভিযান চালান। এই সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া ভয়াবহ হয়। সেই বছরের ৩১ অক্টোবর তাঁর নিজের শিখ দেহরক্ষীদের গুলিতে নিহত হন ইন্দিরা গান্ধী। তাঁর মৃত্যু শুধু ভারত নয়, গোটা বিশ্বকে স্তব্ধ করে দিয়েছিল।
ইন্দিরা গান্ধীর জীবন ছিল সাফল্য, সংগ্রাম, বিতর্ক এবং ইতিহাস নির্মাণের মিশ্রণ। তিনি ছিলেন এমন একজন নারী, যিনি পুরুষ-প্রধান রাজনীতির জগতে নিজের প্রতিভা, সাহস এবং দৃঢ়তাকে প্রমাণ করেছেন বারবার।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us