/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/14/jawaharlal-nehru-2025-11-14-02-25-50.jpg)
Jawaharlal Nehru: কন্যা ইন্দিরার সঙ্গে জওহরলাল নেহরু।
Jawaharlal Nehru: আজ ১৪ নভেম্বর— পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর জন্মদিন (birth anniversary)। তিনি ছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম নেতা, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন রাষ্ট্রনায়ক এবং স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী। তাঁর জন্মদিন দেশজুড়ে পালিত হয় চিলড্রেনস ডে (Children’s Day) হিসেবে।
১৮৮৯ সালের ১৪ নভেম্বর এলাহাবাদের গঙ্গাতীরে জন্ম নেন জওহরলাল নেহরু। তাঁর পিতা মতিলাল নেহরু ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের প্রখ্যাত ব্যারিস্টার, আর মা স্বরূপ রানি ছিলেন শিক্ষিতা ও সংস্কৃতিমনা নারী। এলাহাবাদের 'আনন্দ ভবন'-এ পণ্ডিত নেহরু পাশ্চাত্য ও ভারতীয় সংস্কৃতির মিশ্রণে বড় হয়ে ওঠেন। মাত্র ১৫ বছর বয়সে তিনি ইংল্যান্ডের হ্যারো স্কুলে যান এবং পরবর্তীতে কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যারিস্টারি পড়েন। শিক্ষাজীবনের সময় থেকেই সমাজতান্ত্রিক চিন্তাধারা এবং জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রতি তাঁর আগ্রহ জন্মে।
পরিবার ও ব্যক্তিজীবন
১৯১৬ সালে নেহরু বিয়ে করেন কমলা কউলকে। তাঁদের একমাত্র কন্যা ইন্দিরা প্রিয়দর্শিনী পরবর্তীতে ভারতের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হন। পারিবারিক জীবনে স্নেহশীল এবং রুচিশীল পিতা হিসেবে নেহরু ছিলেন সকলের প্রিয় 'চাচা নেহরু'।
আরও পড়ুন- চায়ের গুঁড়ো দিয়ে বানিয়ে ফেলুন ভেষজ হেয়ার ডাই, চুল করুন কুচকুচে কালো!
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় থেকে নেহরু রাজনীতিতে সক্রিয় হন। ১৯২০-এর সময়ে তিনি মহাত্মা গান্ধীর সহচর হিসেবে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসে যোগ দেন। ১৯২৯ সালে লাহোর কংগ্রেস অধিবেশনে সভাপতিত্ব করে তিনি ভারতের পূর্ণ স্বাধীনতার লক্ষ্য ঘোষণা করেন এবং রাভি নদীর তীরে ভারতের পতাকা উত্তোলন করেন।
আরও পড়ুন- দামি ক্রিম নয়, খুশকি দূর করুন এই ৬ ঘরোয়া কায়দায়, পান চটজলদি সমাধান
লবণ সত্যাগ্রহ, অসহযোগ আন্দোলন এবং ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতিটি অধ্যায়েই নেহরুর ভূমিকা ছিল অনস্বীকার্য। ১৯৩০-এর দশকে তিনি একাধিকবার কারারুদ্ধ হন, কিন্তু তাঁর আদর্শে কখনও চিড় ধরেনি। কারাগারে বসেই নেহরু রচনা করেন তাঁর তিন বিখ্যাত গ্রন্থ— 'An Autobiography', 'Glimpses of World History', 'The Discovery of India'- এই বইগুলো আজও ইতিহাস, রাজনীতি এবং দর্শনের গুরুত্বপূর্ণ রেফারেন্স হিসেবে গণ্য হয়।
আরও পড়ুন- সকালে খালি পেটে পান করুন এই সাদা জল, হাড় হবে লোহার মত মজবুত, জানালেন বিশেষজ্ঞরা
১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট ভারতের স্বাধীনতার পর নেহরু দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী হন। তাঁর নেতৃত্বে ভারত শিল্প, বিজ্ঞান, শিক্ষা ও কূটনীতিতে দৃঢ় ভিত্তি স্থাপন করে। তিনি রাষ্ট্রসংঘ এবং বিশ্ব রাজনীতিতে ভারতের মর্যাদা বৃদ্ধি করেন এবং অহিংসা, ধর্মনিরপেক্ষতা আর সমাজতন্ত্রের নীতিতে প্রয়োগ করেন।
আরও পড়ুন- টাইপ ১ নাকি টাইপ ২ ডায়াবেটিস, কোনটি বেশি ক্ষতিকারক? কীভাবে করবেন নিয়ন্ত্রণ?
১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের পরে তাঁর শারীরিক অবস্থা দুর্বল হতে শুরু করে। অবশেষে ১৯৬৪ সালের ২৭ মে তিনি হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পরলোকগমন করেন। আজও তাঁর স্বপ্ন, আদর্শ ও চিন্তাধারা ভারতের নীতি, শিক্ষা ও সমাজজীবনে প্রতিফলিত। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু ছিলেন এমন এক রাষ্ট্রনায়ক, যিনি আধুনিক ভারতের স্বপ্ন দেখেছিলেন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us