Intermittent Fasting & Walking: তিন মাস ধরে পালন করুন এই ২ রুটিন, মেদ তো কমবেই, বিরাট পরিবর্তন ঘটতে পারে শরীরে!

Intermittent Fasting & Walking: তিন মাস উপবাস এবং হাঁটাহাঁটি একসঙ্গে চালালে শরীর, হজম, মেটাবলিজম এবং এনার্জিতে কী পরিবর্তন আসতে পারে, জানুন বিশেষজ্ঞের থেকে।

Intermittent Fasting & Walking: তিন মাস উপবাস এবং হাঁটাহাঁটি একসঙ্গে চালালে শরীর, হজম, মেটাবলিজম এবং এনার্জিতে কী পরিবর্তন আসতে পারে, জানুন বিশেষজ্ঞের থেকে।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Walking benefits: উপবাস এবং হাঁটা, শরীরে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, বিস্তারিত জেনে নিন।

Walking benefits: উপবাস এবং হাঁটা, শরীরে কতটা প্রভাব ফেলতে পারে, বিস্তারিত জেনে নিন।

Intermittent Fasting & Walking: তিন মাস ধরে একসঙ্গে উপবাস এবং নিয়মিত হাঁটাহাঁটি একসঙ্গে চালালে শরীরের ভেতরে যে পরিবর্তনগুলি আসে, তা অনেকের কাছেই বিস্ময়কর মনে হতে পারে। সাধারণ নিয়মে আমাদের শরীর প্রতিদিন খাবার গ্রহণের পর নিরবচ্ছিন্নভাবে হজমপ্রক্রিয়ায় ব্যস্ত থাকে। কিন্তু, উপবাস সেই হজমপ্রক্রিয়াকে কিছুটা বিশ্রাম দেয়। নির্দিষ্ট সময় না খেয়ে থাকার ফলে জমে থাকা চর্বিকে শক্তির উৎস হিসেবে শরীর ব্যবহার করতে শুরু করে। অন্যদিকে হাঁটা শরীরকে সক্রিয় রাখে, রক্তসঞ্চালন বাড়ায় এবং শরীরকে নরমাল রিদমে ক্যালরি খরচ করতে সাহায্য করে।

Advertisment

টানা তিন মাস ধরে চালাতে হবে দুটি অভ্যাস

এভাবে তিন মাস ধরে দুটি অভ্যাস একসঙ্গে চালালে শরীর ধীরে ধীরে নিজের স্বাভাবিক ভারসাম্য ফিরে পায়। অতিরিক্ত মেদ কমতে থাকে, বিশেষ করে কোমর ও পেটের অংশে সবচেয়ে বেশি পরিবর্তন দেখা যায়। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং ইনসুলিন কমিয়ে দেয়, ফলে ক্ষুধার তীব্রতা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং শরীর সহজে ফ্যাট বার্ন করতে পারে। হাঁটার কারণে পেশির টোন বাড়ে, শরীর দৃঢ় হয় এবং ওজন কমার গতি আরও বাড়ে।

আরও পড়ুন- রান্নার কোন তেল বাড়ায় ফ্যাট ও ওজন? গবেষণায় মিলল চমক

হজমশক্তি উন্নতির ক্ষেত্রেও এই দুই অভ্যাস অসাধারণ ভূমিকা রাখে। দিনে নির্দিষ্ট সময় খাবার না খেলে অন্ত্র কিছুটা বিশ্রাম পায়। এর ফলে গ্যাস, পেট ফাঁপাভাব, অম্বল বা হজমজনিত অস্বস্তি কমতে শুরু করে। একই সময়ে হাঁটা পেটের কার্যক্ষমতা বাড়ায়, ফলে শরীরের খাবার ভাঙার ক্ষমতা আরও উন্নত হয়। অনেকেই তিন মাস পর জানান যে তাঁদের হজমের সমস্যা ঠিক হয়ে গিয়েছে। পেট হালকা লাগে এবং খাবারের পর অস্বস্তি থাকছে না।

আরও পড়ুন- কোন ডাল সবচেয়ে সহজপাচ্য? জেনে নিন বিশেষজ্ঞের থেকে

মানসিক স্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও এই রুটিন বিশেষভাবে উপকারি। দৈনিক কিছুটা হাঁটা শরীরে সুখহরমোন বাড়ায়, যার ফলে মন ভালো থাকে এবং স্ট্রেস কমে। অন্যদিকে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং রক্তে শর্করার ওঠানামা কমিয়ে মনকে স্থির রাখে। ফলে তিন মাস পর দেখা যায়, শরীর যেমন হালকা লাগে, মনও পরিষ্কার ও সতেজ থাকে। ঘুমের মানও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে।

আরও পড়ুন- দূষিত বাতাসে হারিয়ে যায় ব্যায়ামের স্বাস্থ্য উপকারিতা, গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য

তবে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, এই রুটিন সবার জন্য উপযোগী নয়। যাঁদের শরীর দুর্বল, রক্তে শর্করার সমস্যা রয়েছে, থাইরয়েড বা হরমোনজনিত জটিলতা আছে, তাঁদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করা উচিত নয়। আবার তিন মাস ধরে এই অভ্যাস বজায় রাখতে হলে সুষম খাবার, পর্যাপ্ত প্রোটিন, পর্যাপ্ত জল এবং ভালো ঘুম অপরিহার্য।

আরও পড়ুন- ঠান্ডা ঋতুতে কি রক্তচাপ বাড়ে? জানুন শীতে কীভাবে ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখবেন!

যাঁরা সঠিকভাবে রুটিন পালন করেন, তাঁদের মধ্যে তিন মাসের মাথায় সাধারণত তিনটি বড় পরিবর্তন দেখা যায়—ওজন কমে, শক্তি বাড়ে এবং মেটাবলিজম উন্নত হয়। শরীর শক্তি ব্যবহার করতে আরও দক্ষ হয়ে ওঠে। দিনের বিভিন্ন সময় এনার্জি ওঠানামা করে না, বরং স্থির থাকে। হাঁটার অভ্যাস শরীরকে ফিট রাখে আর ফাস্টিং শরীরকে ভেতর থেকে পরিষ্কার রাখে। এই দুইয়ের মিলনে শরীর নিজের স্বাভাবিক তাল ফিরে পায়।

দীর্ঘমেয়াদে এই অভ্যাস ধরে রাখা তুলনামূলকভাবে সহজ। কারণ, এতে শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে না। বরং ধীরে ধীরে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস তৈরি হয়, যা জীবনযাত্রাকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করে তোলে। তাই বলা যায়, সঠিক নির্দেশ অনুসরণ করে তিন মাস ধাপে ধাপে উপবাস এবং নিয়মিত হাঁটা একসঙ্গে চালালে শরীরের ভেতরে ইতিবাচক পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা বেড়ে যায়। তবে, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এই রুটিন শুরু করা উচিত নয়।

Fasting walking