/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/18/jubin-garg-2025-11-18-11-53-19.jpg)
Jubin Garg: জুবিন গর্গ।
Jubin Garg Birthday: উত্তর-পূর্ব ভারতের সংগীতজগতে যদি কোনও নাম কিংবদন্তির মর্যাদা পেয়ে থাকে, তবে সেই নাম নিঃসন্দেহে জুবিন গর্গ। গায়ক, সুরকার, গীতিকার, অভিনেতা—সব মিলিয়ে তিনি ছিলেন এক বহুমুখী প্রতিভার শিল্পী। তাঁর কণ্ঠ, সুর, ভাবনা এবং শিল্পীসত্তা শুধু অসম নয়, সারা ভারতের শ্রোতাদের মন জয় করেছিল। জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করা মানে এক গভীর আবেগকে আবার ছুঁয়ে দেখা।
মেঘালয়ের তুরায় জন্মেছিলেন
১৯৭২ সালের ১৮ নভেম্বর মেঘালয়ের তুরায় জন্মেছিলেন তিনি। তাঁর আসল নাম ছিল জুবিন বড়ঠাকুর। পরবর্তী সময়ে 'গর্গ' গোত্রনাম ব্যবহার করে তিনি পরিচিত হন জুবিন গর্গ নামে। পরিবারেই ছিল শিল্পের ছোঁয়া। বাবা মোহিনী বড়ঠাকুর ছিলেন সাহিত্যিক, আর মা ইলি বড়ঠাকুর ছিলেন প্রশিক্ষিত গায়িকা। ছোটবেলা থেকেই মা তাঁকে সংগীত শেখাতে শুরু করেন। এখানেই তৈরি হয় তাঁর সংগীত-জগতের ভিত।
আরও পড়ুন- ব্যবহার করুন এই ৩টি জিনিস, পান লম্বা কালো ঘন চুল
শৈশব-কৈশোর কাটে অসমের বিভিন্ন জায়গায়। পরে কলেজে পড়াশোনা শুরু করলেও সংগীতের টানে পড়া মাঝপথে ছেড়ে দেন। রবিন ব্যানার্জির কাছে তবলা ও রমণী রায়ের কাছে লোকগান শেখা তাঁর সংগীতজীবনের ভিত আরও মজবুত করে। ১৯৯২ সালে যুব উৎসবে পশ্চিমী সোলো গানে সোনা জয় তাঁর জীবনে মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন- হাত না লাগিয়েই বেসিন রাখুন ঝকঝকে, কাজে লাগান এই দুর্দান্ত সহজ কৌশল!
একই বছরেই প্রকাশিত হয় তাঁর প্রথম অ্যালবাম ‘অনামিকা’। এই অ্যালবাম উত্তর-পূর্ব ভারতকে যেন ঝড়ের মতো কাঁপিয়ে দেয়। রাতারাতি তিনি হয়ে ওঠেন ঘরের ছেলে, সবার প্রিয় গায়ক। এরপর আরও বেশ কিছু অ্যালবাম—মায়া, রুমাল, সিলা—তাঁকে জনপ্রিয়তার শিখরে পৌঁছে দেয়।
আরও পড়ুন- গোলমরিচ আর কালো লবণে মাত্র ১৫ মিনিটেই বিরাট ম্যাজিক! যা ঘটবে, ভাবতেই পারবেন না
১৯৯৫ সালে তিনি পা রাখেন বলিউডে। শুরুতে কয়েকটি গান করলেও প্রকৃত সাফল্য আসে ২০০৬ সালে ‘গ্যাংস্টার’ ছবির কিংবদন্তি গান ‘ইয়া আলি’ দিয়ে। এই গান তাঁকে জাতীয় পরিচিতি এনে দেয়। গ্লোবাল ইন্ডিয়ান ফিল্ম অ্যাওয়ার্ডসে সেরা গায়ক পুরস্কারও পান তিনি। এই এক গান তাঁর কেরিয়ারে নতুন দিগন্ত খুলে দেয়।
আরও পড়ুন- বারবার হাই তোলার আসল কারণ কী, জানেন হাই তোলার সমস্যা কেন বাড়ে?
বাংলাতেও তাঁর অবদান উল্লেখযোগ্য। মন, শুধু তুমি, প্রেমী, চিরদিনই তুমি যে আমার—এই ছবিগুলিতে তাঁর গাওয়া ও সুর করা গান বাংলা দর্শকের হৃদয়ে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে। অসমিয়া ছবির মধ্যে মিশন চায়না এবং কাঞ্চনজঙ্ঘা তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম মাইলফলক।
গায়ক হিসেবে তিনি যতটা সফল, সুরকার এবং সংগীত পরিচালক হিসেবেও ততটাই দক্ষ ছিলেন। ইকোজ অফ সাইলেন্স ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার পাওয়া তাঁর প্রতিভার প্রমাণ। নিজস্ব প্রযোজনায় দীনবন্ধু, মিশন চায়না, কাঞ্চনজঙ্ঘা—এই সিনেমাগুলি অসমের চলচ্চিত্রকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
ব্যক্তিজীবনে জুবিন যেমন ছিলেন আবেগপ্রবণ, তেমনি মানবিকতায় ভরপুর। তাঁর স্ত্রী গরিমা শইকিয়া গর্গ উত্তর-পূর্ব ভারতের বিশিষ্ট ফ্যাশন ডিজাইনার। ২০০২ সালে তাঁদের বিয়ে হয়। সম্পর্ক নিয়ে নানা সমালোচনার পরও তাঁরা অন্যতম সেলিব্রিটি দম্পতি হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠেন।
জীবনের পথে তিনি ছিলেন কিছু বিতর্কের সঙ্গেও যুক্ত—জাতীয় পতাকা বিতর্ক, মঞ্চে আচরণ, রাজনৈতিক বক্তব্য নিয়ে সমালোচনা। তবে অসম আন্দোলন, বিশেষ করে সিএএ বিরোধিতায় তাঁর ভূমিকা তাঁকে মানুষের আরও কাছাকাছি নিয়ে যায়। তাঁর কণ্ঠে মানুষের ভাষা, মানুষের দাবি স্পষ্ট শুনতে পাওয়া যেত।
শিল্পী হিসেবে নয়, একজন সমাজবন্ধু মানুষ হিসেবেও তিনি প্রশংসিত ছিলেন। তাঁর প্রতিষ্ঠিত কলাগুরু আর্টিস্ট ফাউন্ডেশন বন্যাদুর্গতদের সাহায্য করেছে, অনাথ শিশুদের দায়িত্ব নিয়েছে, আহত পশু-পাখির চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছে। কামাক্ষ্যা মন্দিরে পশুবলি বন্ধের জন্য তাঁর আন্দোলন তাঁকে পেটা সংস্থার কাছ থেকে ‘হিরো’ খেতাব এনে দিয়েছে।
ড. ভূপেন হাজারিকার পর অসমের সাংস্কৃতিক পরিচয় গঠনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা যিনি রেখেছেন, তিনি হলেন জুবিন গর্গ। তাঁর গান, সুর, লড়াই, মানবিকতা—সবই তাঁকে মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী করে রেখেছে। ২০২৫ সালে সিঙ্গাপুরে স্কুবা ডাইভিং করার সময় এক দুর্ঘটনায় মাত্র ৫২ বছর বয়সে প্রয়াত হন তিনি। অকালে বিদায় নেন এক যুগের প্রতীক, অসংখ্য ভক্তের হৃদয়ের নায়ক। তিনি নিজেই বলেছেন— 'আমার কোনও জাতি নাই, কোনও ধর্ম নেই, আমি মুক্ত, আমিই কাঞ্চনজঙ্ঘা।'
তাঁর কণ্ঠের জাদু, তাঁর ব্যক্তিত্ব ও মানবিকতার আলো চিরদিন মানুষের স্মৃতিতে বেঁচে থাকবে।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us