/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/11/intermittent-fasting-2025-12-11-11-07-16.jpg)
Intermittent Fasting: ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং (IF)।
Intermittent Fasting: ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং বা ইন্টারমিটেন্ট টাইম–রেস্ট্রিকটেড খাওয়ার নিয়ম এখন ওজন কমানোর জগতে একটি পরিচিত শব্দ। ব্যস্ত জীবনে প্রতিদিন খাবারের ক্যালোরি গোনা বা একটি নির্দিষ্ট ডায়েট পরিকল্পনায় আটকে থাকা অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। সেখানে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং অনুযায়ী দিনের নির্দিষ্ট কয়েক ঘণ্টায় খাবার খেলেই যথেষ্ট। বাকি সময় শরীর থাকবে খালি পেটে, এবং সেই ফাস্টিং সময়টুকুই শরীরের বিপাকক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনবে। এজন্য এই পদ্ধতি এত জনপ্রিয়।
ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং মূলত আমাদের শরীরের স্বাভাবিক ঘুম–জাগরণ চক্র বা সারকাডিয়ান রিদম–এর সঙ্গে সমন্বয় করে চলে। সাধারণভাবে দিনের বেলায় শরীর খাবার হজমে সক্রিয় থাকে এবং রাতে বিপাকক্রিয়া অনেক ধীর হয়ে আসে। কিন্তু আধুনিক জীবনে কৃত্রিম আলো, রাত জাগা, দেরি করে খাওয়া এবং অনিয়মিত ঘুম–জাগার ফলে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ওজন বাড়া, ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স এবং প্রদাহের মতো সমস্যা দেখা দেয়। ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং সেই অগোছালো ছন্দকে কিছুটা স্বাভাবিক করতে সাহায্য করে।
শরীরে শক্তির উৎস
ফাস্টিং অবস্থায় কয়েক ঘণ্টা পর শরীর শক্তির উৎস হিসেবে গ্লুকোজ ব্যবহার বন্ধ করে, তার বদলে চর্বি ভেঙে তৈরি হওয়া কেটোন ব্যবহার করতে শুরু করে। এই পরিবর্তনে শরীরের কোষগুলো মেরামত হওয়ার সময় পায়, প্রদাহ কমে, ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ে এবং বিপাকক্রিয়াও আরও কার্যকর হয়। অনেক ক্ষুদ্র গবেষণা বলছে, এই প্রক্রিয়া দীর্ঘমেয়াদে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা ও উচ্চ কোলেস্টেরলের মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করতে পারে।
আরও পড়ুন- শীতকালে ভুল করে এই ৫টি খাবার খাবেন না, খেলে পরিবার বারবার অসুস্থ হবে !
তবে এই পদ্ধতি ঘিরে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং কি সত্যিই দ্রুত ওজন কমায়? অনেকেই মনে করেন, শুধু খাবারের সময় কমালেই ওজন কমবে। কিন্তু সাম্প্রতিক এক দীর্ঘ গবেষণা বলছে, বিষয়টি এত সরল নয়। সেখানে দুটি দলকে একই পরিমাণ ক্যালোরি–ঘাটতি যুক্ত খাবার খেতে বলা হয়েছিল। তবে প্রথম দলকে বলা হয়েছিল দিনে মাত্র আট ঘণ্টার মধ্যে খাবার শেষ করতে, আর দ্বিতীয় দলকে সময়সীমা ছাড়াই ক্যালরি নিয়ন্ত্রিত খাবার খেতে দেওয়া হয়েছিল।
আরও পড়ুন- বারবার রঙের ঝামেলা নেই, এই ঘরোয়া উপাদানে চুল করুন জঙ্গলের মত ঘন, কালো
একবছর শেষে দেখা গিয়েছে, দুই দলই উল্লেখযোগ্য পরিমাণে ওজন কমিয়েছে। সময়–সীমাবদ্ধ রাখা দল গড়ে প্রায় ১৮ পাউন্ড ওজন কমিয়েছে, আর সময়–সীমাহীন রাখা দল প্রায় ১৪ পাউন্ড। কিন্তু এই পার্থক্যকে গবেষকেরা পরিসংখ্যানগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে গণ্য করেননি। অর্থাৎ শুধুমাত্র খাবারের সময় কমানোই ওজন কমাতে অতিরিক্ত সুবিধা দেয় না। বরং দুই দলই ওজন কমিয়েছে মূলত ক্যালোরি ঘাটতির কারণে।
আরও পড়ুন- কোমরের মেদ গলাতে দুর্দান্ত কাজের, এই কায়দায় হলুদে বিরাট উপকার
তাহলে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং যে অনেকের ক্ষেত্রে কাজ করে, তার কারণ কী? আসলে নির্দিষ্ট সময় খাবার খাওয়ার অভ্যাস অনেককে অনিচ্ছাকৃতভাবেই কম ক্যালোরি খেতে সাহায্য করে। খাওয়ার সময় কম থাকলে সারা দিনে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার সুযোগ কমে যায়। ফলে প্রতিদিন ২০০–৩০০ ক্যালোরি কম খাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে ওজন কমাতে সহায়ক। তবে কেউ যদি ফাস্টিং শেষ হওয়ার পর একসঙ্গে অতিরিক্ত খেয়ে ফেলে, তাহলে এই পদ্ধতি ব্যর্থ হতে পারে।
আরও পড়ুন- ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং, কীভাবে নিরাপদে ওজন কমাতে বৈজ্ঞানিক উপায়ে এই উপবাস করবেন?
এখানে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক রয়েছে—ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং করলে অনেকের পেশির ভর কমে যেতে পারে। এই লীন মাসল বা পেশির ভর আমাদের বিপাকক্রিয়া বাড়ায়, রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখে, এবং শরীরকে শক্তিশালী রাখে। তাই শুধুমাত্র ফাস্টিং করলেই হবে না, এর সঙ্গে নিয়মিত রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং বা ওজন তোলার ব্যায়ামও জরুরি।
যাঁদের ডায়াবেটিস, ইনসুলিন সংক্রান্ত সমস্যা, খাওয়ার অভ্যাসজনিত সমস্যা, গর্ভাবস্থা বা স্তন্যদান চলছে, অথবা যাঁদের নিয়মিত ওষুধ খেতে হয়—তাঁদের জন্য ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং উপযুক্ত নয়। শরীরের প্রতিক্রিয়া সবসময় একইরকম হয় না, তাই বিশেষ পরিস্থিতিতে চিকিৎসকের পরামর্শ জরুরি।
সব মিলিয়ে ইন্টারমিটেন্ট ফাস্টিং এমন একটি জীবনধারা, যা নিয়মিত মেনে চলা গেলে শরীরকে একটি স্বাস্থ্যকর রুটিনে আনা সম্ভব। সারাদিন খাওয়ার অভ্যাস থেকে দূরে গিয়ে, শরীরকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিশ্রাম দিলে ওজন কমানো ছাড়াও রক্তচাপ, কোলেস্টেরল, ব্লাড সুগার এবং সার্বিক শক্তির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। অনেকের জন্য এটি কার্যকর হলেও, কী খাবেন, কতটা খাবেন এবং কীভাবে খাবেন—এই তিন বিষয়ই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us