/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/01/kalpataru-utsav-1-2026-01-01-23-41-52.jpg)
Kalpataru Festival: কল্পতরু উৎসব।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/01/kalpataru-utsav-2-2026-01-01-23-45-19.jpg)
প্রতিবছর ১ জানুয়ারি পালিত হয়
Kalpataru Utsav: নতুন বছরের প্রথম দিনটি অনেকের কাছেই আনন্দ, আশা এবং নতুন শুরুর প্রতীক। কিন্তু বাঙালি হিন্দু সমাজে এই দিনটির একটি গভীর আধ্যাত্মিক গুরুত্বও রয়েছে। প্রতিবছর ১ জানুয়ারি পালিত হয় কল্পতরু উৎসব, যা শুধুমাত্র একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠান নয়, বরং বিশ্বাস, ভক্তি এবং ইতিহাসের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে থাকা একটি বিশেষ দিন। এই দিনটির সঙ্গে শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের জীবনের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় জড়িয়ে রয়েছে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/01/kalpataru-utsav-3-2026-01-01-23-45-19.jpg)
কল্পতরু শব্দের অর্থ
কল্পতরু শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে তার অর্থ। কল্প কথার অর্থ ইচ্ছে এবং তরু কথার অর্থ বৃক্ষ। অর্থাৎ এমন একটি অলৌকিক বৃক্ষ, যার কাছে মন থেকে কিছু চাইলে তা পূরণ হয়। পুরাণ মতে, কল্পতরু স্বর্গলোকের এক বিশেষ বৃক্ষ, যা দেবরাজ ইন্দ্রের নন্দনকাননে অবস্থিত ছিল। এই বৃক্ষের কাছে দেবতারা নিজেদের কামনা জানালে তা অপূর্ণ থাকত না বলে বিশ্বাস করা হয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/01/kalpataru-utsav-4-2026-01-01-23-45-19.jpg)
ইচ্ছেপূরণের প্রতীক
পুরাণে বলা হয়, সমুদ্র মন্থনের সময় সমুদ্র থেকে বহু অলৌকিক বস্তু উঠে এসেছিল। লক্ষ্মী দেবী, অমৃত, ঐরাবত হাতি এবং কৌস্তুভ মণির পাশাপাশি উঠে এসেছিল এই কল্পতরু বৃক্ষ। পরবর্তীকালে এই বৃক্ষ স্থান পায় দেবরাজ ইন্দ্রের নন্দনকাননে। আরেক প্রচলিত কাহিনি অনুযায়ী, শ্রীকৃষ্ণ তাঁর প্রিয়ার মন রাখার জন্য এই কল্পতরু বৃক্ষ মর্ত্যে নিয়ে এসেছিলেন। এই সব কাহিনির মাধ্যমে কল্পতরু ধীরে ধীরে মানুষের মনে ইচ্ছে পূরণের প্রতীক হয়ে ওঠে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/01/kalpataru-utsav-5-2026-01-01-23-45-19.jpg)
রামকৃষ্ণদেব কল্পতরু
এই পৌরাণিক বিশ্বাসের সঙ্গে বাস্তব ইতিহাসের যোগ ঘটে ১৮৮৬ সালের ১ জানুয়ারি। এই দিন কাশিপুরের উদ্যানবাটিতে শ্রীশ্রী রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব তাঁর ভক্তদের কাছে নারায়ণ রূপে দর্শন দেন। দীর্ঘ অসুস্থতার মধ্যেও তিনি সেদিন ভক্তদের প্রত্যেককে আশীর্বাদ করেছিলেন। বিশ্বাস করা হয়, সেদিন যাঁরা ঠাকুরের সামনে নিজের মনের কামনা প্রকাশ করেছিলেন, তাঁদের ইচ্ছা পূর্ণ হয়েছিল। সেই থেকেই রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবকে কল্পতরু রূপে স্মরণ করা শুরু হয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/01/kalpataru-utsav-6-2026-01-01-23-45-19.jpg)
সেই থেকে রীতিপালন
এই ঘটনার পর থেকেই ১ জানুয়ারি দিনটি কল্পতরু উৎসব হিসেবে পরিচিতি পায়। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের ভক্তরা বিশ্বাস করেন, এই দিনে ঠাকুর বিশেষভাবে করুণাময় হয়ে ওঠেন এবং ভক্তদের মনের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেন। তাই নতুন বছরের প্রথম দিনেই এই উৎসব পালনের রীতি গড়ে ওঠে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/01/kalpataru-utsav-7-2026-01-01-23-45-19.jpg)
অসংখ্য ভক্তের সমাগম
প্রতিবছর এই দিনে দক্ষিণেশ্বর কালীমন্দিরে লক্ষ লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। ভোররাত থেকেই মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে পুজো দেন, প্রার্থনা করেন এবং নতুন বছরের সূচনা করেন ঠাকুরের স্মরণে। শুধু দক্ষিণেশ্বর নয়, কাশিপুর উদ্যানবাটি, বেলুড় মঠ এবং বিভিন্ন কালীমন্দিরেও এই দিনে বিশেষ আচার পালন করা হয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/01/kalpataru-utsav-8-2026-01-01-23-45-19.jpg)
গভীর মানসিক দিক
কল্পতরু উৎসবের সঙ্গে একটি গভীর মানসিক দিকও জড়িয়ে রয়েছে। নতুন বছরের শুরুতেই মানুষ নিজের জীবনের জন্য শুভ কামনা করেন, পুরনো কষ্ট ভুলে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি চান। এই দিনটি অনেকের কাছে আত্মশুদ্ধির প্রতীক। বিশ্বাস করা হয়, এই দিনে ঠাকুরের নাম স্মরণ করলে মন শান্ত হয় এবং জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আসে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/01/kalpataru-utsav-9-2026-01-01-23-45-19.jpg)
প্রকৃত কল্পতরু লাভ
স্বামী বিবেকানন্দ এবং তাঁর অনুগামীরাও কল্পতরু উৎসবকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাঁদের মতে, কল্পতরু শুধু বাহ্যিক ইচ্ছাপূরণের প্রতীক নয়, বরং আত্মিক জাগরণেরও প্রতীক। নিজের ভিতরের অন্ধকার দূর করে সত্য ও আলোয় পৌঁছনোর পথই হল প্রকৃত কল্পতরু লাভ।
/indian-express-bangla/media/media_files/2026/01/01/kalpataru-utsav-10-2026-01-01-23-45-19.jpg)
অনন্য মিলনস্থল
এই কারণেই বছরের পর বছর ধরে ১ জানুয়ারি দিনটি শুধুমাত্র ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ হয়ে থাকে না। এটি বিশ্বাস, ইতিহাস এবং ভক্তির এক অনন্য মিলনস্থল হয়ে ওঠে। নতুন বছরের প্রথম প্রভাতে কল্পতরু উৎসব পালনের মধ্য দিয়ে অগণিত মানুষ আশায়, প্রার্থনায় এবং ভক্তিতে নিজেদের জীবনকে নতুনভাবে শুরু করেন।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us