Kidney Check: আপনার কিডনি কি নষ্টের পথে? এই কায়দায় জানুন সহজেই! বাঁচতে কী করবেন, জেনে নিন বিস্তারিত

Kidney Check: রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড নাকি স্ক্যান—কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত কি না, জানতে প্রথমে কী করবেন, কেনই বা করবেন? জানুন বিস্তারিত।

Kidney Check: রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা, আল্ট্রাসাউন্ড নাকি স্ক্যান—কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত কি না, জানতে প্রথমে কী করবেন, কেনই বা করবেন? জানুন বিস্তারিত।

author-image
Chinmoy Bhattacharjee
New Update
Kidney damage detection: কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণগুলো জেনে নিন।

Kidney damage detection: কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার লক্ষণগুলো জেনে নিন।

Kidney Check: কিডনি মানবদেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ, যার প্রধান কাজ হল রক্ত থেকে বর্জ্য ও অতিরিক্ত জল ছেঁকে শরীরকে সুস্থ রাখা। প্রতিদিন নীরবে এই অঙ্গ দুটি শরীরের জন্য অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ করে। কিন্তু আধুনিক জীবনযাপনের কারণে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস, জলাভাব এবং অজান্তে ব্যথানাশক ওষুধ সেবনের ফলে বহু মানুষের কিডনি সমস্যা বেড়েই চলেছে। তাই সময়ে কিডনি ক্ষতি শনাক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। এই কারণে দীর্ঘদিন ধরে প্রশ্নটি সাধারণ মানুষের মনে ঘুরে বেড়াচ্ছে—কিডনির ক্ষতি কি রক্ত পরীক্ষায় ধরা যায়, নাকি আল্ট্রাসাউন্ড কিংবা স্ক্যানের মত ইমেজিং পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক?

Advertisment

চিকিৎসকরা কী বলছেন?

চিকিৎসকরা বলেন, কিডনির কার্যক্ষমতা ঠিক আছে কি না তা জানার সবচেয়ে সহজ উপায় হল রক্ত পরীক্ষা এবং প্রস্রাব পরীক্ষা। রক্তে বর্জ্য কতটা জমছে এবং কিডনি তা কতটা পরিষ্কার করতে পারছে—এই তথ্য সরাসরি জানা যায় রক্ত পরীক্ষায়। বিশেষ করে রক্তে ক্রিয়েটিনিনের পরিমাণ বেড়ে গেলে তা বোঝায় যে কিডনি তার স্বাভাবিক ফিল্টারিং ক্ষমতা হারাতে শুরু করেছে। আবার প্রস্রাবে প্রোটিন বা রক্ত পাওয়া গেলে তা কিডনি ক্ষতির প্রাথমিক সতর্কবার্তা হিসেবেও ধরা হয়। এই পরীক্ষাগুলো সহজ, দ্রুত। কম খরচে এবং দেহের ভেতরের অবস্থা সম্পর্কে এই পরীক্ষাগুলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। তাই প্রথম ধাপে কিডনির ক্ষতি বোঝার জন্য রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষাই সবচেয়ে ঠিকঠাক।

আরও পড়ুন- নকল জিরা খেয়ে নিজের বিপদ বাড়াচ্ছেন না তো? জেনে নিন, চিনবেন কীভাবে

Advertisment

তবে শুধুমাত্র রক্ত পরীক্ষা সব সময় কিডনি রোগের কারণ জানাতে পারে না। রক্তে অস্বাভাবিকতা দেখা গেলেও তা কেন হচ্ছে, কোথায় সমস্যা, কী ধরনের সমস্যা—সে সম্পর্কে রক্ত পরীক্ষা সরাসরি জানাতে পারে না। কিডনির ভেতরে বা চারপাশে কোনও বাধা আছে কি না, পাথর জমে আছে কি না, সিস্ট বা টিউমারের মত গঠনজনিত কোনও সমস্যা আছে কি না, অথবা দীর্ঘদিনের ক্ষতচিহ্ন রয়েছে কি না—এসব জানতে রক্ত পরীক্ষা যথেষ্ট নয়। এজন্য ইমেজিং পরীক্ষা যেমন আল্ট্রাসাউন্ড বা সিটি স্ক্যান সাহায্য করে।

আরও পড়ুন- ইঁদুর কামড়েছে? হতে পারে বিরাট ক্ষতি, রক্ষা পাবেন কী করে জানুন বিস্তারিত!

কিডনির আল্ট্রাসাউন্ড পরীক্ষা সম্পূর্ণ ব্যথা–বিহীন এবং সহজ। এতে কিডনির আকার, আকৃতি, গঠনগত অস্বাভাবিকতা, পাথর, সিস্ট, ব্লকেজ বা প্রস্রাব জমে থাকার মতো সমস্যাগুলো স্পষ্টভাবে বোঝা যায়। অনেক সময় দীর্ঘদিন ধরে কিডনির গতি কমে গেলে কিডনি ছোট হয়ে যায়, যার ইঙ্গিতও আল্ট্রাসাউন্ডে পাওয়া যায়। অন্যদিকে অবস্থা জটিল হলে যেমন সন্দেহজনক পাথর, গভীর ব্লকেজ বা অভ্যন্তরীণ প্রদাহ দেখা দিলে সিটি স্ক্যান আরও বিস্তারিত এবং নির্ভুল তথ্য দেয়। তাই রক্ত পরীক্ষায় সমস্যা ধরা পড়লে ইমেজিং পরীক্ষা বা ছবি তোলার মাধ্যমে তার প্রকৃত কারণ শনাক্ত করা যায়।

আরও পড়ুন- গায়ক-সুরকার জুবিন গর্গের জীবনের এই কাহিনিগুলো জানতেন? শুনলে অবাক হয়ে যাবেন

তবে ইমেজিং সব সময় প্রথম ধাপে করানো হয় না, কারণ অনেক সময় আল্ট্রাসাউন্ড বা স্ক্যান স্বাভাবিক দেখাতে পারে, অথচ রক্ত পরীক্ষায় কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার লক্ষণ দেখা যায়। এর কারণ হল, ইমেজিং কেবল গঠন বোঝায়, কাজ কতটা হচ্ছে তা জানায় না। আবার অযথা স্ক্যান করলে বাড়তি ব্যয়, অপ্রয়োজনীয় উদ্বেগ এবং সিটি স্ক্যানের ক্ষেত্রে রেডিয়েশনের ঝুঁকিও তৈরি হয়। তাই চিকিৎসকেরা প্রথমে রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা দিয়ে কিডনির কর্মক্ষমতা মূল্যায়ন করেন। যদি তাতে অস্বাভাবিকতা দেখা যায়, তবে গঠনগত কারণ খুঁজতে ইমেজিং করা হয়। এই কারণে বলা হয়—রক্ত পরীক্ষা বলে দেয় কিডনি কীভাবে কাজ করছে, আর আল্ট্রাসাউন্ড বা স্ক্যান বলে দেয় কেন সঠিকভাবে কাজ করতে পারছে না।

আরও পড়ুন- ব্যবহার করুন এই ৩টি জিনিস, পান লম্বা কালো ঘন চুল

ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, স্থূলতা, পারিবারিক কিডনি রোগ, অতিরিক্ত লবণ বা প্রসেসড খাবার খাওয়া, দীর্ঘদিন ব্যথানাশক খাওয়া- এসবের কারণে বয়স পঞ্চাশ পেরোলেই কিডনি ক্ষতির ঝুঁকি বেড়ে যায়। এ ক্ষেত্রে বছরে অন্তত একবার রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি বারবার প্রস্রাবে জ্বালা, প্রস্রাবে রক্ত, তীব্র কোমর ব্যথা, শরীরে জল জমা, মুখ–হাত–পা ফুলে যাওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি বা প্রস্রাব কমে যাওয়ার মত লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ইমেজিং করানো উচিত।

কিডনির ক্ষতি প্রাথমিক পর্যায়ে ধরতে পারলে তা নিয়ন্ত্রণ করা যায় এবং পরবর্তী সময়ে ডায়ালাইসিস কিংবা প্রতিস্থাপনের মত বড় ঝুঁকি এড়ানো যায়। তাই রক্ত পরীক্ষা ও ইমেজিং পরীক্ষার ভূমিকা আলাদা হলেও দুটোই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিডনি ক্ষতির সম্ভাবনা থাকা যে কেউ প্রথমে রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষা করাবেন এবং প্রয়োজনে ইমেজিং পরীক্ষা করিয়ে সঠিক কারণ নির্ণয় করবেন।

kidney Check