/indian-express-bangla/media/media_files/2025/12/09/toothbrush-storage-2025-12-09-18-01-52.jpg)
Toothbrush Storage: কোথায় রাখবেন আপনার টুথব্র্যাশ?
Toothbrush Storage: অনেকেই অভ্যাসবশত টুথব্রাশ বাথরুমেই রেখে দেন। ব্যবহার শেষ হলেই সেটি সিঙ্কের পাশে হোল্ডারে ঠুকে রাখা—এটাই বহু বছরের রুটিন। এব্যাপারে কিন্তু বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন। স্পষ্ট জানিয়েছেন, বাথরুম হল টুথব্রাশ রাখার সবচেয়ে অস্বাস্থ্যকর জায়গাগুলোর একটি। কারণ বাথরুমের চারপাশে সর্বদা থাকে আর্দ্রতা, বাতাসে ছড়িয়ে থাকে অদৃশ্য জীবাণু, আর ফ্লাশ করার সময় যে অতি ক্ষুদ্র জলকণা উড়ে যায়, সেগুলোতে থাকে বিপজ্জনক ব্যাকটেরিয়া। ফলে প্রতিদিন ব্যবহার করা টুথব্রাশে অজান্তেই জমা হতে পারে মলজাত জীবাণু, ফাঙ্গাস, ইস্ট ও নানা ক্ষতিকর অণুজীব। এই ব্রাশ দিয়ে দাঁত মাজলে সহজেই সৃষ্টি হতে পারে মুখের সংক্রমণ, মাড়ির প্রদাহ, মুখের দুর্গন্ধ, এমনকি জ্বর বা ভাইরাল জাতীয় সমস্যাও।
বাথরুমে ফ্লাশ
বাথরুমে ফ্লাশ করার সময় চারদিকে যে ময়লা ‘toilet plume’ ছড়িয়ে যায়, তা চোখে দেখা না গেলেও বিজ্ঞানীরা বহুবার তার প্রমাণ পেয়েছেন। ঢাকনা বন্ধ থাকলেও কিছু অংশ বাতাসে মিশে যায়। বাথরুমের সিঙ্ক, ট্যাপ, সাবানদানি, তোয়ালে—সবকিছুতেই এই কণা বসে। টুথব্রাশ উন্মুক্ত অবস্থায় থাকলে সেই জীবাণু জমা হতে সময় লাগে না। আর টুথব্রাশ সাধারণত ভেজা থাকায় সেখানে ব্যাকটেরিয়া দ্রুত বংশবৃদ্ধি করে। মুখগহ্বরের স্বাস্থ্য রক্ষা করার যে উপকরণটি সবচেয়ে পরিষ্কার থাকা উচিত, সেটাই উলটে জীবাণুর ঘর হয়ে ওঠে।
আরও পড়ুন- স্নানের সময় নাভি পরিষ্কার করছেন তো? না-হলে হতে পারে চরম বিপদ, সতর্কবাণী চিকিৎসকের
টুথব্রাশ নিরাপদ রাখতে সবচেয়ে জরুরি হল বাথরুমের মতো আর্দ্র, বন্ধ এবং জীবাণুযুক্ত স্থান এড়ানো। চিকিৎসকদের মতে, টুথব্রাশ এমন জায়গায় রাখা উচিত যেখানে বাতাস চলাচল করে এবং আর্দ্রতা কম থাকে। শোবার ঘর বা বসার ঘরের একটি আলাদা ক্যাবিনেটে, অথবা খোলা দাঁড়ানো হোল্ডারে রাখলে ব্রাশের ভেজাভাব সহজে শুকিয়ে যায়। ভেজা ব্রাশ ঢেকে রাখলে তার মধ্যে জীবাণু আরও দ্রুত বাড়ে, তাই ব্যবহার শেষে ভাল করে শুকিয়ে তবেই সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। এছাড়া পরিবারের প্রত্যেকের ব্রাশ কখনও একসঙ্গে ছুঁয়ে রাখা উচিত নয়, কারণ এতে একজনের জীবাণু সহজেই অন্যজনের ব্রাশে পৌঁছে যায়।
আরও পড়ুন- ফ্রিজ থেকে ঠান্ডা জল খেয়ে সর্দি লেগেছে! শুনে হেসে ওড়ালেন চিকিৎসক, কিন্তু কেন?
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, টুথব্রাশ সবসময় খাড়াভাবে রাখতে হবে, যাতে ভেতরের জল নিজে থেকে গড়িয়ে পড়ে। অনেকে টুথব্রাশ বাথরুমের সিংকের খুব কাছে রাখেন, যা আরও বিপজ্জনক। কারণ বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ফ্লাশ করার পর কমপক্ষে ৫–৬ ফুট দূর পর্যন্ত জীবাণু ছড়িয়ে যায়। তাই টুথব্রাশ বাথরুমে রাখতেই হলে কমপক্ষে ছয় ফুট দূরের কোনও শুকনো জায়গায় এবং না-ঢেকে রাখতে হবে। তবে সবচেয়ে নিরাপদ অপশন হল, বাথরুমের বাইরে রাখা।
আরও পড়ুন- দুপুর ১টা–৩টার সময় শরীর কেন সবচেয়ে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে, জানাল বিশেষজ্ঞরা
নিয়মিত টুথব্রাশ পরিবর্তন করাও অত্যন্ত জরুরি। আন্তর্জাতিক ডেন্টাল অ্যাসোসিয়েশন বলছে, তিন মাস অন্তর টুথব্রাশ বদলানো উচিত। ব্রাশের ব্রিস্ল নরম হয়ে গেলে বা ছড়িয়ে গেলে পরিষ্কার করার ক্ষমতা কমে যায় এবং জীবাণু জমার সম্ভাবনাও বাড়ে। কেউ যদি সর্দি, জ্বর, ভাইরাল, গলা ব্যথা বা অন্য সংক্রমণে ভোগেন, তবে সুস্থ হওয়ার পরই নতুন টুথব্রাশ ব্যবহার করা ভালো। এতে পুনঃসংক্রমণের সম্ভাবনা কমে যায়।
আরও পড়ুন- ১২ বছরের আগে স্মার্টফোন দিলে শিশুদের স্বাস্থ্যের সমস্যা বাড়তে পারে, জানাল গবেষণা
বাড়তি স্বাস্থ্যবিধির জন্য সপ্তাহে এক দিন ব্রাশ উষ্ণ লবণ জলে কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রাখলে তা জীবাণুমুক্ত রাখতে সাহায্য করে। ভ্রমণে গেলে বদ্ধ কভার নয়, এমন হোল্ডার ব্যবহার করুন যেটিতে বাতাস ঢোকার সুযোগ থাকে। কারণ বন্ধ কভার ভেজা ব্রাশকে আরও সংক্রমিত করে তুলতে পারে। বাড়িতে শিশু থাকলে তাদের ব্রাশ উঁচু জায়গায় এবং আলাদা স্থানে রাখা উচিত যাতে এক ব্রাশের সঙ্গে অন্য ব্রাশ না লাগে।
সামান্য কিছু অভ্যাস বদলালেই মুখের স্বাস্থ্যবিধি অনেকটা নিশ্চিত করা যায়। প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করলেও যদি সেই ব্রাশটি সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হয়, তবে তার কোনও মানেই থাকে না। তাই কোথায়, কীভাবে এবং কোন অবস্থায় টুথব্রাশ রাখা হচ্ছে—সেটি মুখের স্বাস্থ্যের বড় নিয়ামক। বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দেন, জীবাণু রোধের এই সহজ নিয়মগুলো মানলে মাড়ির রোগ, মুখের দুর্গন্ধ থেকে শুরু করে আরও বড় ধরনের সংক্রমণও প্রতিরোধ করা সম্ভব। অর্থাৎ, ছোট্ট একটি অভ্যাস পরিবর্তনই আপনাকে দিতে পারে দীর্ঘমেয়াদি সুরক্ষা।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us