/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/19/international-mens-day-2025-2025-11-19-15-45-47.jpg)
International Men’s Day 2025: পুরুষদের স্বীকৃতি জানাতেই সৃষ্টি হয়েছে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস।
International Men's Day 2025: প্রতিবছরের মত আজ বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। ১৯ নভেম্বর, এই দিনটি বিশ্বজুড়ে পুরুষদের প্রতি সম্মান, কৃতজ্ঞতা এবং সহমর্মিতা প্রদর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ হয়ে উঠেছে। সমাজের নানামুখী দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুরুষেরা যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, সেই অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়ার জন্যই এই দিনের সূচনা।
পুরুষ শুধু উপার্জনের মাধ্যম নয়
আজকের আধুনিক বিশ্বে পুরুষদের শুধুমাত্র উপার্জনের ভিত্তি হিসেবে নয়, বরং একজন বাবা, ভাই, বন্ধু, সঙ্গী, পরামর্শদাতা এবং পথপ্রদর্শকের ভূমিকায় দেখার প্রবণতা বাড়ছে। সমাজে পুরুষের অবস্থান বদলাচ্ছে। তাদের ওপরে চাপও বহুগুণে বাড়ছে। সেই বাস্তবতায় পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্য, আবেগজনিত সুস্থতা এবং ইতিবাচক পুরুষত্বকে তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তাও বাড়ছে দিনকে দিন।
আরও পড়ুন- স্ত্রী–মায়ের ঝগড়ায় সংসারে অশান্তির আগুন? ৫ টেকনিকেই বিরোধ চিরতরে মেটাতে পারেন ছেলে
ইতিবাচক পৌরুষ বা Positive Masculinity বলতে এমন মানসিক গঠন বোঝায়, যেখানে পুরুষ নিজের শক্তির পাশাপাশি নিজের কোমলতা, সহানুভূতি এবং আবেগ প্রকাশের অধিকারকে সমান গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করেন। দীর্ঘদিন ধরে সমাজে পুরুষদের ‘কঠোর’, ‘নির্বিকার’, ‘সংযত’—এমন পরিচিতির মধ্যে আটকে রাখা হয়েছে। ফলে তাঁরা বহু সময় নিজের উদ্বেগ, ভয়, কষ্ট বা আবেগ বুকের ভেতরেই চেপে রাখেন। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে পুরুষের মানসিক স্বাস্থ্যের উপর। International Men’s Day এই মানসিক চাপ ভাঙতে সাহায্য করে এবং বার্তা দেয়—পুরুষও অনুভব করে, পুরুষও কাঁদে, পুরুষও ভেঙে পড়ে এবং তা স্বীকার করা দুর্বলতা নয় বরং শক্তির প্রকাশ।
আরও পড়ুন- ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী, জানুন তাঁর জীবনের অজানা অধ্যায়
আর এসবকে স্বীকৃতি দিতে আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবসের সূচনা হয় ১৯৯৯ সালের ১৯ নভেম্বর। ত্রিনিদাদ ও টোবাগোর অধ্যাপক ড. জেরোম তিলকসিংহ প্রথম এই দিনটি আনুষ্ঠানিকভাবে পালন শুরু করেন। তিনি নিজের বাবার জন্মদিনকে, ১৯ নভেম্বর—এই দিবস উদযাপনের দিন হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন। তাঁর উদ্দেশ্য ছিল সমাজে পুরুষদের ইতিবাচক অবদান, দায়িত্ববোধ, পরিবার এবং কর্মক্ষেত্রে তাঁদের নীরব ত্যাগকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং পুরুষদের জন্য আন্তর্জাতিক মানসিক স্বাস্থ্য সচেতনতা তৈরি করা।
আরও পড়ুন- এটা এমন এক প্রাণী, যার বিষের প্রতিষেধক আজও তৈরি করতে পারেনি বিজ্ঞান!
যদিও পুরুষদের নিয়ে আলোচনা আরও আগেই শুরু হয়েছিল। ১৯৬০ এবং ১৯৭০-এর দশকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পুরুষদের ভূমিকা, স্বাস্থ্য এবং সমাজে তাঁদের প্রতি প্রত্যাশা নিয়ে নানা ধরনের গবেষণা ও সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে তা স্বীকৃত ছিল না। ড. তিলকসিংহের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো দিনটি আনুষ্ঠানিক মর্যাদা পায় এবং দ্রুতই বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এর স্বীকৃতি দিতে শুরু করে।
আরও পড়ুন- শোবার ঘরে ভুলেও এই জিনিসগুলো রাখবেন না, ছড়াবে অশান্তি!
১৯৯৯ সালে দিনটি ঘোষণার পর ইউনেসকো-সহ আন্তর্জাতিক অনেক প্রতিষ্ঠান এই উদ্যোগকে সমর্থন জানায়। সমর্থনকারীরা জানান, সমাজের সার্বিক অগ্রগতি তখনই সম্ভব যখন নারী ও পুরুষ উভয়েই নিজেদের সমস্যা, দায়িত্ববোধ, মানসিক স্বাস্থ্য এবং সামাজিক ভূমিকা নিয়ে সমানভাবে আলোচনা করবেন এবং সেসব নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে। এই স্বীকৃতির মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস বিশ্বব্যাপী পুরুষদের প্রতি ইতিবাচক মনোভাব ও দায়িত্বশীল আচরণকে উৎসাহিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে দিবসটি বিশ্বের ৮০টিরও বেশি দেশে পালিত হচ্ছে এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—সবখানেই এ দিনটিকে কেন্দ্র করে আলোচনা চলছে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us