/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/kerala-alappuzha-1-2025-11-24-13-08-23.jpg)
Kerala Alappuzha: কেরলের আলাপ্পুঝা।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/kerala-alappuzha-2-2025-11-24-13-10-53.jpg)
নীল আকাশের নীচে শান্ত জলরাশি
Kerala Alappuzha: নীল আকাশের নীচে দিগন্তজোড়া শান্ত জলরাশি, তার মাঝে দুলে ওঠা নারকেল গাছের সারি, আর সেই মনমাতানো পরিবেশে ভেসে চলা সুন্দর সব নৌকা—এই ছবির মতো সুন্দর দৃশ্য দেখলেই মনে পড়ে যায় কেরলের কথা। প্রকৃতির কোলে সাজানো এই রাজ্যের সৌন্দর্য এমনই যে তাকে ঈশ্বরের নিজের দেশ বলা হয়। আর কেরলের মধ্যে যে জায়গাটি ভ্রমণপ্রেমীদের সবচেয়ে বেশি টানে, তা হলো আলাপ্পুঝা। এখানকার ভ্রমণ সৌন্দর্য, নিস্তব্ধ পরিবেশ এবং ব্যাকওয়াটারের আকর্ষণ বছরভর অসংখ্য মানুষকে টেনে আনে এই রাজ্যে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/kerala-alappuzha-3-2025-11-24-13-11-27.jpg)
আলাপ্পুঝা শব্দের অর্থ
মালয়ালম ভাষায় আলাপ্পুঝা শব্দের অর্থ- নদীর ঘর, যা শুনলেই এই জায়গার আসল পরিচয় ধরা পড়ে। কারণ এখানে যতদূর চোখ যায় শুধু নদী, খাল আর হ্রদের মিলিত স্রোত। বড় বড় জলাশয়ের ওপর দিয়ে চলা নৌকা আর জলের ধারে সারি দিয়ে দাঁড়ানো বাড়িঘর—সব মিলিয়ে এটি সত্যিই এক মনভোলানো দৃশ্য। অনেক পর্যটক আলাপ্পুঝাকে প্রাচ্যের ভেনিস বলেও ডাকেন। কারণ শহরটির প্রতিটি অংশের সঙ্গে জলের যে সম্পর্ক, তা অনেকটাই ভেনিসের মত।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/kerala-alappuzha-4-2025-11-24-13-12-01.jpg)
আলাপ্পুঝার অন্যতম আকর্ষণ
আলাপ্পুঝার অন্যতম আকর্ষণ ভেম্বনাদ হ্রদ, যা ভারতের দীর্ঘতম লবণাক্ত জলের হ্রদ বলেই পরিচিত। এই হ্রদের ওপর দিনভর চলে নানা রকম নৌকা—শিকারা, বড় হাইসবোট থেকে শুরু করে সাধারণ কায়াক পর্যন্ত। হাইসবোট ভ্রমণের অভিজ্ঞতা এখানে আসা পর্যটকদের কাছে একবার হলেও অবশ্যই আলাদা অনুভূতি দেয়। এই বড় নৌকাগুলোর ভেতরে থাকার মতো ঘর, বারান্দা, বসার জায়গা, খাওয়ার ব্যবস্থা—সবই থাকে। নৌকাটি ব্যাকওয়াটারের জলের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলে, আর চারপাশে দেখা যায় অসাধারণ জলপথ, সবুজ গাছগাছালি, জেলেদের নৌকা, আর ছড়িয়ে থাকা গ্রাম্যজীবন। এমন পরিবেশে সময় কাটালে মনে হয় যেন সময় একটু থমকে গেছে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/kerala-alappuzha-5-2025-11-24-13-12-55.jpg)
অবিস্মরণীয় অভিজ্ঞতা
যাঁদের বাজেট তুলনামূলক কম, তাঁরা লজে থেকে দিনভর শিকারা বোট ভাড়া করে ব্যাকওয়াটারের সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারেন। শিকারা বোট আকারে ছোট হলেও আরামদায়ক, আর তাতে ঘুরে দেখা যায় ব্যাকওয়াটারের অনেক অজানা কোণ। তিন ঘণ্টার শিকারা ভ্রমণে প্রকৃতিকে কাছ থেকে দেখার আনন্দ অনেক বেশি। স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রা, নারকেল গাছের ছায়াঘন পথ, ধানক্ষেত, জলচর পাখি—সব মিলিয়ে এই দেখার অভিজ্ঞতা অবিস্মরণীয়।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/kerala-alappuzha-6-2025-11-24-13-13-34.jpg)
স্নেক বোট রেস
আলাপ্পুঝার আরেকটি বড় পরিচিতি আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন স্নেক বোট রেস। স্থানীয় ভাষায় যাকে বলা হয় নৌকা উৎসব। লম্বা সরু আকৃতির এই নৌকাগুলোর ওপর একসঙ্গে শতাধিক মাঝি দাঁড় টানেন। জলের ওপর তৈরি হয় এক অপূর্ব দৃশ্য, যার তালে তালে দর্শকদের চিৎকার আর উচ্ছ্বাসে চারপাশ গমগম করে। এই রেস দেখতে প্রতি বছর দেশ–বিদেশ থেকে বহু মানুষ আলাপ্পুঝা আসে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/kerala-alappuzha-7-2025-11-24-13-14-23.jpg)
সিনেমার পরিচিত শুটিং স্পট
ভ্রমণপ্রেমীদের কাছে সিনেমার পরিচিত শুটিং স্পট হিসেবেও আলাপ্পুঝা জনপ্রিয়। অনেক বিখ্যাত সিনেমায় দেখা গেছে এখানকার সৌন্দর্য—শান্ত ব্যাকওয়াটার, তেঁতুল রঙের কাঠের নৌকা, সবুজ প্রকৃতি এবং জলের ঝিলিমিলি প্রতিফলন। বহু বাংলা এবং হিন্দি সিনেমার গল্প ছবির মতো সুন্দর করে ফুটিয়ে তুলেছে এই জায়গা।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/kerala-alappuzha-8-2025-11-24-13-14-57.jpg)
আলাপ্পুঝায় পৌঁছনোও সহজ
আলাপ্পুঝায় পৌঁছনোও খুবই সহজ। শালিমার, এরনাকুলাম অথবা তিরুবনন্তপুরম থেকে সরাসরি ট্রেনে চেপে আসা যায়। রেলস্টেশনেই পাওয়া যায় অটো বা গাড়ি, যা সরাসরি আপনাকে হাউসবোট পয়েন্টে পৌঁছে দেবে। ব্যাকওয়াটার ঘিরে রয়েছে অসংখ্য হোটেল, লজ এবং রিসোর্ট। বাজেট অনুযায়ী থাকার ভালো ব্যবস্থা পেয়ে যাবেন সহজেই। ভ্রমণের সময়ে স্থানীয় মানুষের সরলতা, আতিথেয়তা এবং হাসিমুখ যে কাউকে মুগ্ধ করবে।
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/11/24/kerala-alappuzha-9-2025-11-24-13-15-58.jpg)
প্রকৃতির সঙ্গে মিশে যাওয়া
আলাপ্পুঝা ভ্রমণের সবচেয়ে বড় আনন্দ মেলে এখানে প্রকৃতির সঙ্গে নিজের মনকে মিলিয়ে দেওয়ার পর। নীল আকাশ, দুলে ওঠা নারকেল গাছের সারি, নির্জন জলপথ, কখনও দূরে বৃষ্টির ঝাপটা—এই সব মিলিয়ে আলাপ্পুঝা ভ্রমণ সত্যিই মনকে পরিপূর্ণ আনন্দ দেয়। ব্যস্ততার শহুরে জীবন থেকে ছুটে এসে কয়েক ঘণ্টা ব্যাকওয়াটারের ওপর ভেসে কাটালে মনে হয় পৃথিবী যেন একটু শান্ত হল, একটু থামল।
/indian-express-bangla/media/agency_attachments/2024-07-23t122310686z-short.webp)
Follow Us